Uncategorized

শিখন, পাভলভ, সামাজিক আচরণ -পারস্পরিক সহযোগিতা, মৌমাছির সামাজিক সংগঠন

Supported by Matador Stationary

আমরা জানি, আমাদের সকল ধরনের আচরণের সাথে উদ্দীপনার একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে এবং আচরণের মূল কারণটাই হচ্ছে উদ্দীপনা। কিন্তু সবসময় কী সব ধরনের উদ্দীপনার সাড়া হিসেবে আমরা একই আচরণ করি? উত্তরটা হচ্ছে না। কেন করি না, সেটার উত্তরটা এই স্মার্টবুকটা পড়ার পর তোমরা ঠিকই বুঝে যাবে।

আচ্ছা এবার আরেকটা প্রশ্ন করি, ঠিক আছে? ব্রিটিশরা যে একটা সময় আমাদের উপর “Colony Rule” আরোপ করেছিলো এটা তোমরা জানো নিশ্চয়, তাই না? আমরা ব্রিটিশদের শাসন থেকে নিস্তার পেয়েছি ঠিকই কিন্তু তোমরা কী জানো এখনো পর্যন্ত এক শ্রেণীর প্রাণী আছে যাদের মধ্যে এখনো “Colony Rule” বিদ্যমান? এই স্মার্টবুকের শেষ অংশে এমনই এক শ্রেণীর প্রাণীর কথা তোমরা জানবে যারা কিনা এখনো “Colony Rule” কে মেনে চলছে।

শিখন (Learning)


একই উদ্দীপনার প্রতি ক্রমাগত সাড়া দেয়ার ফলে একটা সময় প্রাণী সেই উদ্দীপনার সাথে অভিযোজন করে ফেলে যার ফলে, সেই নির্দিষ্ট উদ্দীপনার প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাণীর মধ্যে আচরণগত কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। যেই প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় “শিখন”


শিখনের প্রকারভেদ


শিখনের নানা রকমের প্রকারভেদ আছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে অভ্যাসগত এবং অনুকরণজনিত শিখন।

ড্রপ ডাউনে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

এবারে কিছু বাস্তবিক উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরো তোমাকে একদিন লাঞ্চ হিসেবে মস্ত বড় একটা ডাবল চিজ বার্গার খেতে দেওয়া হলো এবং তুমি মহা উৎসাহ এবং আনন্দ নিয়ে বার্গারটা খেলে। দ্বিতীয় দিনেও তোমাকে একই বার্গার খেতে দেওয়া হলো এবং তুমি একই পরিমাণের উৎসাহ নিয়ে বার্গারটা খেলে। এভাবে পর পর ৩ দিন তুমি লাঞ্চে একই জিনিস খেলে। কিন্তু ষষ্ঠ দিনেও যখন তোমাকে সেই একই বস্তু খেতে দেওয়া হবে, তখন কিন্তু তোমার মধ্যে প্রথম বা দ্বিতীয় দিনের মত উৎসাহ কাজ করবেনা বরং উৎসাহটা ক্রমশ কমতে থাকবে এবং একটা পর্যায় উৎসাহ একদমই কমে যাবে এবং তোমার আর চিজ বার্গার খেতে ইচ্ছা করবে না।

এখানে চিজ বার্জার হচ্ছে এক ধরনের উদ্দীপনা যার প্রতি সাড়া হিসেবে তোমার মধ্যে এক প্রকারের উৎসাহ কাজ করছিলো এবং আচরণ হিসেবে তুমি বার্গারটা খাচ্ছিলে। কিন্তু যখন বার্গারের প্রতি তোমার সাড়াদানের মাত্রাটা কমতে শুরু করলো তখন তোমার আচরণের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা গেলো [যেমন প্রথম দিন তুমি বার্গারটা ১৫ মিনিটে শেষ করে ফেললে কিন্তু ষষ্ঠ দিনে তোমার লাগলো আধা ঘন্টা] এবং পরিশেষে যখন বার্গারের প্রতি তুমি সাড়া দেওয়াই বন্ধ করে দিলে, তখন বার্গারটা খাওয়ার ইচ্ছাও তুমি ত্যাগ করলে।

প্রাণীদের ক্ষেত্রেও কোনো একটা উদ্দীপনার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার ফলে আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন শস্যক্ষেতে যাতে পাখি না আসে সেজন্য অনেকেই ক্ষেতের মাঝখানে বিশাল আকারের কাকতাড়ুয়াকে দাঁড় করিয়ে দেয়। প্রথম কয়েকদিন পাখিরা কাকতাড়ুয়ার ভয়াবহ অবয়ব দেখে ভয় পায় এবং ক্ষেত থেকে দূরে থাকে।কিন্তু ক্রমাগত ভাবে যখন তারা লক্ষ করে কাকতাড়ুয়া তাদের কোনো ক্ষতি করছেনা তখন তারা আবার ক্ষেতে আনাগোনা শুরু করে দেয়।

ড্রপ ডাউনে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

এবার, বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করলো। তারা কয়েকটি হাঁসের ডিমকে ইনকিউবেটারে রেখে ফুটালো এবং শাবকগুলোর চোখ মেলার ঠিক আগে, তাদের আসল মাকে সরিয়ে অন্য আরেকটি হাঁস কে তাদের সামনে রেখে দিলো। দেখা গেলো, শাবকগুলো তখন তাদের নকল মাকে আসল মা মনে করছে এবং তাকেই অনুকরণ করছে। দিন পনেরো পরে শাবকগুলোর আসল মাকে তাদের সামনে আনা হলো এবং দেখা গেলো তারা তাদের নকল মাকেই আসল হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে এবং আসল মাকে তারা আর চিনতে পারছে না।

একটা নবজাতক যখন ক্রমশ শিশু থেকে তরুণ হয়ে, তখন সে তার মাতা বা পিতাকে অনুকরণ করেই বাঁচার কৌশলগুলো শিখে নেয়। সুতরাং এই সময় শিখনের পদ্ধতি হিসেবে অনুকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমন অবস্থায় যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট উদ্দীপনার পরিবর্তন করা হয় তার ফলে শাবকগুলোর মধ্যে যে আচরণ সৃষ্টি হয় না স্থায়ী হয়ে যায়।


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


প্যাভলভের তত্ত্ব এবং পরীক্ষা


হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

প্যাভলভ নামের একজন রুশ বিজ্ঞানী মতামত প্রকাশ করেন যে প্রত্যেক প্রাণীর আচরণগত সাড়ার সাথে প্রতিবর্তী ক্রিয়ার একটি নিগূড় সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মতে, উদ্দীপকের প্রতি সাড়াদান এবং তার ফলাফল হিসেবে আচরণ এই সব কিছুর মূল কারণ হচ্ছে প্রতিবর্তী ক্রিয়া।

আগের স্মার্টবুকটাতে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। যেটা তখন বলা হয়নি সেটা হচ্ছে, প্যাভলভ এই প্রতিবর্তী ক্রিয়াকে ২ ভাগে ভাগ করেন। সেগুলো হলো :

১.অনপেক্ষ রিফ্লেক্স

২.সাপেক্ষ রিফ্লেক্স


প্যাভলভের পরীক্ষা


রুশ শারীরবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী প্যাভলভ কুকুরের শারীরবৃত্ত নিয়ে গবেষণা করছিলেন। যেই কুকুরের উপর পরীক্ষা করা হচ্ছিলো, তাকে খাবার দেবার দায়িত্বে ছিলেন একজন টেকনিশিয়ান। একদিন প্যাভলভ খেয়াল করলেন, কুকুর শুধু খাবার দেখলে লালাক্ষরণ করেনা বরং, ল্যাব টেকনিশিয়ানের সাদা ল্যাব-কোট দেখলেও সে লালাক্ষরণ করছে। বিজ্ঞানী প্যাভলভ এবার শারীরবৃত্তের গবেষণাকে পাশে রেখে কুকুরের উপর আরেক ধরনের পরীক্ষা করলেন।


পরীক্ষার ধাপসমূহ


১। একটা কুকুরকে মঞ্চে দাঁড় করানো হলো এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেল্ট এবং লালাগ্রন্থির সাথে কিছু নল লাগিয়ে দেওয়া হলো।

২। প্রথমে কুকুরের সামনে প্লেট ভর্তি মাংস রাখা হলো। দেখা গেলো মাংস মুখে যাওয়ার পর কুকুরের মুখ থেকে লালাক্ষরণ হচ্ছে। প্যাভলভ লালাক্ষরণের পরিমাণ রেকর্ড করে রাখলেন।

৩। এবার কুকুরের সামনে মাংস রাখার আগে প্যাভলভ একবার করে ঘন্টা বাজান। প্রথম বার ঘন্টা বাজানোর পর দেখা গেলো ঘন্টার আওয়াজ শোনার পড়ে কুকুরের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং আগের মতোই মাংস মুখে যাওয়ার পর লালাক্ষরণ হচ্ছে।

৪। প্রায়ই ১২-১৩ বার ঘন্টা বাজানোর পর দেখা গেলো কুকুরের আচরণের মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দেখা গেলো, এবার মাংস দেওয়ার আগে যখনই ঘন্টা বাজানো হচ্ছে তখনই কুকুরের মুখ থেকে লালাক্ষরণ হচ্ছে।


প্যাভলভের পরীক্ষার ফলাফল/প্যাভলোভিয়ান কন্ডিশনিং
(Pavlovian Conditioning)


প্যাভলোভের পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে ৪ ধরনের ক্রিয়া পাওয়া গেলো। সেগুলো হলো :-

১. অনপেক্ষ সাড়া

২. সাপেক্ষ সাড়া

৩. নিরপেক্ষ উদ্দীপনা

৪. সাপেক্ষ উদ্দীপনা

পরিশেষে বোঝা গেলো, আচরণের সাথে সত্যিকারেই রিফ্লেকের সম্পর্ক আছে। প্যাভলভ এই তত্ত্বের জন্য নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।


সত্য মিথ্যা যাচাই করো





সামাজিক আচরণ (Social Behaviour)


শুরুতেই বলেছিলাম প্রাণীজগতের এক বিস্ময়কর প্রজাতির গল্প তোমাদেরকে বলবো যারা কিনা এখনো সাংঘাতিক এক জাঁদরেল শাসন ব্যবস্থা মেনে চলে। অবশেষে সেই সময়টা চলে এসেছে।

মৌমাছির সাথে আমাদের সবারই একবার না একবার দেখা হয়েছে তাই না? একেবারে মুখোমুখি এনকাউন্টার না হলেও দূর থেকে সবাই আমরা একবার না একবার একটা হলেও মৌমাছি দেখেছি। মৌমাছি নামের এই পরিচিত প্রাণীরাই আসলে এখনো এক প্রকারে “Colony Rule” মেনে চলে যার ফলে যখনই প্রাণীদের সামাজিক আচরণের প্রসঙ্গ আসে সাথে সাথে এক ঝাঁক মৌমাছিও চলে আসে।

মানুষের ক্ষেত্রে সমাজের সৃষ্টি হয়েছিলো কারণ কোনো মানুষই স্বয়ংসম্পূর্ণ না। ঠিক একই মনোভাবের কারণে প্রাণিদের মধ্যেও সমাজ তৈরি হয় যাতে তারা একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে। আই ধরনের মনোভাবকে বলা হয় অ্যালট্রইজম (Altruism)।


মৌমাছির সামাজিক সংগঠন (Social Structure of Honey Bee)


মৌমাছির সমাজটা কেমন সেটা জানার আগে একটা মৌচাকে কত প্রকারের মৌমাছি থাকতে পারে সেটা একবার দেখে নেয়া যাক।


সত্য মিথ্যা যাচাই করো






মৌমাছির কলোনি গঠন


মোবাইল স্ক্রিনের ডানে ও বামে swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি। পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্য স্লাইডের উপরে পাবে আলাদা একটি বাটন।



আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা শিখন, পাভলভ, সামাজিক আচরণ -পারস্পরিক সহযোগিতা, মৌমাছির সামাজিক সংগঠন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।