Uncategorized

পরিপাক, শোষন, স্থূলতা

Supported by Matador Stationary

আমরা সবাই প্রতিদিন একই খাবার খাচ্ছি না। হয়তো আজকে আমি মাছ দিয়ে ভাত খেলাম আর তুমি গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেলে। এখন ভাত দিয়ে মাছ খেয়েছি মানে হলো আমি শর্করার(কার্বোহাইড্রেট) সাথে আমিষ (প্রোটিন) খেয়েছি। আবার তুমি ভাত দিয়ে গরুর মাংস খেয়েছ মানে শর্করার সাথে স্নেহ (লিপিড) খেয়েছ। আমরা সারাদিনে যা খাই সব খাবারে কমবেশি এই তিন বস্তুর যেকোনটি থাকে।

পরিপাক ও শোষন


শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) পরিপাক


আমরা সাধারণত শর্করা হিসেবে স্টার্চ, সুক্রোজ, ল্যাক্টোজ ইত্যাদি খাই। চলো দেখে নেওয়া যাক শর্করা পরিপাকের ধাপ গুলো।

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

এখন পর্যন্ত তাহলে আমাদের হাতে শর্করা আছে :-
*সুক্রোজ
*ল্যাক্টোজ
*মল্টোজ
*মল্টোট্রায়োজ
*আলফা ডেক্সট্রিন।
এবার এই ক্ষুদ্র অণুগুলোর উপর আবার আন্ত্রিক রস ক্রিয়া করে। এ কাজটাও ক্ষুদ্রান্ত্রেই হয়।
আন্ত্রিক রসের মল্টেজ এনজাইম মল্টোজ এবং মল্টোট্রায়োজ কে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে।

আবার আলফা ডেক্সট্রিনেজ আলফা ডেক্সট্রিনকে ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে।

ল্যাক্টেজ ল্যাক্টোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজ এবং গ্যালাক্টোজ তৈরি করে।

সুক্রেজ সুক্রোজকে ভেঙ্গে গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ তৈরি করে।

এতটুকুতে শর্করা পরিপাক শেষ হলো।
সুতরাং, শর্করা পরিপাকের সর্বশেষ ক্ষুদ্রতম অণু হলো ৩ টি:-গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ।

আচ্ছা এখন পরিপাক তোহ হলো। এবার সেটা শরীরে প্রবেশ করাতে হবে যেটাকে শোষন বলে।
তোমরা আরেকটা শোষন পাবে রেচনতন্ত্রে মূত্র তৈরির সময়।তবে সেটা পুনঃশোষন। পরিপাকতন্ত্রে প্রথমে হয় বলে এটা শুধুই শোষন। রেচনতন্ত্রে ২য় বার অর্থাৎ পুনরায় শোষন হয় বলে সেটাকে পুনঃশোষন বলে। এই দুইটা টার্ম ভুল করা যাবেনা কোনভাবেই।
আবার ফিরে আসি চলো।

শর্করা শোষন


শর্করা আমাদের শরীরে শুধু উপরের তিনটা অণু হিসেবেই শোষিত হয়।

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

রক্ত দিয়ে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ যকৃতে চলে যাবে। যকৃত ওদেরকে কাজে লাগিয়ে শক্তি উৎপন্ন করবে আর সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি করবে যা আবার নিঃশ্বাসের সাথে বের হয়ে যায়।

সঠিক উত্তরে ক্লিক করো

আমিষ (প্রোটিন) পরিপাক


আমরা সাধারণত প্রোটিন হিসেবে সরাসরি প্রোটিনই খাই।
আমরা সাধারণত প্রোটিন হিসেবে সরাসরি প্রোটিনই খাই।
১) মুখগহ্বরে:-
মুখগহ্বরে কোন প্রোটিন পরিপাক হয়না।

২) পাকস্থলীতে পরিপাক :-
প্রোটিন পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলী থেকে। পাকস্থলীতে পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় এনজাইম নিঃসৃত হয়। যা পাকস্থলীতে থাকা HCl এসিডের প্রভাবে সক্রিয় পেপসিন এ পরিণত হয়। পেপসিন প্রোটিনকে ভেঙ্গে পেপটোন এবং প্রোটিওজ তৈরি করে।

৩) ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক :-
ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিওলাইটিক অনেক এনজাইম থাকে যাদের কাজ নিম্নরুপ:-
ট্রিপসিন
কাইমোট্রিপসিন
কার্বক্সিপেপটাইডেজ
ইলাস্টেজ

আবার ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক রসে কিছু প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে। যাদের কাজ নিম্নরুপ :-
পলিপেপটাইড অণু অ্যামিনোপেপটাইডেজ এবং ডাইপেপটাইডেজ এনজাইমের প্রভাবে ভেঙ্গে গিয়ে ডাইপেপটাইড, ট্রাইপেপটাইড এবং সামান্য পরিমাণে অ্যামিনো এসিড তৈরি করে।

শেষ।পড়া না কিন্তু।বলছি যে প্রোটিন পরিপাক শেষ মোটামুটি। মোটামুটি কেনো বলছি সেটা একটু পরই বুঝতে পারবে।
এতটুকু পর্যন্ত যা পেলাম,

  • অ্যামিনো এসিড
  • ডাইপেপটাইড
  • ট্রাইপেপটাইড

প্রোটিনের এই ক্ষুদ্র অণুগুলো শোষিত হতে পারে।
এবার শোষনের পালা।

আমিষ শোষন


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত