Ulothrix শৈবাল (গঠন, জনন ও জীবন চক্র)

Ulothrix শৈবাল (গঠন, জনন ও জীবন চক্র)


সূত্রাকার শৈবালের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ulothix. এটি অশাখ, বহুকোষী এবং কোষগুলো একটি সারিতে অবস্থিত। ulothrix সবুজ শৈবাল এবং এর এক প্রান্ত কোনো একটা অবলম্বন ধরে রাখে।

Ulothrix এর বৈশিষ্ট্য

(1) সূত্রাকার
(2) অশাখ
(3) ক্লোরোপ্লাস্ট আছে
(4) সালোকসংশ্লেষণকারী এবং স্বভোজী
(5) পাইরিনয়েড আছে
(6) সুকেন্দ্রিক
(7) হোল্ডফাস্ট বিভাজিত হয় না


জনন প্রক্রিয়া


 

অযৌন জনন প্রক্রিয়া

Ulothrix এর অযৌন জননে হ্যাপ্লয়েড স্পোর তৈরি হয়। হ্যাপ্লয়েড স্পোরের কারণ হল যে ulothrix এর দেহ হ্যাপ্লয়েড। স্পোর তৈরির সময় মাইটোসিস কোষ বিভাজন হয় । ফলে স্পোর গুলোও হ্যাপ্লয়েড হয়ে থাকে।

অযৌন জননের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই স্পোরাঞ্জিয়াম,ভেসিকল,স্পোর Ulothrix এর স্পোর গুলো হ্যাপ্লয়েড এবং চারটি ফ্ল্যাজেলা যুক্ত।  স্পোরাঞ্জিয়াম থেকে মুক্ত হয়ে স্পোর গুলো সাঁতার কাটতে থাকে। যেহেতু এদের ফ্ল্যাজেলা আছে, তাই তারা সহজেই চলাচল করতে পারে। চলাচল করতে পারে তাই এদেরকে জুস্পোর বলা হয়। জুস্পোর তৈরি হওয়ার কারণে স্পোরাঞ্জিয়ামকে বলা হয় জুস্পোরাঞ্জিয়াম। এই স্পোরগুলো কোনো একটা অবলম্বন আঁকড়ে ধরে। কোষের যে দিকে ফ্ল্যাজেলা থাকে সেদিক দিয়ে অবলম্বন আঁকড়ে ধরে। এরপর ধীরে ধীরে কোষ বিভাজন ঘটায় এবং পূর্ণাঙ্গ শৈবালে পরিণত হয়। সাধারণত পরিণত হওয়ার পর তারা অবলম্বন ছেড়ে দেয়।

 

 


 

যৌন জনন প্রক্রিয়া

একটি শৈবাল দেহ থেকে পুং গ্যামেট নির্গত হয়। অপর শৈবাল থেকে স্ত্রী গ্যামেট নির্গত হয়। এরা আইসোগ্যামাস  এবং  হেটারোথ্যালিক । গ্যামেটেঞ্জিয়াম  থেকে গ্যামেট নির্গত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। জাইগোট প্রচুর পরিমাণে খাদ্য সঞ্চয় করে এবং রেস্টিং স্টেজে চলে যায়। অর্থাৎ কিছু সময় বিশ্রাম নেয়।

জাইগোটে কোষ বিভাজন ঘটে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ফলে স্পোর তৈরি হয়। কোষটাকে তখন বলা হয় জুস্পোরাঞ্জিয়াম এবং স্পোর গুলো হচ্ছে জুস্পোর । এই জুস্পোর গুলোর চারটি ফ্ল্যাজেলা থাকে। এই স্পোর থেকে নতুন শৈবাল তৈরি হয়।

 

 
 


পামেলা দশা
এটি অস্বাভাবিক অযৌন জনন প্রক্রিয়া। যখন পানির অভাব দেখা দেয় তখন শৈবালে স্পোরগুলো ফ্ল্যাজেলা তৈরি করে না। চারপাশে একটা জেলাটিনের আবরণ তৈরি করে এবং অ্যাপ্লানোস্পোরে পরিণত হয়। আবৃত থাকা অবস্থাতেই কোষ বিভাজিত হতে থাকে। পানির সরবরাহ সাধারণ অবস্থায় ফিরে গেলে জেলাটিনের আবরণ গলে যায়। তখন প্রতিটা কোষ আলাদা হয়ে যায়। ফ্ল্যাজেলা তোরি করে নতুন জুস্পোরে পরিণত হয়। একেই বলা হয় পামেলা দশা। পামেলা নামটা দেওয়ার কারণ হচ্ছে যে, Palmella নামের একটি শৈবাল এরকম ফ্ল্যাজেলা বিহীন কোষের চারপাশে জেলাটিনের আবরণ তৈরি করে। এ বৈশিষ্ট্য অন্য কোনো শৈবালে দেখা গেলেই সেটাকে পামেলা দশা বলা হয়।