এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইস

Supported by Matador Stationary

নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইস আসলে কী?

সহজ করে বলতে গেলে একটা নেটওয়ার্কে কম্পিউটার ছাড়া আরও যে ডিভাইসগুলো থাকে সেগুলোই হচ্ছে নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইস। যেমনঃ তুমি যখন ইন্টারনেট সংযোগ দাও তখন কম্পিউটার ছাড়া আর কী কী লাগছে চিন্তা করে দেখ! তোমাদের মধ্যে কেউ হয়ত মডেম ব্যবহার করো, কারও হয়ত বাসায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ আছে এবং রাউটার ব্যবহার করো ইত্যাদি। এই যে কম্পিউটার ছাড়াও নেটওয়ার্ক তৈরীতে আরও কিছু জিনিস লাগছে, এগুলোই হচ্ছে নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইস।

আজকে আমরা নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলো নিয়েই পড়ব। নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে মডেম, হাব, রাউটার, গেটওয়ে, সুইচ, নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড, ব্রিজ, রিপিটার ইত্যাদি।  নাম শুনে আগেই ঘাবড়ে যেও না। আমরা এগুলোর প্রত্যেকটা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব। তো, চলো শুরু করা যাকঃ

মডেম

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে খুবই কমন একটি শব্দ হচ্ছে মডেম। তোমাদের সবার কাছেই এই নামটি খুব পরিচিত তাই না?
টেলিফোন লাইন কিংবা ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সংযোগের জন্য এটি একটি অপরিহার্য ডিভাইস। MODEM শব্দ MOdulator এবং DEModulator এই দুইটা শব্দ নিয়ে গঠিত। কম্পিউটার ধরো কোন সংকেত আরেকটা কম্পিউটারে পাঠাতে চায়। তখন সে যেটা করবে সেটা হচ্ছে প্রথমে ডিজিটাল সংকেত কে এনালগ সংকেতে রূপান্তরিত করবে। এটাকে বলে মডুলেশন। এই কাজের জন্য যে সার্কিট ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় DAC (Digital to Analog Converter)। আবার যে কম্পিউটার এই সংকেত গ্রহণ করবে সে ঠিক উল্টো কাজ করবে। সে ডিমডুলেশন করে সংকেত কে এনালগ থেকে পুনরায় ডিজিটালে রূপান্তরিত করবে। এই কাজে যে সার্কিট ব্যবহৃত হয় সেটা হচ্ছে ADC (Analog to Digital Converter)
মডেমকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বা USB পোর্টে সরাসরি যুক্ত করা হয়। টেলিফোন লাইনের জন্য ইন্টারনাল ও এক্সটার্নাল দুই ধরনের মডেম ব্যবহৃত হয়। যদিও ইন্টারনেট সংযোগের জন্য এখন টেলিফোন লাইন ব্যবহার করা হয় না বললেই চলে।


বিভিন্ন প্রকারের মডেম


সঠিক উত্তরটিতে ক্লিক করো!


হাব (Hub)

ধরো তুমি কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা বাসায় থাকো। এখন তোমরা সবাই মিলে একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN তৈরী করতে চাও। এক্ষেত্রে তোমাদের কম্পিউটারগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য যেটি প্রয়োজন হবে সেটি হচ্ছে হাব নামক একটি ডিভাইস।

হাবের কাজ হচ্ছে কতকগুলো ডিভাইসকে একসাথে সংযুক্ত করা। যেমন এক্ষেত্রে তুমি এবং তোমার বন্ধুরা হাবের মাধ্যমে কতকগুলো কম্পিউটার একসাথে সংযুক্ত করছো। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু হাব ততটা বুদ্ধিমান না। একটু হাবাগোবা টাইপের। তাই সে কোন নির্দিষ্ট ডিভাইসে সংকেত পাঠাতে পারে না। সে সব ডিভাইসেই সংকেত পাঠিয়ে দেয় ,তারপর যে ডিভাইসে পাঠানো হয়েছে সেই ডিভাইসটিই শুধু হাবের পাঠানো সংকেত গ্রহণ করে। কি হাবাগোবা তাই না?

