এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

Supported by Matador Stationary

নেটওয়ার্কের ধারনা

আমরা প্রতিদিনই ফেসবুকে সবার সাথে কত্ত কথা বলি! কেউবা টেক্সট মেসেজ দিই, কেউবা বন্ধুদের সাথে গান কিংবা ভিডিও শেয়ার করি। আবার কেউবা ম্যাসেঞ্জারে ভিডিও কল দিয়ে কথা বলি (ক্লোজ ফ্রেন্ড দের সাথে :D)

 

এখন বলো তো, তুমি যে বন্ধুদের মেসেজ পাঠাচ্ছ অর্থাৎ তথ্যের আদান প্রদান করছো, তোমার কম্পিউটারের সাথে তোমার বন্ধুর কম্পিউটারের সংযোগ না থাকলে কি এটা সম্ভব হতো? অবশ্যই না!

 

এই যে তোমার কম্পিউটারের সাথে তোমার বন্ধুর কম্পিউটারের সংযোগ এটাই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক।

 

এখন একটা কম্পিউটারের সাথে আরেকটা কম্পিউটারের যখন সংযোগ স্থাপন করা হয় তখন কিছু সাহায্যকারী ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। যেমন তুমি হয়তো মডেম ব্যবহার করেছ কিংবা রাউটার ব্যবহার করেছ! এগুলো হচ্ছে নেটওয়ার্ক ডিভাইস।

তো চলো আমরা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সংজ্ঞাটা একটু গোছালোভাবে দেখে নিইঃ

 

“যেকোন দূরত্বে স্থাপিত একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং প্রসেসিং এর জন্য ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বিত ব্যবস্থাই হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক”

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্যঃ

আচ্ছা নেটওয়ার্কের ধারনা তো পেলাম। কিন্তু কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তো আর এমনি এমনি তৈরী করা হয় না। এর অবশ্যই কিছু উদ্দেশ্য আছে। চলো উদ্দেশ্যগুলো একটু দেখে নিইঃ

নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ

কথায় আছে ‘Sharing is caring’. আধুনিক বিশ্বে তথ্য শেয়ার করার প্রয়োজনীয়তা তোমাকে নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। আমরা প্রতিদিনই একে অপরের সাথে অনেক তথ্য শেয়ার করি। তথ্য শেয়ার করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক বিশ্বে ছোট বড় অনেক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এগুলোর কোনটার বিস্তৃতি অনেক জায়গা জুড়ে, আবার কোনটা অনেক ছোট একটা নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্কের ভৌগোলিক বিস্তৃতির উপর ভিত্তি করে অর্থাৎ নেটওয়ার্কে একটা কম্পিউটারের সাথে আরেকটা কম্পিউটারের দূরত্বের উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলোঃ

LAN,MAN এবং WAN এর পার্থক্যঃ

 

             LAN                MAN               WAN
১। অত্যন্ত সীমিত এলাকা নিয়ে গঠিত। ১। শহরের মত একটি বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। ১। বিস্তৃতি নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়।
২। বিস্তৃতি ১ কিমি এর মধ্যে। ২। বিস্তৃতি ১০০ কিমি এর মধ্যে। ২। বিস্তৃতি ১০০ কিমি এর বেশি বা সারা পৃথিবীব্যাপী হতে পারে।
৩। তারযুক্ত মাধ্যম ব্যবহৃত হয়। ৩। তারযুক্ত ও তারবিহীন উভয় মাধ্যমই ব্যবহৃত হয়। ৩। তারযুক্ত ও তারবিহীন উভয় মাধ্যমই ব্যবহৃত হয়।
৪। একক নেটওয়ার্ক। ৪। একাধিক LAN সংযুক্ত করে গঠিত একটি নেটওয়ার্ক। ৪। বিপুল সংখ্যক LAN ও

MAN এর সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্ক।

৫। ব্যয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ৫। ব্যয় LAN অপেক্ষা বেশি। ৫। ব্যয় LAN ও MAN অপেক্ষা অনেক বেশি।
৬। ডেটা প্রবাহের গতি ১০ Mbps থেকে ১০০ Mbps পর্যন্ত হতে পারে। ৬। ডেটা প্রবাহের গতি ১০

Mbps  থেকে ১০ Gbps পর্যন্ত।

৬। ডেটা প্রবাহের গতি ১০০ Mbps থেকে ১০০ Gbps পর্যন্ত হতে পারে।

 

আচ্ছা আমরা দেখলাম ভোগৌলিক বিস্তৃতির উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ। এখন নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের উপর ভিত্তি করে আবার  কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে দুইভাগে ভাগ করা যায়ঃ


পড়াশোনা অনেক হলো। এবার নিজেকে যাচাই করার পালা। নিচের প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়ে নিজেকে যাচাই করতে ভুলবে নাঃ