এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

ক্রায়োসার্জারি, বায়োমেট্রিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

Supported by Matador Stationary

ক্রায়োসার্জারি

 

ক্রায়োসার্জারি’ নামটা অনেক খটমটে শোনালেও তোমরা কিন্তু জিনিসটার সাথে পরিচিত। ক্রিকেট খেলার সময় কোন খেলোয়াড় আঘাত পেয়ে আহত হয়ে গেলে খেয়াল করে দেখবে আক্রান্ত স্থানে খুব দ্রুত ঠান্ডা এক ধরনের কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়। এতে খেলোয়াড় তাৎক্ষনিকভাবে ব্যাথামুক্ত হয় এবং আবার খেলা চালিয়ে যেতে পারে।

এই যে আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা কেমিক্যাল স্প্রে করা হচ্ছে এটাকেই বলে ক্রায়োসার্জারি(Cryosurgery)। গ্রিক শব্দ ক্রাউস(kruos) থেকে ক্রায়ো (Cryo) শব্দটি এসেছে যার মানে হলো বরফের মত ঠান্ডা। আর এর সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সার্জারি (Surgery) যোগ করে হয়েছে ক্রায়োসার্জারি।  একে ক্রায়োথেরাপি বা ক্রায়োবায়োলেশন ও বলে।

এখন তোমরা হয়ত ভাবছ, এই যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রায়োসার্জারিতে এটা বানানো হয় কিভাবে?

আসলে এটাতে বিভিন্ন গ্যাস ব্যবহার করা হয় যা আক্রান্ত স্থান জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। তাহলে চলো দেখে নিই কি কি গ্যাস ব্যবহার করা হয়ঃ

 

                     গ্যাস                 তাপমাত্রা
          তরল নাইট্রোজেন               -196 C
     ডাই মিথাইল ইথার প্রোপেন                -41 C
          নাইট্রাস অক্সাইড                  -89 C
           তরল অক্সিজেন               -182.9 C
       সলিড কার্বন ডাই অক্সাইড                -79 C

আচ্ছা ক্রায়োসার্জারি কি জিনিস সেটা তো বুঝলাম। এবার চলে ক্রায়োসার্জারির প্রয়োগ কোথায় কোথায়, এর চিকিৎসা পদ্ধতি কি, সুবিধা অসুবিধা কি এগুলো একটু জেনে নিইঃ


এতক্ষনে তোমরা নিশ্চয় বুঝে গেছ ক্রায়োসার্জারিতে জটিল সব কাজগুলো সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে করা হয়। সুতরাং ক্রায়োসার্জারিতে তথ্য ও প্রযুক্তি একটা বিশাল গুরুত্ব রয়েছে।


তো আমরা ক্রায়োসার্জারি সম্পর্কে পড়ে ফেললাম। চলো এবার তোমরা কেমন বুঝলে একটু ঝালাই করে নিইঃ


বায়োমেট্রিক্স

বায়োমেট্রিক্স(Biometrics) শব্দটার তোমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত। এইতো কিছুদিন আগেই আমরা বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশিন করেছি। কাজেই বায়োমেট্রিক্স জিনিসটা আমাদের অপরিচিত নয়।

মানুষের কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য আছে যেটা দ্বারা একজন মানুষ থেকে আরেকজনকে আলাদা করা যায়। বায়োমেট্রিক্সে ঠিক এই জিনিসটাই কাজে লাগানো হয়। যেমন ধরো তোমার আঙ্গুলের ছাপের সাথে আরেকজনের টা মিলবে না। তাই আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব। শুধু আঙ্গুলের ছাপ ই  না, অনেকভাবেই একজন মানুষ থেকে আরেকজন আলাদা করা যায়। চলো দেখে নিই কিভাবে শনাক্ত করা যায়ঃ


আচ্ছা, আশা করছি বায়োমেট্রিক্স সম্বন্ধে তোমরা মৌলিক ধারনাগুলো পেয়ে গেছ। চলো এবার একটু দেখে নিই কিভাবে বায়োমেট্রিক্স করা হয়ঃ


বায়োইনফরমেটিক্স

ধরো তুমি একজন জীববিজ্ঞানী। এখন তুমি কোন জীবানুর উপর গবেষণা করে সেটাকে ধ্বংস করার উপায় আবিস্কার করতে চাও। এখন জীবানুর উপর গবেষণা করতে গেলে তো তোমাকে অসংখ্য তথ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। এতসব সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তথ্য নিয়ে হাতেকলমে কাজ করা যেমন একটা জটিল ব্যাপার তেমনই ভুল হবার সম্ভাবনাও কিন্তু এক্ষেত্রে থেকে যায়।

অথচ কাজটা যদি তুমি কম্পিউটারের সাহায্যে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করে করো সেক্ষেত্রে তোমার সময় যেমন কম লাগবে, তেমনই ফলাফল নির্ভুল হবার সম্ভাবনাও বেশি। বায়োইনফরমেটিক্স(Bioinformatics) হচ্ছে এরকমই একটা ব্যাপার।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে জৈব তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণার কাজ সহজ এবং নির্ভুল করাটাই বায়োইনফরমেটিক্স।

বায়োইনফরমেটিক্স মূলত চারটি বিষয় নিয়ে গঠিত-
১। আণবিক জীববিদ্যা
২। ডেটাবেজ
৩। প্রোগ্রামিং
৪। পরিসংখ্যান

চলো এবার বায়োইনফরমেটিক্স এর ব্যবহার, সুবিধা আর অসুবিধাগুলো দেখে নিইঃ



জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং জিনিসটা কি সেটা বুঝতে গেলে আগে বুঝতে হবে ‘জিন’ জিনিসটা কি!

আচ্ছা তোমাদের মনে কি কখনো প্রশ্ন জাগে না, সন্তানের চেহারা যে বাবা মার মত হয় এর কারণটা কী?

এর উত্তর টাই হচ্ছে ‘জিন’। ‘জিন’ এর কারণেই সন্তানের চেহারা বাবা মার মত হয়। শুধু চেহারা না অনেক কিছুতেই মিল থাকে।

তার মানে তোমরা আবার ভেবে বসো না, কোন জ্বিন ভুত এসে জাদু টাদু করে এসব করে দিয়ে যায়!!!

এই জিন সেই জ্বিন নাহ! এই জিন থাকে মানুষের শরীরে। এখন তোমাদের প্রশ্ন জাগতে পারে, মানুষের শরীরের কোন জায়গায় থাকে এই জিন??

পদার্থ যেমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনু দিয়ে গঠিত মানুষের শরীরও তেমন কোষ দিয়ে গঠিত। আর কোষের মধ্যে ক্রোমোসোম নামে প্যাঁচানো কিছু বস্তু থাকে। এই ক্রোমোসোমেই থাকে DNA(Deoxyribonucleic Acid)। আর DNA এর একটা অংশ হচ্ছে জিন।

আচ্ছা জিন তো বুঝলাম। তাহলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং জিনিসটা কী?

মূলত DNA কে কাটাছেড়া এবং জোড়া লাগানোর বিষয়টি হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা বাংলায় বলতে গেলে জিন প্রকৌশল।

এভাবে DNA  জোড়া লাগানোর পর যে নতুন DNA পাওয়া যায় তাকে বলে Recombinent DNA.

১৯৭৩ সালে হার্ভার্ট বয়ার ও স্ট্যানলি কোহেন দুটি একই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে DNA কাটাছেড়া করে এবং প্রতিস্থাপন করে দেখান। পরবর্তীতে ব্যাঙ এবং ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে এ কাজটা চালানো হয়! মূলত তখন থেকেই আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সূচনা বলা যেতে পারে!

এখন তোমাদের মধ্যে হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে DNA কাটা আর জোড়া লাগানোর কাজটা করা হয় কিভাবে?

এটা জানতে ঝটপট নিচের ভিডিও টা দেখে নাওঃ

আচ্ছা এবার চলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার গুলো পড়ে ফেলিঃ