এইচএসসি রসায়ন ১ম পত্র

তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালী, পারমাণবিক বর্ণালী ও বর্ণালীর ব্যবহার

Supported by Matador Stationary

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চারপাশ জুড়ে একটা অদৃশ্য কিছু সবসময় থাকে। যেটা আমরা দেখতে পারি না, অনুভব করতে পারি না, স্বাদ নেয়া যায় না, কানেও শুনি না এমনকি কোন গন্ধ ও নেই। তারপর ও আমরা সবসময়ই তা দ্বারা বেষ্টিত, যেখানেই যাই না কেন।

তোমরা নিশ্চয়ই চিন্তা করছো আমি কোন হরর ছবির কাহিনী বলতে অথবা জীন, পরী, দেও দানব, ঠাকুরমার ঝুলির গল্প বলা শুরু করবো। ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই, কোন রূপকথা বলবো না। যে অদৃশ্য জিনিসের কথা আমি বলতে চাচ্ছি তা হলো অন্যান্য লেখা “তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ” বা সহজ ভাষায় বলতে গেলে “তরঙ্গ”।

এই তরঙ্গ দ্বারা আমরা শুধু বেষ্টিত নই বরং আমরা এটা সবসময় ব্যবহার করি। ব্যবহার করা বললে ও ভুল হবে, বলতে হবে যে বর্তমান সময়ে আমরা এর উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এটা না থাকলে বর্তমান সময়ে আমরা অচল হয়ে পড়তাম। এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে এটা এমন কি জিনিস যার জন্য আমরা ‘অচল’ ই হয়ে যেতাম। তাহলে খুলেই বলি, তোমরা হয়তো এ লেখাটি এখন মোবাইল অথবা ল্যাপটপে পড়ছো। মোবাইল অথবা ল্যাপটপ এর স্ক্রিন থেকে তরঙ্গ তোমার চোখে লাগছে, তাই তুমি লেখা গুলো পড়তে পারছো।

তুমি প্রশ্ন করতে পারো যে, মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে তো আলো আসে, তরঙ্গ তো আসে না। তাহলে শুনে রাখো যে, আলো হচ্ছে এক ধরনের তরঙ্গ। এটা দৃশ্যমান তরঙ্গ, যা আমরা দেখতে পাই। এটা ছাড়া আরও অনেক তরঙ্গ আছে যেগুলো আমরা দেখি না। যেমন ধরো তুমি রিমোট দিয়ে টিভির চ্যানেল পরিবর্তন করলে, এখানে কি এমন অদৃশ্য শক্তি ছিল যে রিমোটে টিপ দিতেই চ্যানেল পরিবর্তন হয়ে গেল? অথবা ধরো তোমার ফোনে কল আসলো অথবা টেক্সট ম্যাসেজ এলো বা তুমি তোমার প্রিয় এফ এম স্টেশন টিউন করলে কোন প্রিয় অনুষ্ঠান শুনার জন্য। চিন্তা করো যে, তুমি টিউন করলে আর তোমার রেডিও বেজে উঠলো, কোন শক্তিতে এমনটা হলো?


সঠিক উত্তরগুলো ক্লিক করো- 


আমাদের চারপাশে অনেকগুলো অদৃশ্য তরঙ্গ আছে যেমন: ইনফ্রারেড, এক্স-রে ইত্যাদি। নিচে এগুলোর বিবরন ও ব্যবহার দেয়া হলো।

তাহলে দেখা যাচ্ছে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ আমাদের জীবনে অনেকক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। তাতে আমাদের ভালো খারাপ দুই ই আছে।


সত্য/ মিথ্যা যাচাই করো- 







আমরা যে তরঙ্গগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো সবগুলোই হলো তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ এবং এই তরঙ্গগুলো নিয়েই বর্নালী গঠিত হয়। ভালোভাবে খেয়াল করলে তোমরা দেখতে পাবে যে তরঙ্গগুলোর মধ্যকার পার্থক্য হচ্ছে তাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং কম্পাঙ্ক। অনেক তরঙ্গ আছে যেগুলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য মিটারে হিসেব করতে হয় আবার অনেকগুলোকে তো ন্যানোমিটারে হিসেব করতে হয়।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত-


সঠিক উত্তরটি ক্লিক করো-


তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এই বড় ছোট হওয়াটাকে পদার্থবিজ্ঞানের ডপলার ক্রিয়া দ্বারা বুঝা যায়। কোন গাড়ি যখন দূর থেকে আমাদের দিকে আসে তখন শব্দ সংকোচন হয়, পিচ অনেক বেশি হয় এবং ব্রম ব্রম আওয়াজ করে। আবার যখন তা আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে যায় তখন শব্দ তরঙ্গ প্রসারন হয়, পিচ কম হয় এবং ই ই আওয়াজ করে।

আলোর ক্ষেত্রে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলেন, আলো আমাদের দিকে আসলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট হয়, তাই নীলচে দেখায়। আবার দূরে চলে গেলে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড় হয় তাই লালচে দেখায়। এটা না বুঝলে এখনি এতো সিরিয়াস হওয়া দরকার নেই। রেড শিফট নামে একটা মজার থিওরি আছে। একটু পরেই তা বলবো।

তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে আলোর রঙ পরিবর্তনের একটা ব্যাপার আছে। যে জিনিসটা গরম থাকে তাতে শক্তি অবশ্যই বেশি থাকে। তাই তার থেকে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বিকিরণ হয়। তোমরা যারা ঘরের দা-বটি ধারালো করার জন্য কামারের কাছে গিয়েছো তারা নিশ্চয়ই দেখেছো যে আমার লোহাকে উত্তপ্ত করতে থাকে আর লোহার রঙ পরিবর্তন হয়ে প্রথমে লাল পরে কমলা এভাবে পরিবর্তন হয়।

আমাদের চারপাশে অনেক কিছুই তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ শোষণ, প্রতিফলন এবং বিকিরণ করে। বর্নালী বিশ্লেষণ করে আমরা যে কোন পরমাণুর গঠন, ঘনত্ব ইত্যাদি জানতে পারি, কোন হাতের ছোঁয়া ছাড়াই। এ আবার কেমন করে হয়? পড়তে থাকো জানতে পারবে। বোরের পরমাণু মডেল থেকে আমরা জানি, ইলেকট্রন যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি পায় তাহলে তা উপরের শক্তিস্তরে লাফিয়ে চলে।


সঠিক উত্তরটি ক্লিক করো-

আবার যখন তা উপরের শক্তিস্তর থেকে নিচে নেমে আসে তখন শক্তির বিকিরণ ঘটে। আচ্ছা ইলেকট্রন যে এক শক্তিস্তর থেকে অন্যটায় গেলো এই শক্তি তাকে কে দিলো? লাফিয়ে চলার ব্যাপারটা কি বুঝতে পেরেছ? ব্যাপার না পড়তে থাকো ।

একটা সিড়ি কল্পনা করা যাক। সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গেলে শক্তি লাগবে। এখন তোমার যদি পরের সিড়িতে উঠার শক্তি না থাকে তবে তুমি যে সিড়িতে আছো সেখানেই থাকবে। ইলেকট্রনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ইলেকট্রণকে বাইরে থেকে শক্তি হিসেবে আলো দেয়া হয়। এটা সে আলো শোষণ করে। এখন যদি এই শক্তি তাকে প্রয়োজনীয় পরিমানে না দেয়া হয় তবে ইলেকট্রন যেখানে আছে সেখানেই থাকবে।

আবার ইলেকট্রন উচু সিড়ি থেকে যখন নিচে লাফ দেয় তখন তা শক্তি বিকিরণ করে। এই বিকিরিত শক্তিই হলো আলো। এত কিছু থাকতে আলোই বা কেন দেখবো?

পদার্থের বৈশিষ্ট্যই হলো যখন তাকে গরম করা হয় তখন তা শক্তি অর্জন করে কিন্তু পরে খুব তাড়াতাড়ি সে এই শক্তি ছেড়ে দিয়ে হাফ ছেড়ে বাচতে চায়। ঠিক তেমনি আলো এক ধরনের শক্তি। ইলেকট্রন যদি এই শক্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় তাহলে তাকে ঠিক ওই পরিমাণ আলোই অর্থাৎ শক্তি ছাড়তে হবে যতটুকু সে শোষণ করেছিল।


সঠিক উত্তরগুলো ক্লিক করো-


তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গগুলো আবিষ্কারের কাহিনীগুলো অনেক মজার। (মোবাইলের স্ক্রিনে Swipe করে দেখে নাও বিস্তারিত)

বিভিন্ন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ আবিষ্কারের কাহিনী


আমরা আমাদের পৃথিবীর অনেক কিছুই এখনো জানিনা। বিভিন্ন ধরনের বর্নালী দিয়ে আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান যেভাবে আশীর্বাদ হিসেবে আসে ঠিক তেমনি অভিশাপেও পরিনত হয়। তরঙ্গ ব্যবহারের শুরুর দিকে এর খারাপ দিক সম্পর্কে কেউ ভাবেনি। কিন্তু আজ বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন। আগে অটিস্টিক শিশু জন্মহার খুব কম ছিল, কিন্তু আজ এ সংখ্যাটা অনেক বেশি। গবেষনা থেকে জানা যায় যে এর মূল কারন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের শক্তি বৃদ্ধি। তাই আজকাল সবজায়গায় তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের কুফল নিয়ে আলোচনা হয়। নিচে শিশু জন্মহারের সাথে তরঙ্গের শক্তি বৃদ্ধির একটা গ্রাফ দেয়া হলো:


তরঙ্গ দ্বারা অসুস্থতা

 
  বছর তরঙ্গ ক্ষমতা / প্রতি ১০০০০ এ অটিস্টিক শিশু
 ১৯৭৫  ০.০১ / ১
 ১৯৮০  ০.০৪ / ৩
 ১৯৮৫  ০.১ / ৫
 ১৯৯০  ০.২ / ১০
 ১৯৯৫  ০.৪ / ২০
২০০০   ০.৬ / ৩০
 ২০০৫  ১ / ৫০
 ২০১০  ১.৮ / ৯০

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত-


সঠিক উত্তরটি ক্লিক করো-

আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা যে টপিক এর উপর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।