Uncategorized

অবাত শ্বসন ও শ্বসনের ব্যবহার

Supported by Matador Stationary

সন ৩০৩৫,

আচমকা জোরে সাইরেন বেজে উঠল। ঘোষণা আসলো যে- কিছুক্ষনের মধ্যে সরকারী অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। সবাই নিজ নিজ অক্সিজেন মাস্ক পরে নিন।

খুবই অবাক করা বিষয় না? কি হয়েছে মুক্ত ভাবে বেঁচে থাকার পৃথিবীর?

তীব্র পরিবেশ দূষণ পৃথিবীর বাতাস কে করে তুলেছে বিষাক্ত। ফলে বিদ্যুৎ এর মত অক্সিজেন তৈরি করা হচ্ছে আর সবখানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ এর মত লোডশেডিং  ও হচ্ছে। তখন মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে অক্সিজেন মাস্ক এর উপরে। কারন মানুষ আর যাই হোক, অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারবে না।

এটা একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী হলেও অদূর ভবিষ্যতে কিন্তু এমন হতেও পারে। এখন মনে করো তো, মানুষের যদি এমন ক্ষমতা থাকতো যে তারা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতেও শ্বসন কাজ চালাতে পারে;

তাহলে তো সমস্যার সমাধান ই হয়ে যেত না?

মানুষের এমন ক্ষমতা না থাকলেও কিছু কিছু জীব এর কিন্তু আছে। আর শ্বসনের এই প্রক্রিয়াকে অবাত শ্বসন বলে।

হ্যাঁ বন্ধুরা, আমাদের আজকের বিষয় অবাত শ্বসন।

সবাত শ্বসনে আমরা দেখেছিলাম সর্বশেষ ইলেকট্রনটিকে গ্রহণ করে অক্সিজেন ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্রের মাধ্যমে।

কিন্তু কিছু কিছু উদ্ভিদ, ঈস্ট, ছত্রাক, বা আর অনেক প্রাণি আছে যারা অক্সিজেন এর উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। তাদের জন্য অক্সিজেন বিষাক্ত।

তাহলে তারা কিভাবে শ্বসন কাজ সম্পন্ন করবে?

যেহেতু এক্ষেত্রে অক্সিজেন থাকে না, তাই কোনো ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র ও থাকে না। কিন্তু তার বদলে থাকে আরেকটি ধাপ যা সবাত শ্বসনে অনুপস্থিত। সেটি হল পাইরুভিক এসিড থেকে ইথানল অথবা ল্যাকটিক এসিড সৃষ্টি ।


সুতরাং, অবাত শ্বসনের ধাপ গুলো হল-


এখন, এই দ্বিতীয় প্রক্রিয়ার সম্পর্কে আর ভাল করে জানার আগে এসো কয়েকটি নতুন এনজাইম সম্পর্কে জেনে নেই। ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও –

প্রয়োজনীয় এনজাইম গুলো-


তাহলে এবার এসো আমরা আরও ভাল করে জেনে নেই অবাত শ্বসনের বিক্রিয়া গুলো-

(মোবাইলে ডানে বামে Swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি! পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্যও স্লাইডের নিচে পাবে আলাদা একটি বাটন)



সুতরাং, অবাত শ্বসনের ফলে গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারন হয়। এখানে দ্বিতীয় ধাপে কোন শক্তি উৎপাদন হয় না, তাই অবাত শ্বসনের মোট শক্তি উৎপাদন গ্লাইকোলাইসিস এর মোট শক্তি উৎপাদনের সমান। অর্থাৎ ২ ATP বা ২০ কিলোক্যালরি শক্তি।

এখন, মানুষ যদিও এখনো অবাত শ্বসন ব্যবহার করতে পারে না ব্যাকটেরিয়াদের মত, তবুও মানুষের অনেক কাজে লাগে কিন্তু এই প্রক্রিয়া। যেমন গাঁজন বা ফারমেন্টেশন। কোষের বাইরে অক্সিজেনের অনুপস্থিতির জন্য গ্লুকোজ অসম্পূর্ণ ভাবে জারন হয়ে ল্যাকটিক এসিড ও অল্প পরিমান শক্তি উৎপাদন কে ফারমেন্টেশন বলে। এভাবে অ্যালকোহল তৈরি ছাড়াও নানা কাজে অবাত শ্বসন ব্যবহার করা হয়।

চল তাহলে এমন কিছু ক্ষেত্র দেখে নেয়া যাক-


এবার এসো, আরেকটু যাচাই করে নেই নিজেদের সঠিক উত্তরটি খুঁজে বের করে।