কার্যকারিতার ভিত্তিতে হাবকে দুইভাগে ভাগ করা হয়ঃ


তোমরা তো দেখলেই হাব কিছুটা হাবাগোবা টাইপের। তাই এর সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও আছে। চলো আমরা হাবের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো দেখে নিইঃ



সুইচ (Switch)

সুইচ জিনিসটা অনেকটা হাবের মতই। তবে পার্থক্য হচ্ছে হাব কিছুটা হাবাগোবা টাইপের, আর সুইচ কিছুটা ‘সেয়ানা’ টাইপের। মানে সুইচ হাবের চেয়ে বুদ্ধিমান ডিভাইস। হাবের মতই সুইচেও বিভিন্ন ডিভাইস এসে যুক্ত হয় কিন্তু পার্থক্যটা হচ্ছে সুইচ হাবের মত সবার কাছে সংকেত পাঠায় না, শুধুমাত্র যার কাছে পাঠানো দরকার তাকেই পাঠায়। এছাড়া সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য সুইচ সংকেত আদান প্রদানের এলাকাকে পৃথক পৃথক সেগমেন্টে ভাগ করে।

কম্পিউটারে MAC(Media Access Control) নামে একটা এড্রেস থাকে। সুইচ  টার্গেট  MAC এড্রেস পরীক্ষা করে শুধুমাত্র টার্গেট কম্পিউটারেই সংকেত পাঠায়। ফলে নেটওয়ার্কে ট্রাফিক জ্যাম কম হয়। সুইচ ৮,১৬,২৪ ও ৪৮ পোর্ট পর্যন্ত হয়ে থাকে।



রাউটার (Router)

হাব এবং সুইচ একাধিক ডিভাইসকে সংযুক্ত করতে পারে। ভালো কথা!

কিন্তু শর্ত হচ্ছে ডিভাইসগুলোকে একই নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকতে হবে। এখন নেটওয়ার্ক যদি ভিন্ন হয় তাহলে?

সে সমস্যা মোকাবিলা করতে আছে রাউটার। রাউটার দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে ব্যবহৃত হয়। একই ধরনের একাধিক  ভিন্ন ভিন্ন LAN সংযুক্ত করে বড় একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে রাউটার ব্যবহৃত হয়।

রাউটার কিন্তু খুব বুদ্ধিমান ডিভাইস। একটা ডাটা কোন পথে পাঠালে সবচেয়ে সুবিধাজনক সেটা রাউটার নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। রাউটার নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে এক ধরনের এড্রেস ব্যবহার করে যেটাকে Network Address Translation (NAT) বলে।





গেটওয়ে (Gateway)

যদি ভিন্ন ভিন্ন প্রটোকলবিশিষ্ট নেটওয়ার্ক হয়, তাহলে রাউটার দিয়ে তাদেরকে সংযুক্ত করা যায় না। তখন ‘গেটওয়ে’ নামক একটি ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। গেটওয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রটোকলবিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান প্রদানের সুযোগ করে দিয়ে থাকে। গেটওয়ে PAT(Protocol Address Translation) ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে থাকে।


নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (Network Interface Card)

নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো কেবল দিয়ে যুক্ত হলেও এই কেবলগুলো কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করতে হলে একটি বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক সার্কিট ব্যবহার করতে হয়। এই ইলেকট্রনিক সার্কিটকে বলা হয় নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)। এটি ল্যান কার্ড(LAN Card) বা নেটওয়ার্ক এডাপ্টার (Network Adapter) নামেও পরিচিত।


 ব্রিজ (Bridge)

একটি ব্রিজ একাধিক নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করে। ব্রিজ হাব বা সুইচের মতোই। তবে পার্থক্য হচ্ছে হাব বা সুইচ একাধিক ডিভাইসকে সংযুক্ত করে আর ব্রিজ একাধিক নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে।


রিপিটার (Repeater)

নেটওয়ার্কে কেবলের মধ্যে দিয়ে যখন সংকেত পাঠানো হয় তখন সংকেতটি একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পার করার পর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংকেত থেকে তথ্য উদ্ধার অসম্ভব হয়ে পড়ে। রিপিটারের কাজ হচ্ছে এ দুর্বল সংকেতকে চাঙ্গা করে তোলা অর্থাৎ সংকেতকে ইলেকট্রিক্যালি এমপ্লিফাই করে পুনরায় তা নেটওয়ার্কে প্রেরণ করে।