এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র

বাংলা ১ম পত্র: গদ্য

Supported by Matador Stationary

বিড়াল

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কমলাকান্ত আফিং এর নেশায় বিভোর থাকলেও তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাজে গভীর থেকে গভীরতর রোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিড়ালের সাথে কথোপকথনে কমলাকন্তের পরাজয় সূচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে লেখক তার সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চেয়েছেন। বিড়ালের আত্নোপলব্ধিকে কমলাকান্তের চিন্তাধারার মধ্য দিয়ে বিকশিত করে তোলার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে এখানে লেখক নিজ আদর্শ প্রতিষ্ঠার আনন্দ অভিব্যক্ত করেছেন।
• ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ এ জুন (১৩ই আষাঢ় ১২৪৫ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহন করেন।
• পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট।
• বঙ্গদর্শন (১৮৭২) পত্রিকা সম্পদনা ও প্রকাশে অন্যতম কীর্তি।
• তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৩৪।
• ‘Rajmohons Wife’ নামে একটি ইংরেজী উপন্যাস রচনা করেছেন।
• ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ই এপ্রিল মৃত্যু বরণ করেন।
• কমলাকান্ত ও বিড়ালটির মধ্যে কাল্পনিক কথোপকথন শুরু হয়।
• পৃথিবীর সকল অবহেলিত প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের আচরণ।
• একে অপরকে উপকার করার মাধ্যমে প্রকৃত ধর্মের উপলব্ধি করতে পারা।
• সমাজের সকল বঞ্চিত মানুষের প্রতি অবহেলা স্বরুপ আচরণ।
• ক্ষুধার্ত ও অবহেলিতের প্রতি সমবেদনার প্রকাশ ঘটেছে।
• সমাজের মানুষের প্রতি বিড়ালের অভিযোগ সমূহ।
• ক্ষুধার অনুভূতির সে সার্বজনীন রূপ ও নৈতিকতার ধারণার প্রকাশ।
• সমাজে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অপরাধ বিষয়ক স্বরূপ।
• রচনায় রসাত্নক ও ব্যাঙ্গাত্নক অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটেছে।


অপরিচিতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

‘অপরিচিতা’ গল্পটি মূলত মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া ব্যক্তিত্বহীন যুবকের প্রেমানুভূতির গল্প। এ গল্পে অপরিচিতা মানসীর প্রতি প্রেমময় হৃদয়ের ব্যাকুলতার প্রকাশ ঘটেছে। গল্পের কল্যানী পুরো গল্প জুড়ে নায়ক অনুপম এর কাছে অপরিচিতাই রয়ে যায়। অনুপম মানসিকভাবে অনেক উপলব্ধি করার পরও শেষ পর্যন্ত কল্যাণীকে জয় করতে পারলো না। পরবর্তীতে কল্যাণীর বিয়ে না করার প্রতিজ্ঞার ফলে কল্যাণী অনুপমের কাছে অধরা থেকে যায়। গল্পটিতে পুরুষ তন্ত্রের অমানবিকতার স্ফুরন যেমন ঘটেছে, তেমনি পুরুষের ভাষ্যে নারীর প্রশস্তিও কীতির্ত হয়েছে।
• ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫এ বৈশাখ) জন্মগ্রহণ করেন।
• ১২৮৪ বঙ্গাব্দে মাত্র ষোল বছর বয়সে “ভিখারিনী” গল্প রচনা করেন।
• তার রচিত সর্বশেষ গল্প “মুসলমানীর গল্প”।
• ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই আগষ্ট (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শে শ্রাবণ) জীবনাবসান ঘটে।
• রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প রচনার স্বর্ণযুগ: কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসবাসকালে।
• যৌতুকের প্রতি মানবিক বোধের পরাজয়ের দৃষ্টান্ত।
• অনুপমের পরিবারের সবক্ষেত্রে মামার প্রভাব, অধিকার স্বরুপ।
• কল্যানীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে না হওয়ার মাধ্যমে অনুপমের মামার নিচু চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।
• কল্যানীর চারিত্রিক সৌন্দর্য।
• ভারতীয় সমাজ বাস্তবতা ও তৎকালীন হিন্দুসমাজের বিবাহ প্রথা এবং তৎকালীন সমাজ বাস্তবা স্বরুপ।
• গরীব ও নিচু শ্রেণীর মানুষের প্রতি অনুপমের মামার চরিত্রের প্রকাশ ঘটেছে।
• যৌতুকের নিকট মানবিক বোধের পরাজয়ের দৃষ্টান্ত।
• পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও নারীর আত্নশক্তিতে বলীয়ান হওয়া স্বরুপ।
• সুশিক্ষার মর্যাদা ও ব্যক্তি বোধের দৃঢ়তার স্বরুপ।


চাষার দুক্ষু

রোকেয়া সাখাওয়াত হেসেন

চাষার দুক্ষু প্রবন্ধটি মূলত তৎকালীন দারিদ্র পীড়িত কৃষকদের দুর্দশার চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন। ভারতবর্ষের কৃষকদের শোচনীয় অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু ভারত বর্ষের সেই কৃষকদের এই চরম দারিদ্রের জন্য তথা কথিত সভ্যতার নামে এক শ্রেণীর মানুষের বিলাসিতাকেই দায়ী করেন। আধুনিক শিল্প হিসেবে গ্রামীন অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি তথা কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
• ১৮৮০ সালের ৯ই ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন।
• প্রকৃত নাম রোকেয়া খাতুন।
• ষোল বছর বয়সে উর্দুভাষী ও বিপত্নীক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে ১৮৯৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
• ‘মতিচূর’ ও ‘অবরোধ বাসিনী’ তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ গদ্য গ্রন্থ।
• ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘পদ্মরাগ’ নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেন।
• ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ডিসেম্বর তার জীবনাবসান ