Uncategorized

জারণ-বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া

Supported by Matador Stationary

♦ হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো-

টুটুল প্রতিদিন তার বাসা থেকে স্কুলে যাবার সময় একটি লোহার ব্রিজ ব্যবহার করে থাকে। এক ছুটির দিন টুটুল বিকাল বেলা খেলতে বের হল। খেলার সময় টুটুল হঠাৎ করে বিকট একটি শব্দ শুনল এবং শুনার সাথে সাথেই ও দেখল ঐ লোহার ব্রিজটি দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে নিচে পরে গিয়েছে। এটা দেখে টুটুল চিন্তা করা শুরু করলো লোহার ব্রিজটিকে কেউতো কোন আঘাত করেনি, তাহলে এটা ভাঙল কিভাবে?

আচ্ছা বন্ধুরা তোমরা কি বুঝতে পেরেছ এখানে আসলে কি হয়েছে?

একটু খেয়াল করে দেখ লোহার ব্রিজটির উপর খয়েরী একটি আবরণ পড়েছে যাকে সাধারণত মরিচা বলা হয়ে থাকে। লোহার উপর মরিচা পরার প্রক্রিয়াটি আসলে একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া। আজকের স্মার্টবুকটিতে আমরা কিভাবে জারণ-বিজারণ অর্ধ বিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে কোন বিক্রিয়ার সমতাবিধান করা যায় তা জানবো। চলো বন্ধুরা পুরো ব্যপারটির সাথে পরিচিত হয়ে আসা যাক,

জারণ-বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া সম্পর্কিত কিছু সংজ্ঞা

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াটি দুইটি অংশে বিভক্ত। যেমন,

►জারণ অর্ধবিক্রিয়া
►বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া

যখন কোন পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করে তখন জারণ অর্ধবিক্রিয়া ঘটে। অপরদিকে যখন কোন পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তখন তাকে বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া বলে। এই দুইটি অর্ধবিক্রিয়া মিলিত হয়ে একটি পূর্ণ জারণ বিজারণ বিক্রিয়া দিবে।


জারণ-বিজারণ অর্ধ বিক্রিয়া বোঝার আগে চল আমরা এই সম্পর্কিত কিছু বিষয়ের সাথে পরিচিত হয়ে আসি।

♦ ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করো- 


উপরের সবগুলো জিনিস বুঝে থাকলে তোমরা খুব সহজেই জারণ-বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া বুঝে যাবে। যেমন, Zn এর সাথে CuSO4 এর বিক্রয়াটি কিভাবে হয় তা কিছু স্লাইডের মাধ্যমে দেখে আসা যাক। এখানে,

♦ মোবাইলে ডানে বামে Swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি! পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্যও স্লাইডের নিচে পাবে আলাদা একটি বাটন-


♦ সত্য/মিথ্যা যাচাই করো-




বিক্রিয়া সমতাকরণ পদ্ধতি

আশা করি তোমরা সবাই উপরের বিক্রিয়াটি বুঝে গিয়েছ। এই একই পদ্ধতিতে আমরা অন্য সব বিক্রিয়া করব। অর্থাৎ, প্রথমে জারণ অর্ধবিক্রিয়া বের করব, পরবর্তীতে বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া বের করব এবং সবার শেষে এই দুইটি অর্ধবিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে একটি পূর্ণ বিক্রিয়া তৈরি করব।

অর্ধবিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে কিভাবে একটি পূর্ণ বিক্রিয়া তৈরি করা যায় তা আজকে আমরা একটু অন্যভাবে শিখব। যেমন,

► আমরা প্রথমেই পূর্ণ বিক্রিয়াটি লিখে ফেলব।
► এই বিক্রিয়াটি দেখে আমরা জারণ-বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া বের করব।
► সবার শেষে আবার এই জারণ-বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে একটি পূর্ণ বিক্রিয়া তৈরি করব।

আসো প্রতিটি ধাপ ভালো করে বুঝে আসা যাক,

প্রথমেই আমাদের কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে-

◙ বিক্রিয়কে যদি K, Mn, Cr মৌলগুলো এবং SO₄⁻² মূলক থাকে তাহলে তারা বিক্রিয়া করার পর K₂SO₄, MnSO₄ এবং Cr₂(SO₄)₃ তৈরি করবে। যেমন, KMnO₄, K₂Cr₂O₇ এরা H2SO₄ এর সাথে বিক্রিয়া করে তৈরি করে K₂SO₄, MnSO₄ এবং Cr₂(SO₄)₃ তৈরি করবে। H₂SO₄ মূলকের যায়গায় HCl মূলক থাকলে KCl, MnCl₂, CrCl₃ তৈরি হত।

