Uncategorized

বাংলাদেশের রসায়ন শিল্পায়ন- ইউরিয়া শিল্প

Supported by Matador Stationary

১৮২৮ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফেডারিক ভোলার কৃত্তিম উপায়ে লেড সায়ানেট এর সাথে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে ইউরিয়া উৎপাদন করেন। অজৈব দ্রব্যের সহিত বিক্রিয়া ঘটিয়ে এটাই প্রথম জৈব উপাদান যা তিনি আবিষ্কার করেছিলেন। এজন্য তাকে জৈব রসায়নের পিতা বলা হয়ে থাকে।

উরিয়ার রাসায়নিক গঠন নিচের মতোন। একে কার্বামাইড ও বলা হয় যার রাসায়নিক সংকেত (NH₂)₂CO। ইউরিয়ার অণুতে দুইটি অ্যামাইন (-NH₂) একটি কার্বনিল (-CO) মূলক দ্বারা যুক্ত আছে।

বাংলাদেশ তো কৃষি প্রধান দেশ, তা তো জানোই। মাটির পুষ্টি উপাদান বাড়াতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর মাটিতে নাইট্রোজেন ইউরিয়া সার আকারেই দেওয়া হয়।

ইউরিয়া প্রিল্ড, গ্রানুলার, পেলেট, পাউডার এবং ক্ষুদ্র স্ফটিক হিসাবে উৎপাদিত হয়। এরা সহজে পানিতে গলে যায় বা দ্রবীভূত হয়। দেখতে সাদা ধবধবে বা অনেক ক্ষেত্রেই রংবিহীন। এর কোন গন্ধ নেই। এটি অম্লীয় বা ক্ষারীয় নয়। ব্যবহারের সুবিধার্থে ইউরিয়া প্রিল্ড (ক্ষুদ্র দানা<২মিমি) এবং দানাদার (২-৫মিমি) হিসাবে বাজারজাত করা হয়

ইউরিয়ার কিছু ধর্ম ও বৈশিস্ট্য নিচে তুলে ধরা হল-  

 


ইউরিয়া তৈরির কাঁচামাল

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও কিছু বিস্তারিত

কাঁচামাল থেকে ইউরিয়া উৎপাদনকে চারটি ধাপে ভাগ করা যায়, এধাপ গুলো হলো-

i) প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে H₂ এবং CO₂ গ্যাস উৎপাদন ও আলাদাকরণ।

ii) বায়ু থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস পৃথক করে সংগ্রহ।

iii) H₂ ও N₂ থেকে  NH₃ উৎপাদন।

iv) NH₃ এবং CO₂ থেকে ইউরিয়া উৎপাদন।

নিচের স্লাইড গুলো থেকে উৎপাদনের প্রথম ধাপ অর্থাৎ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে H₂ এবং CO₂ গ্যাস উৎপাদন ও আলাদাকরণ কিভাবে করা হয় তা দেখে নিই-

মোবাইল স্ক্রিনের ডানে এবং বামে swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি। পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্যও স্লাইডের নীচে পাবে আলাদা একটি বাটন।

দ্বিতীয় ধাপে বায়ুকে -196 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরলীকরণ করে নাইট্রোজেন গ্যাস কে আলাদা করা হয়।

তৃতীয় ধাপে H₂ ও N₂ থেকে NH₃ উৎপাদন করা হয়। এধাপে-

অ্যামোনিয়া উৎপাদন একটি তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া। সুতরাং নিম্ন তাপমাত্রায় উচ্চ মাত্রার উৎপাদন হবার কথা। কিন্তু নিম্ন তাপমাত্রায় বিক্রিয়ার গতি কমে যায় দেখে বাণিজ্যিকভাবে অত্যানুকুল তাপমাত্রায় (450-550ডিগ্রী) বিক্রিয়া ঘটানো হয়।

একটু খেয়াল করি, প্রভাবক ও প্রভাবক সহায়ক আসলে কি?

ড্রপ ডাউন গুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও কিছু প্রশ্নের উওর

আসো এবার আমরা সর্বশেষ ধাপ তথা NH₃ এবং CO₂ থেকে ইউরিয়া উৎপাদন করার উপায় দেখে নিই নিচের স্লাইড গুলো থেকে-

সঠিক উওরে টিক দাও


বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে ইউরিয়া সারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে যে সকল রাসায়নিক সার ব্যবহার হয় তার শতকরা ৫৪ ভাগই ইউরিয়া সার। অথচ এই সারের কার্যকারিতা শতকরা ৪৫ ভাগের বেশী নয়। দু’ভাবে এই সারের অপচয় হয়। মাটির নিম্ন স্তরে চলে যায় এবং অ্যামোনিয়া গ্যাস হিসাবে আকাশে উড়ে যায়। নাইট্রাস অক্সাইড এবং কার্বন অক্সাইড দুটোই গ্রীনহাউস গ্যাস যা জলবায়ু পরিবর্তনে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই উপযুক্ত মাটি এবং সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যেমে ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতেই হবে!