Uncategorized

এনজাইম (শ্রেনিবিন‍্যাস, মেকানিজম)

Supported by Matador Stationary

দুইটি ঘটনা ধরা যাক;

১। আরাফ, একজন পথশিশু। সারাদিন নানা রকম কাজ করে। কিন্তু এত কঠিন জীবনযাত্রায়ও পড়াশুনা করার ইচ্ছা দমে যায়নি তার। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার অভাবে ইচ্ছা সত্ত্বেও পড়াশুনা করতে পারছে না সে। নিজের চেষ্টায় কেবল অক্ষরজ্ঞান পর্যন্ত যেতে পেরেছে অনেকদিনে।

২। ফাহাদ, সে ও আরাফের বয়সী। কিন্তু মধ্যবিত্ত ঘরের হওয়ায় পড়াশুনা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না তার। স্কুলের মাধ্যমে পড়াশুনার পূর্ণ পরিবেশ পায় সে। ফলে দ্রুত সে নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে চলেছে।

অর্থাৎ এখানে স্কুলের ভূমিকা হল শিশু এবং পড়াশুনার মধ্যে পথ করে দেয়া, পড়াশুনার জন্য পরিবেশ করে দেয়া।

রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাথে যদি আমরা তুলনা করি তাহলে এখানে শিশু এবং পড়াশুনা হল সাবস্ট্রেট  এবং স্কুল হল এনজাইম। সাবস্ট্রেট হল এনজাইম যার উপরে ক্রিয়া করে।

হ্যাঁ বন্ধুরা, এনজাইম হল এমন কিছু প্রোটিন যারা জীবদেহে খুবই অল্প পরিমানে থাকে। কিন্তু এই অল্প পরিমান এনজাইমই বিভিন্ন বিক্রিয়ার হার কে বাড়িয়ে দেয়। মজার বিষয় হল এত কিছু করেও তারা বিক্রিয়া শেষে আকার আকৃতি পরিমানে অপরিবর্তিত থাকে। এদেরকে জৈব অনুঘটকও বলে।


ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও এনজাইম সম্পর্কে কিছু তথ্য-

এনজাইম গুলোর বৈশিষ্ট্য তো জানলাম আমরা। এবার এসো এনজাইম গুলোর নাম কিভাবে রাখা হয় তা দেখে নেই।

সাধারনত তিনটি বিশিষ্টের উপর ভিত্তি করে এনজাইমের নামকরন করা হয়।



হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

আবার আমাদের শুরুর ঘটনায় ফিরে যাই;

মনে করো, স্কুল আছে কিন্তু কোন  শিক্ষক নেই, তাহলে কি স্কুলে গিয়ে শিক্ষা গ্রহন করা যাবে?

যাবে না। তাহলে দেখা যাচ্ছে শিক্ষক স্কুলের এমন একটি অংশ যাকে ছাড়া স্কুল কাজ করতে পারে না।

কিছু কিছু এনজাইমও এরকম।

এনজাইম গুলোর মধ্যে কেউ কেউ শুধু প্রোটিন দিয়েই গঠিত। এদের বলা হয় সরল এনজাইম। কিন্তু আরেক শ্রেণির প্রোটিন আছে যারা শুধু প্রোটিন নয়। এদের প্রোটিন অংশের সাথে আরেকটি অপ্রোটিন অংশ যুক্ত থাকে। এই অপ্রোটিন অংশ ছাড়া এরা কাজ করতে পারে না। এদের বলা হয় কনজুগেটেড প্রোটিন। এদের আমরা নিম্নরূপে প্রকাশ করতে পারি-

কনজুগেটেড প্রোটিন/ এনজাইম

কনজুগেটেড প্রোটিন = অ্যাপোএনজাইম + প্রসথেটিক গ্রুপ

কো- এনজাইম

জৈব রাসায়নিক প্রোসথেটিক গ্রুপকে বলা হয় কো এনজাইম। এনজাইমের কাজের সময় সাবস্ট্রেট থেকে কোন এটম বিয়োজিত হলে তার গ্রহীতা এবং সাবস্ট্রেট এ কোন এটম যোগ হলে তার দাতা হিসেবে এরা কাজ করে। এনজাইম থেকে কো এনজাইম আলাদা করে দিলে এনজাইমের কার্যক্ষমতা অনেকখানি কমে যায়।

কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কো এনজাইমের নাম এখানে বলা হল, সামনে অন্যান্য বিষয় পড়তে পড়তে আমরা এদের কার্যকারিতা সম্পর্কে আর ভাল করে জানব।

বিভিন্ন কো এনজাইম – FAD, FADH2FMN, NAD NADH+H+,   NADP,   NADPH+H+, CoA,  ATP


ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও ______!

এনজাইমের শ্রেণিবিন্যাস-

এনজাইমের গঠন প্রকৃতি অনুসারে এনজাইমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-

বিভিন্ন এনজাইম বিভিন্ন বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। কোন ধরনের বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে তার উপর ভিত্তি করে এনজাইম কে কতগুলো শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-


বিক্রিয়ার ধরন অনুযায়ী এনজাইমের শ্রেণি খুঁজে বের করো-


এনজাইম কিভাবে কাজ করে?

এনজাইম এর গায়ে এক বা একাধিক সক্রিয় স্থান বা অ্যাকটিভ সাইট থাকে। এই অ্যাকটিভ সাইটে সাবস্ট্রেট যুক্ত হয়। অ্যাকটিভ সাইট এবং সাবস্ট্রেটের সম্পর্ক অনেকটা তালা চাবির মত সুনির্দিষ্ট। এবার এসো (+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নেই এনজাইমের কার্যপদ্ধতি-

এনজাইমের কার্যপদ্ধতি



এনজাইম কিভাবে বিক্রিয়ার হার বাড়ায়?

যে কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য শক্তি দরকার। এই শক্তিকে কার্যকরী শক্তি বলে। সরাসরি এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ না তৈরি করে বিক্রিয়া হতে গেলে অনেক বেশী কার্যকরী শক্তি দরকার হয়। কিন্তু এনজাইমের উপস্থিতিতে কম কার্যকরী শক্তি সম্পন্ন এনজাইম-সাবস্ট্রেট যৌগ তৈরি হয়। ফলে বিক্রিয়ার হার বাড়ে।


এনজাইমের প্রভাবক-

এনজাইম কিভাবে কাজ করে তা তো আমরা দেখলাম। কিন্তু এনজাইমের কাজ গুলো বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিতও হয়।


প্রভাবক গুলো হল-

 
প্রভাবক কিভাবে প্রভাবিত করে
 তাপমাত্রা  ৩৫- ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এনজাইমের কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশী। এটা হল এনজাইমএর পরম তাপমাত্রা। ৪০ ডিগ্রি এর উপরে বা ০ ডিগ্রি এর নিচে এনজাইমের কার্যকারিতা অনেক কমে যায়।
 pH  

একেকটি এনজাইমের একেকটি নির্দিষ্ট অপটিমাম pH থাকে। যেমন- পেপসিন এর অপটিমাম pH ২.০, ইউরিয়েজ এর ৮.০।

অতিরিক্ত অম্ল বা অতিরিক্ত ক্ষার উভয়ই এনজাইমের কার্যকারিতা নষ্ট করে।

 

 

 পানি  কোষে পরিমিত পানি এনজাইমের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে। পানির অভাবে এনজাইমের কাজ থেমে যেতে পারে।
 ধাতু  বিভিন্ন ধাতুর উপস্থিতি এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ( Mg++, Mn++) বা কমিয়ে ( Ag, Zn, Cu) দিতে পারে।
 সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব  সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব বাড়লে এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়ে এবং সাবস্ট্রেটের ঘনত্ব কমলে এনজাইমের কার্যকারিতা কমে।
 এনজাইমের ঘনত্ব  এনজাইমের ঘনত্বের উপর  এনজাইমের কার্যকারিতা নির্ভরশীল
 প্রোডাক্ট এর ঘনত্ব  প্রোডাক্ট এর ঘনত্ব বেড়ে গেলে এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
 অ্যাকটিভেটর  অ্যাকটিভেটর এর উপস্থিতি এনজাইমের বিক্রিয়ার হার বাড়ায় অর্থাৎ এনজাইমের কার্যকারিতা বেড়ে যায়।
 প্রতিরোধক  এরা এনজাইমের কার্যকারিতায় বাধা দেয়।

এনজাইমের কাজ –

এনজাইমের প্রধান কাজ হল জীবের শরীরের বিভিন্ন বিক্রিয়া পরিচালনা করে জীব দেহকে কার্যক্ষম রাখা। জীব দেহের গঠন, বৃদ্ধি, শক্তি সঞ্চয় ও নির্গমনের পিছনে এনজাইম কাজ করে। বিক্রিয়ার গতি বাড়ান এবং বিক্রিয়া শেষে অপরিবর্তিত থেকে অতি অল্প পরিমান এনজাইম প্রচুর পরিমান সাবস্ট্রেটকে প্রোডাক্টে পরিনত করে। এছাড়া এরা বিভিন্ন জটিল যৌগকে সরল যৌগে পরিনত করে।


এসকল কাজ ছাড়াও বিভিন্ন জৈবিক কার্যক্রমে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে কাজ গুলো দেখে নাও-



এসব জৈবিক কার্যক্রম ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও আমরা নানা ভাবে এনজাইম ব্যবহার করি। তবে এসো, এক নজরে দেখে নেই ব্যবহারের ক্ষেত্র গুলো-