◙ একইভাবে অন্য জিনিসগুলো বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদে গেলে কিসে পরিণত হবে তা একটি ছকের মাধ্যমে দেখে নেই,

◙ বিক্রিয়ক থেকে উৎপাদ তৈরি হবার পর আমাদের সমতা বিধান করতে হবে। সমতা বিধান করার পর দেখতে হবে বিক্রিয়কের KMnO₄, K₂Cr₂O₇ এ কতটি অক্সিজেন পরমাণু রয়েছে। বিক্রিয়কে যতটি অক্সিজেন পরমাণু থাকবে উৎপাদে ঠিক ততটি পানির অণু তৈরি হবে।

◙ পানির অণু তৈরি হবার পর দেখতে হবে উৎপাদে কতটি হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে এবং সে হিসেবে বিক্রিয়কেও ততটি হাইড্রোজেন পরমাণু করতে হবে।

◙ যদি H₂SO₄ নেই তাহলে SO₄⁻² এর সমতা বিধান করব এবং যদি HCl নেই তাহলে Cl⁻ এর সমতা বিধান করব।

◙ সবার শেষে বিক্রিয়কে অবশিষ্ট যা রয়েছে তার সমতা বিধান করব।


 আসো কিছু স্লাইডের মাধ্যমে বিক্রিয়ার সমতাকরণটি বুঝে নেই-


এবার আসো এই বিক্রিয়ায় সাহায্যে রিডক্স বিক্রিয়াটি অর্ধ বিক্রিয়ার সমীকরণ বের করে ফেলি,

প্রথমেই বের করতে হবে কোনটি জারক এবং কোনটি বিজারক। বিক্রিয়াটিতে দেখা যাচ্ছে Mn এর জারণ সংখ্যা +7 থেকে +2 তে নেমে এসেছে এবং Fe এর জারণ সংখ্যা +2 থেকে +3 তে উন্নীত হয়েছে। সুতরাং এখানে KMnO₄ একটি জারক এবং হল FeSO4 একটি বিজারক। এই বিক্রিয়ায় দর্শক আয়ন গুলো হল K⁺, SO₄⁻²। দর্শক আয়নগুলো বাদ দিলে MnO₄⁻ হবে একটি জারক এবং Fe²⁺ হবে একটি বিজারক।

জারণ অর্ধবিক্রিয়া

যেহেতু একটি Fe²⁺ বিজারক সুতরাং এই বিক্রিয়ায় তার জারণ ঘটেছে। Fe²⁺ একটি ইলেকট্রন ছেড়ে Fe³⁺ এ পরিণত হয়েছে।

বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া

MnO₄⁻ একটি জারক। সুতরাং এই বিক্রিয়ায় তার বিজারণ ঘটেছে। Mn7+ আয়ন 5 টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Mn²⁺ আয়নে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এখানে 4 টি অক্সিজেন রয়েছে এরা বিক্রিয়া করার পর 8 অণু পানিতে পরিণত হবে। এর ফলে উৎপাদে 8 টি হাইড্রোজেন আয়ন তৈরি হয়েছে। সমতাবিধান করার জন্য আমরা বিক্রিয়কে ও 8 টি হাইড্রোজেন আয়ন যোগ করবো।

এখন (1) নং সমীকরণের সাথে 5 যোগ করে (1) এবং (2) নং সমীকরণ যোগ করে পাই,

দেখা যাচ্ছে যে, আমরা জারণ-বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে মোটামুটি একটি পূর্ণ বিক্রিয়া বানিয়ে ফেলেছি। এতটুকু করলেই ধরে নিবে তোমাদের কাজ শেষ। মনে আছে, তোমাদের একবারে শুরুতে বলা হয়েছিল যে আগেই তোমরা পূর্ণ বিক্রিয়াটি করে ফেলবে। ঐ পূর্ণ বিক্রিয়াটি দেখে এখন তোমরা শুধু দর্শক আয়ন K⁺, SO₄⁻² আনবে এবং এই বিক্রিয়াটি সাজিয়ে ফেলবে।

তাহলে উপরের চিত্রটিতে দর্শক আয়ন K⁺, SO₄⁻² আনার পর পূর্ণ বিক্রিয়াটি হবে নিম্নরুপ,


 

এই নিয়মে চলো আরেকটি বিক্রিয়া দেখে নেয়া যাক। বিস্তারিত জানতে (+) চিহ্নগুলো ক্লিক করো,



♦ পুরো বিক্রিয়াটি সমতাবিধান করার জন্য প্রতিটি যৌগের আগে যে যে সংখ্যা বসবে তা মিলিয়ে ফেল-



এভাবে করে একটু হিসাবের মাধ্যমে তোমরা অন্য সকল বিক্রিয়া সমতাবিধান করতে পারবে।