এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

বিশ্বগ্রাম ও বিশ্বগ্রাম সংশ্লিষ্ট উপাদান

Supported by Matador Stationary

মানুষ তখন সবেমাত্র একসাথে সমাজবদ্ধ ভাবে বসবাস করতে শুরু করেছে। কেননা মানুষ তখন বুঝতে শুরু করেছিল তারা যদি একসাথে বসবাস না করে তাহলে তারা এই পৃথিবীর বিরূপ পরিবেশের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে পারবে না। এজন্য তারা একসাথে মিলে একত্রে লোকালয় সৃষ্টি করে বসবাস শুরু করল এবং তখন থেকেই বিনিময় প্রথার প্রচলন শুরু হয়েছিল। বিনিময় প্রথা ছিল এমন এক প্রথা যেখানে মানুষ একজন আরেকজন এর সাথে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস অদলবদল করত। ধর কেউ একজন কাপড় বানাতে পারত কিন্তু সে শিকার এর জন্য অস্ত্র বানাতে পারত না, আরেকদিকে অন্যজন অস্ত্র বানাতে পারত কিন্তু কাপড় বানাতে পারত না। তখন তারা একে অপরের সাথে তাদের নিজেদের জিনিস আদান প্রদান করে জীবনের চাহিদা পূরণ করত। এটিই ছিল সমাজের ভিত্তি।

এতটুকু পড়ার পর তোমার হয়ত মনে হতে পারে কি ব্যাপার ভুল করে সমাজের স্মার্টবুক পড়ছি না তো?
নাহ! এটা সমাজের স্মার্টবুক নয়, এটি ICT এরই স্মার্টবুক ! কিন্তু তাহলে আমরা এগুলো পড়ছি কেন ?
সেই কেন এরই উত্তর এর জন্য এই স্মার্টবুকটি।

সমাজের সৃষ্টি যেরকম সভ্যতার জন্য একটি বৈপ্লবিক ঘটনা ছিল , ঠিক তেমনি আমাদের আজকের এই যে বিশ্ব, যে বিশ্বের ভিত্তি হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেটির পেছনে যে বৈপ্লবিক ঘটনা ছিল সেটি হল বিশ্বগ্রাম

বিশ্বগ্রাম কী?

সভ্যতার শুরুতে মানুষ যেমন বিভিন্ন দ্রবাদি আদান প্রদানের মাধ্যমে একে অপরের প্রয়োজন মিটিয়ে আসত ঠিক তেমনি বর্তমান আধুনিক বিশ্বেও মানুষ একে অপরকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে কিন্তু সেটা হল তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে।

আমরা যদি বিশ্বগ্রামের সংজ্ঞা জানতে চাই তাহলে বলা যেতে পারে

গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরকে সেবা প্রদান করে থাকে।

Oxford Dictionary এর নাম আমরা সবাই শুনেছি, তারা গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রামকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে

“The world considered as a single community linked by telecommunications.”
গ্লোবাল ভিলেজ এর চমৎকার উদাহরণের মাঝে রয়েছে অন লাইন লেকচার কিংবা ই – কমার্স।
সারা পৃথিবী হাতের মুঠোয় থাকার কারণেই হয়তা আজ বাংলাদেশের একদম শেষ প্রান্তের গ্রামের এক শিক্ষার্থী একই সাথে MIT এর কারো সাথে গণিতের ক্লাস করছে।

কিংবা ধর তুমি আছ চট্টগ্রামে, তোমার ঢাকার একটি দোকানের জিনিশ পছন্দ হল , তুমি সহজেই সেটি কিনে ফেলতে পারবে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে। আর এগুলো সবই কিন্তু সম্ভব হচ্ছে বিশ্বগ্রাম এর জন্য। কেননা এ ব্যবস্থায় এক জায়গার সাথে অন্য জায়গার কোন দূরত্ব নেই, সমগ্র পৃথিবীটাই যেন একটি গ্রাম একটি একক সমাজ।

তবে এই যে বিশ্বগ্রাম এটির ধারণা এবং এটি প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েকটি উপাদানের প্রয়োজন রয়েছে।


বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদান


সত্য বা মিথ্যা যাচাই করো! 


