Uncategorized

শ্বসন ও প্রভাবক

Supported by Matador Stationary

পদার্থবিজ্ঞান পছন্দ এমন যে কারো ইঞ্জিন সম্পর্কে আগ্রহ থাকা অনেক সাধারণ একটা ব্যাপার। ঠিক তেমনই অর্পা হলো এই বিষয়ের মহা ভক্ত। জীববিজ্ঞান জিনিসটা তার মাথায় ঢুকে না। ইঞ্জিন জিনিসটা কি সুন্দর! তুমি জ্বালানি দিচ্ছ, সেটা তেল হোক বা গ্যাস, তা কি চমৎকারভাবে শক্তিতে রুপান্তরিত হচ্ছে! এমনকি তা দিয়ে বিশাল বিশাল যন্ত্র চালনা হচ্ছে! কি অসাধারণ, তাই না?

কিন্তু বন্ধুরা, আমাদের মানবদেহ বল বা কোন উদ্ভিদদেহ, তাও তো এক প্রকার ইঞ্জিন তাই না? আমরা কি অর্পাকে তাহলে জীববিজ্ঞানে এই ইঞ্জিন কী চমৎকার ভাবে কাজ করে তা বুঝাতে পারি না?

তাহলে এসো, শুরু করা যাক চমৎকার একটি বিষয়, শ্বসন।


হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

শ্বসনের সমীকরণ

যেহেতু শ্বসন হলো কতগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি, তাই শ্বসনের সম্পূর্ণ রাসায়নিক সংকেত অনেকটা এরকমঃ

C6H12O6 + 6 O2 + 6 H2O + 38 ADP + 38 Pi = 6 CO2 + 12H2O + 38 ATP 


এই বিক্রিয়া বিভিন্ন এনজাইম, কো এনজাইম, একটিভেটর ইত্যাদি দিয়ে পরিচালিত হয়।

আচ্ছা, এই এনজাইম জিনিসটা কিভাবে এরকম অসাধারণ কাজগুলো করে ফেলে তা কি আমরা জানি বন্ধুরা?

না জানলে চলো একটি চমৎকার ভিডিও দেখে ফেলি এনজাইম নিয়ে!

http://10minuteschool.com/hsc/subjects/biology-1/#0



ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও ______!

যে কোন বিক্রিয়ার জন্য দুইটি বিষয় জানা দরকার। বিক্রিয়াটি কোথায় হচ্ছে আর কার কার বিক্রিয়া হচ্ছে। শ্বসনের ক্ষেত্রেও আমরা দুইটি বিষয় লক্ষ্য করি-


অক্সিজেন লাগবে কি লাগবে না তার উপর ভিত্তি করে শ্বসনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।



প্রভাবক-

প্রভাবক বলতে আমরা তাদের বুঝি যারা কোন কাজের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যেমন মনে কর পড়াশুনা। অর্পা একদম গরম সহ্য করতে পারে না। গরম কালে ফ্যান না থাকলে তার পড়াশুনা হয়ই না। এখানে তাপমাত্রা অর্পার পরাশুনায় প্রভাব ফেলছে। তাই তাপমাত্রা একটি প্রভাবক। আর যেহেতু তাপমাত্রা পরিবেশের একটি অংশ তাই এটি একটি বাহ্যিক প্রভাবক।

আবার মনে কর অর্পার মন ভীষণ খারাপ, মন খারাপ থাকলে কি পড়াশুনা হয় বল? হয় না। তাই দেখা যায় মন খারাপ বা ভালো থাকাও পড়াশুনাতে প্রভাব ফেলছে। তাই এটিও একটি প্রভাবক। কিন্তু এটি অভ্যন্তরীণ প্রভাবক।

এরকমই শ্বসনের ও কতগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবক আছে। চলো তাহলে, দেখে নেই প্রভাবকগুলো-


বাহ্যিক প্রভাবক ছাড়াও নানা অভ্যন্তরীণ প্রভাবকও কাজ করে শ্বসনের হার নিয়ন্ত্রণে। যেমন-

 
জটিল খাদ্য জটিল খাদ্যকে সরল খাদ্যে পরিণত করে তারপর শ্বসন কাজ শুরু হয়, তাই খাদ্যের ধরনের উপর শ্বসন নির্ভর করে
 এনজাইম বা উৎসেচক  যেহেতু শ্বসন কাজ এনজাইম দ্বারা সম্পন্ন হয় তাই এনজাইম এর উপস্থিতি শ্বসনএ প্রভাব ফেলে
 কোষের বয়স  শ্বসন হয় কোষের প্রোটোপ্লাজমে, আর প্রোটোপ্লাজম অধিক থাকে অল্প বয়সের কোষে। তাই অল্প বয়সের কোষে শ্বসন বেশি হয়।
 কোষের অজৈব লবণ ও পানি  লবণ বেশি থাকলে শ্বসন হার বাড়ে, আর প্রয়োজনীয় পানির অভাবে শ্বসন হার কমে। এছাড়া মাটিতে বিভিন্ন লবণ সরবরাহ বাড়িয়ে শ্বসন হার বাড়ানো যায়।
 অন্যান্য  কোন কোষ যদি আঘাত পায়, তবে সে আঘাত নিরাময় করতে কোষ বিভাজন বেড়ে যায়/ তাই শ্বসন হার ও বেড়ে যায় প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করতে। এছাড়া হাত দিয়ে কোন পাতা মৃদু ঘষলেও শ্বসন হার বেড়ে যায়।

চলো তাহলে আরেকটি ছোট্ট যাচাই হয়ে যাকঃ

তাহলে আমরা শ্বসন ও তার প্রভাবক সম্পর্কে জানলাম, কিন্তু অর্পার মনে আবার প্রশ্ন; এই অসাধারণ প্রক্রিয়াটির কাজ কি শুধুই শক্তি সরবরাহ? না আরও কিছু?

যে কোন সজীব কোষেই শ্বসন প্রতিনিয়ত চলছে। শ্বসন বন্ধ মানে জীব বা জীব কোষের মৃত্যু। অর্থাৎ শক্তি সরবরাহ ছাড়াও শ্বসনের আছে আরও অনেক গুরুত্ব-


ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও ______!

শ্বসনের গুরুত্ব

তাহলে বন্ধুরা, মূলত এই ছিল শ্বসনের প্রাথমিক আলোচনা, সামনে আমরা আরও ভাল করে জানবো শ্বসন সম্পর্কে।