এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

মোবাইল যোগাযোগ

Supported by Matador Stationary

আচ্ছা ধরো তোমাকে বলা হলো,কয়টা দিন তোমাকে মোবাইল ফোন ছাড়া চলতে হবে। তোমার কেমন লাগবে একবার চিন্তা করে দেখ তো। ব্যাপারটা ভেবে নিশ্চয়ই তোমার গা শিউরে উঠছে। তুমি হয়ত ভাবছ মোবাইল ছাড়া কিভাবে তুমি সবার সাথে যোগাযোগ করবে,কিভাবে বন্ধুদের খোঁজখবর নিবে আর কিভাবেই বা তোমার পছন্দের ফটোগুলো ফেসবুকে আপলোড দিবে!

হুমম। মোবাইল আমাদের জীবনে এমনই এক অপরিহার্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে যে এটা ছাড়া আমরা এক মুহূর্ত কল্পনা করতে পারি না। মোবাইল ছাড়া যেন একরাশ শূন্যতা এসে আমাদের ভর করে।

কিন্তু আমরা যে মোবাইলে মুহূর্তের মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করছি এটা কিভাবে সম্ভব হচ্ছে? মোবাইল যোগাযোগের পেছনে প্রযুক্তি কিভাবে কাজ করছে? তোমাদের কি এসব জানতে ইচ্ছে করে না?

আজকে আমরা এই ইন্টারেস্টিং টপিকটা নিয়েই আলোচনা করব।

মোবাইল ফোন প্রযুক্তির ডিভাইস  দুই ধরনের হতে পারে। চলমান এবং স্থির।  যেমনঃ তুমি মোবাইল ফোন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা নিয়ে যেতে পারো তাই এটি চলমান ডিভাইস। আবার তোমার বাসার ল্যান্ডফোন এক জায়গায় স্থির থাকে তাই এটা স্থির ডিভাইস।

আচ্ছা আমরা মোবাইল ফোনকে অনেক সময় সেলফোন বলি,তাই না? এটা কেন বলি জানো?

আসলে মোবাইল ফোন সার্ভিস প্রোভাইডার তার সার্ভিস এলাকাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে। এ ছোট অংশগুলোকে বলে সেল(Cell)।

এজন্যই মোবাইল ফোনকে সেল ফোনও বলে।

ছোট ছোট অংশ বা সেলগুলোর প্রত্যেকটাতে একটি এন্টেনা এবং কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ছোট অফিস থাকে। এন্টেনাসহ ছোট অফিস টাকে বলে বেস স্টেশন (Base Station)।

মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তির বেস স্টেশন ও সেল 

মোবাইল ফোন প্রযুক্তির প্রকারভেদ

বর্তমানে প্রচলিত মোবাইল ফোন প্রযুক্তিকে দুইভাগে ভাগ করা যায়ঃ


চলো এবার জিএসএম(GSM) এবং সিডিএমএ (CDMA) পদ্ধতির পার্থক্যগুলো দেখে নিইঃ

 

                জিএসএম(GSM)                  সিডিএমএ (CDMA)
১। GSM এর পূর্নরূপ হলো Global System for Mobile Communication. ১। CDMA এর পূর্নরূপ হলো Code Division Multiple Access.
২। অধিক দক্ষ এবং কার্যকরী। ২।তুলনামূলক কম দক্ষ।
৩। বিশ্বের সব জায়গাতেই মান উন্নত। ৩। শুধু আমেরিকাতে মান উন্নত।
৪। যেকোন সিম কার্ড ব্যবহার করা যায়। ৪। যেকোন সিম কার্ড ব্যবহার করা যায় না।
৫। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা আছে। ৫। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা নেই।
৬। Time Division এবং Frequency Division পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ৬।  Code Division পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
৭। সেল কভারেজ সর্বোচ্চ ৩৫ কিমি। ৭। সেল কভারেজ সর্বোচ্চ ১১০ কিমি।

 

(***আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা থাকা মানে তোমার সিমকার্ডটি শুধু দেশে না, দেশের বাইরেও ব্যবহার করতে পারবে)


এবার চলো কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেকে ঝালাই করে নাও


বিভিন্ন প্রজন্মের মোবাইল ফোন

তোমাদের কি মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা যখন ঘরে ঘরে স্মার্টফোন ছিল না! ছোট্টখাটো ডিসপ্লের একটা মোবাইলে SNAKE XENZIA গেম খেলতে খেলতে দিন পার হয়ে যেত!

অথচ চিন্তা করে দেখ,এখন মোবাইল ফোন কত্ত উন্নত হয়ে গেছে। এখন সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। এখন তুমি স্মার্টফোনে যেসব কাজ করতে পারো তখন কি তা করতে পারতে? অবশ্যই না!

সুতরাং বুঝতেই পারছো, মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে এবং হচ্ছে। আর দশ বছর পর নতুন কোন প্রযুক্তি এসে যুক্ত হবে!  এই মোবাইল ফোন প্রযুক্তি যে উন্নত হচ্ছে তার প্রতিটি পর্যায় বা ধাপকে বলে এক একটি প্রজন্ম(Generation)।

বর্তমান পর্যন্ত মোবাইল ফোন উন্নতির সময়কালকে চারটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়েছেঃ

 

1.  প্রথম প্রজন্ম(First Generation – 1G)

2. দ্বিতীয় প্রজন্ম(Second Generation – 2G)

3. তৃতীয় প্রজন্ম(Third Generation – 3G)

4. চতুর্থ প্রজন্ম(Fourth Generation – 4G)


চলো এবার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেকে যাচাই করে নাওঃ