এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

প্রোগ্রামের ধারনা ও বিভিন্ন স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা

Supported by Matador Stationary

প্রোগ্রামের ধারণা

 

তোমরা হয়ত কম্পিউটারকে খুব বুদ্ধিমান যন্ত্র মনে করো তাই না?
কিন্ত আমি যদি বলি কম্পিউটার একেবারে মাথামোটা টাইপের বোকাসোকা একটা যন্ত্র!
কি আশ্চর্য হলে তো? না আমি কিন্তু ভুল বলিনি। কম্পিউটার কিন্তু নিজে তেমন কিছু বোঝে না।
তার মাথায় সবকিছু ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ঠিক যেভাবে ছোট একটা বাচ্চাকে সবকিছু শিখিয়ে দেয়া হয় অনেকটা সেরকম। তুমি যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভুল কিছু শেখাও তাহলে কিন্তু সে সেটাই শিখবে এবং সে অনুযায়ীই কাজ করবে। কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই রকম।
কম্পিউটারকে ভুল কিছু শেখালে সেও কিন্তু উল্টাপাল্টা কাজ করবে!

কাজেই কম্পিউটারকে শেখানোর কাজটা নির্ভুল হওয়া চাই। কম্পিউটারকে এভাবে শিখিয়ে দেয়ার কাজটাকেই বলে প্রোগ্রামিং। আর যারা কম্পিউটার এভাবে শিখিয়ে টিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করে তোলে তারাই হচ্ছে প্রোগ্রামার।

 

প্রোগ্রামের বিভিন্ন স্তরের ভাষা

 

তোমাদের আগেই বলেছি, কম্পিউটার বোকাসোকা একটি যন্ত্র। শিখিয়ে না দিলে সে নিজের থেকেই কিছুই শিখতে পারে না। একটা ছোট বাচ্চাকে যেভাবে সবকিছু শিখিয়ে দিতে হয় কম্পিউটার কেও তেমনি শিখিয়ে পড়িয়ে বড় করতে হয়।

এখন কাউকে কিছু শেখাতে গেলে তো একটা ভাষার প্রয়োজন!
আমরা সবাই ছোটবেলা থেকে বাংলা ভাষায় সবকিছু শিখে বড় হয়েছি তাই না?
কিন্তু কম্পিউটার তো আর বাংলা ইংরেজি বোঝে না। তাকে শেখাতে তাই বিশেষ কিছু ভাষার প্রয়োজন হয়। এসব ভাষাকে বলে প্রোগ্রামিং ভাষা।

এসব প্রোগ্রামিং ভাষা কিন্তু একদিনে তৈরী হয়নি। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা আর সহজবোধ্যতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। এসব ভাষাকে ছয়টি স্তরে ভাগ করা যায়ঃ

১। মেশিন ভাষা বা Machine Language
২। এসেম্বলি ভাষা বা Assembly Language
৩। মধ্যমস্তরের ভাষা বা Mid Level Language
৪। উচ্চস্তরের ভাষা বা High Level Language
৫। চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা বা Fourth Generation Language
৬। পঞ্চম প্রজন্মের ভাষা বা Fifth Generation Language

মেশিন ভাষা বা Machine Language

 

মেশিন ভাষা হচ্ছে কম্পিউটারের নিজস্ব ভাষা। কম্পিউটার বোঝে শুধু দুইটা জিনিস। ভোল্টেজ হাই আর ভোল্টেজ লো। এ দুইটা অবস্থা দিয়েই কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়। ভোল্টেজ হাই কে ‘1’ দিয়ে নির্দেশ করা হয় আর ভোল্টেজ লো কে ‘0’ দিয়ে। এভাবে ‘0’ আর 1’ এর কম্বিনেশন দিয়েই সবকিছু বোঝানো হয়। যেমন ধরো – 01100101 এই বাইনারী সংখ্যাটি দিয়ে বোঝানো হয় ADD করা বা যোগ করা। এখন কম্পিউটার যখন এ সংখ্যাটি ইনপুট হিসেবে পায় তখন সে দুটো সংখ্যা যোগ করে।

মনে রাখবে, কম্পিউটার যে ভাষাতেই প্রোগ্রামিং করা হোক না কেন, সব ভাষায় কিন্তু মেশিন ভাষাতে রূপান্তরিত হয় তারপর কাজ করতে পারে।