এইচএসসি রসায়ন ১ম পত্র

কেলাসন

Supported by Matador Stationary

সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল দুই জনই দারুন ক্রিকেট খেলে। প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে ক্রিকেট খেলে একদিন সাকিব তামিমের বাসায় গেল, তামিম তখন চুলায় পানি ফুটাচ্ছিলো। সাকিব তামিমকে বললো বেশি চিনি দিয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা পানির শরবত দিতে। তামিম ফ্রিজ খুলে দেখল তার ফ্রিজে কোন ঠান্ডা পানির বোতল নেই। ও তখন চুলার সামনে গিয়ে এক গ্লাস ফুটন্ত গরম পানি নিয়ে তাতে তিন চামচ চিনি সম্পূর্ণ ভাবে মিশিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ফ্রিজে রেখে দিল পানিটি ঠান্ডা হবার জন্য। কিছুক্ষণ পর তামিম ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানির শরবতটি বের করলো এবং লক্ষ্য করল গ্লাসের নিচে চিনির কিছু কণা পড়ে আছে। তামিম তখন চিন্তা করা শুরু করল পানিটি যখন গরম ছিল তখন সব গুলো চিনি দ্রবীভূত হয়েছিল, কিন্তু যেই পানির তাপমাত্রা কমে পানিটি ঠান্ডা হল কিছু পরিমাণ চিনি কেলাসিত হয়ে গ্লাসের নিচে জমা শুরু করল। পানিতে চিনির এই জমা হবার প্রক্রিয়াকেই আসলে কেলাসন বলে। আসো আমরা কেলাসন নিয়ে বিস্তারিত কিছু জেনে নেই।


ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত-


সম্পৃক্ত দ্রবণ

চিনির শরবত বানানোর জন্য আমাদের অবশ্যই চিনি এবং পানি লাগবে এখানে পানি হচ্ছে দ্রাবক, চিনি হচ্ছে দ্রব এবং শরবতটি হচ্ছে চিনি ও পানির দ্রবণ। ধরে নিলাম, ২০গ্রাম পানিতে ৫ গ্রাম চিনি দিলে চিনিটি পানিতে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে যাবে। তখন দ্রবণটিকে আমরা সম্পৃক্ত দ্রবণ বলবো। ৫ গ্রাম চিনির বদলে ৬ গ্রাম চিনি দিলে দ্রবণটিতে চিনির অধঃক্ষেপ পরা শুরু করবে, সুতরাং অধঃক্ষেপ পরার ঠিক আগ মুহূর্তে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরী হয়।

খাদ্য লবণের বিশুদ্ধ কেলাস প্রস্তুতির পদ্ধতি

বাজার থেকে তুমি এক প্যাকেট অবিশুদ্ধ খাবার লবণ কিনে নিয়ে সে তা বিশুদ্ধ করতে চাচ্ছ। ধরে নাও, ১০০ গ্রাম ফুটন্ত গরম পানিতে ২০ গ্রাম অবিশুদ্ধ লবণ দিলে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরী হয়।

প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ এবং রাসায়নিক দ্রব্য

(হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো)

(1) বিকার
(2) ফানেল
(3) পোরসেলিন বা চিনামাটির বেসিন
(4) কাঁচদণ্ড বা গ্লাসরড
(5) ত্রিপদী স্ট্যান্ড
(6) ফিল্টার কাগজ
(7) বার্নার
(8) ভ্যাকুয়াম ডেসিকেটর
(9) খাদ্য লবনের নমুনা (NaCl)
(10) গাঢ় HCl এসিড


উপকরণগুলো সঠিক শব্দের নিচে টেনে বসাও-


কাজগুলোকে কতগুলো ধাপে ভাগ করা যাক

 নমুনা দ্রবণ প্রস্তুতি:

প্রথমেই একটি বিকারে ১৫০mL (১৫০ গ্রাম) পানি নিয়ে তাতে ২০ গ্রাম অবিশুদ্ধ লবণ যোগ করা হল। এ বিকারটিকে একটি ত্রিপদী স্ট্যান্ডের উপর বসিয়ে স্পিরিট ল্যাম্পের সাহায্যে 60° থেকে 70°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে কাঁচদণ্ড দিয়ে নেড়ে দ্রবণ তৈরী করা হয়।