বিশ্বগ্রামের ধারণা সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদান

যোগাযোগ

Oxford Dictionary এর মতে যোগাযোগ হল “Imparting or exchanging of information by speaking writing or using some other medium is called Communication” তার মানে আমরা যদি কোন তথ্য একে অপরের সাথে শেয়ার করতে চাই তাহলে আমরা যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করে থাকি সেটাই হল যোগাযোগ। এখন আমরা যোগাযোগ ইশারা এর মাধ্যমে করতে পারি, লিখে করতে পারি কিংবা সামনাসামনি মৌখিক ও করতে পারি। এই তিনটি উপায়কেই তিনটি আলাদা উপায়ে ভাগ করা হয়েছে যেগুলো হচ্ছে-

(1) Verbal

(2) Non Verbal

(3) Written

 

ইলেকট্রনিক মেইল বা ই-মেইল

চিঠিপত্রের আধুনিক এবং ডিজিটাল রূপ হচ্ছে ই-মেইল।  ঠিকানার পরিবর্তে এখানে একটি থাকে একটি ই-মেইল এড্রেস । কেউ যদি ই-মেইল পাঠাতে চায় তাহলে তার নিজের একটি ই-মেইল এড্রেস থাকা লাগে এবং যার কাছে পাঠাতে চাচ্ছে তার ই-মেইল এড্রেসটি জানা লাগবে। যেমন ধর তুমি যদি আয়মান ভাইয়াকে একটি মেইল পাঠাতে চাও তাহলে তোমার ayman@10minuteschool.com  এই এড্রেস এ একটি মেইল পাঠাতে হবে। এখানে ayman হল ভাইয়ার নাম আর 10minuteschool.com হল ডোমেইন নেম।

কর্মসংস্থান

বিশ্বগ্রামের একটি অভাবনীয় সাফল্য হল কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এখন সহজেই বাংলাদেশের এক ছেলে আমেরিকান কারো কম্পানিতে পার্টটাইম কাজ করতে পারে।
Outsourcing এর মাধ্যমে এটি সহজেই করা সম্ভব। আউটসোর্স অনেকটা এভাবে কাজ করে।
ধর তুমি খুব ভাল ছবি আঁকতে পার, এখন তুমি তোমার এই গুণাবলি একটা ওয়েবসাইটে লিখলে, আমেরিকার একটা ছেলের একটা ছবি দরকার। এখন সে তোমার এই গুনাবলি দেখে তোমার কাছে বলবে কোন একটি নির্দিষ্ট ছবি তুমি আঁকতে পারবে নাকি, তার বিনিময়ে সে তোমাকে টাকা দিবে।
এভাবেই বিশ্বব্যাপী গড়ে উঠছে এক সীমাহীন চাকুরির বাজার।

শিক্ষা ও গবেষণা

শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেট এবং বিশ্বগ্রাম কিভাবে প্রভাব ফেলছে তার সব থেকে সহজ আর বোধগম্য উদাহরণ বোধহয় 10 Minute School. একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আমরা দেশের যে প্রান্তেই থাকি না কেন খুব সহজেই আমরা আমাদের দরকারি পড়া পড়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে।

গবেষণা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে এই বিশ্বগ্রামের জন্য। কোন একটি বিষয়ে গবেষণা কতদূর পর্যন্ত এগিয়েছে তা আমরা একটি ক্লিকের মাধ্যমেই জানতে পারছি। কিংবা আমরা যদি কোন গবেষক এর সাথে কাজ করতে চাই তাহলেও তার সাথে যোগাযোগ করা খুবই সহজ হয়ে গিয়েছে ইন্টারনেট এর অগ্রগতির জন্য। কিংবা আমাদের গবেষণার জন্য দরকারি কিছু ডাটাও আমরা পেতে পারি সহজেই।

অফিস এবং হোম অটোমেশন

আচ্ছা একটু ভেবে দেখ তো, তুমি ভর দুপুরে কোথাও কাজে বেরিয়েছ বাসায় ফেরার সময় তোমার মোবাইল বের করে একটা অ্যাপ এর মাধ্যমে এসি চালিয়ে দিলে যাতে তুমি এসেই শীতলতা অনুভব করতে পার, তাহলে বল তো কেমন হত ? এটা আসলেই সম্ভব বাস্তবে বিশ্বগ্রাম আর ইন্টারনেট এর কল্যাণে। এটিকেই মূলত হোম অটোমেশন বলে। শুধু এটিই নয় দরজার লক, ফ্যান লাইট সব ই কন্ট্রোল করা যায় বর্তমানে শুধু দরকার সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার। এ ছাড়াও যদি ধর গ্যাসের লাইন লিক করেছে, কিংবা বাসায় চোর ঢুকেছে তাহলেও তোমার ফোনে নোটিফিকেশন চলে যাবে। অফিসের ক্ষেত্রেও কর্মচারীদের উপস্থিতি থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করা যায় দূর থেকেই।

ব্যবসা বাণিজ্য

এক সময় ব্যবসা বাণিজ্য বলতে শুধুমাত্র কোন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে কেনা বেচাকেই বুঝানো হত। কিন্তু এখন আর ব্যবসার কোন গন্ডি নেই। রাঙ্গামাটির কেউ চাইলেই রাজশাহী সিল্ক এর শাড়ি কিনতে পারছে। কিংবা ঢাকায় বসেই বগুড়ার দই এর অর্ডার করে দেওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এগুলো সবই সম্ভব হয়েছে বিশ্বগ্রামের জন্য, ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য।