পরিস্রাবণ:

সম্পৃক্ত দ্রবণটিকে ফানেল ও ফিল্টার কাগজের সাহায্যে পরিস্রাবণ করে অদ্রবণীয় অপদ্রব্যগুলো পৃথক করা হয় এবং অপর একটি বিকারে পরিস্রুত দ্রবণ সংগ্রহ করা হয়। এক্ষেত্রে একটি কাঁচদন্ডের গা বেয়ে উত্তপ্ত দ্রবণকে ফানেলের ফিল্টার কাগজের উপর ঢালা হয়।

 পরিস্রুত দ্রবণকে গাঢ়ীকরণ:

যেহেতু ১০০ গ্রাম পানিতে ২০ গ্রাম লবণ দিলে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরী হয় (কাজের শুরুতেই ধরে নিয়েছিলাম), তাই পরিস্রুত দ্রবণটিকে বিকার থেকে পোরসেলিন বা চিনামাটির বেসিনে  নেয়া হয়। ত্রিপদী স্ট্যান্ড এর উপর তারজালি বসিয়ে বার্নারের সাহায্যে বেসিনটিকে তাপ দেয়া হয়। তাপ দিলে পানি বাষ্পীভূত হওয়া শুরু করবে এবং এক পর্যায়ে পানির পরিমাণ আস্তে আস্তে কমা শুরু করবে এবং দ্রবণটি আরো গাঢ় হবে। পানির পরিমাণ কমতে কমতে ঠিক যখন ১০০ গ্রাম বা তার একটু কম হবে তখন কিছু লবণের অধঃক্ষেপ পরা শুরু করবে এবং বুঝে নিতে হবে দ্রবণটি সম্পৃক্ত হয়েছে।

উত্তপ্ত সম্পৃক্ত দ্রবণ থেকে কেলাসন:

উত্তপ্ত সম্পৃক্ত দ্রবণটিকে একটি ট্রাফের শীতল পানিতে অর্ধ নিমজ্জিত অবস্থায় রেখে ধীরে ধীরে শীতল করা হয় এবং এর মাঝে 5-6 ফোঁটা গাঢ় HCl যোগ করা হয়। দ্রবণে HCl যোগ করায় Cl⁻ আয়নের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে দ্রবণে Na⁺  এবং Cl⁻  আয়নের আয়নিক গুণফল (Kᵢp) এর দ্রাব্যতার গুণফলকে (Ksp) অতিক্রম করে এবং সে কারণে NaCl বিশুদ্ধ কেলাস আকারে দ্রবণ থেকে পৃথক হয়। NaCl এর কেলাস দ্রবণ হতে পৃথক হবার এই প্রক্রিয়াকে সল্টিং আউট (Salting out) বলে।

কেলাস পৃথকীকরণ:

জমাকৃত NaCl এর কেলাসসহ দ্রবণটিকে ফিল্টার কাগজের সাহায্যে পরিস্রাবণ করে NaCl এর কেলাস পৃথক করা হয়। ফিল্টার পেপারের উপর কেলাস গুলো জমা থাকে।

কেলাস শুষ্কীকরণ:

কেলাসগুলোকে সামান্য পানি দিয়ে ধুয়ে নেয়া হয় যাতে কেলাস মাতৃদ্রবণ (NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ) মুক্ত হয়। এরপর কেলাসগুলোকে একটি ফিল্টার কাগজের উপর ছড়িয়ে অপর একটি শুষ্ক ফিল্টার পেপার দ্বারা আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে কেলাসের পানি শোষণ করা হয়। এরপর ফিল্টার কাগজসহ কেলাসগুলো সিলিকা জেল বা গলিত CaCl₂ পূর্ণ ভ্যাকুয়াম ডেসিকেটরে রেখে শুষ্ক করা হয়।


সঠিক উত্তরটি ক্লিক করো-


(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত-


সঠিক উত্তরগুলো ক্লিক করো-


আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা সাসপেনশন ও কোয়াগুলেশন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।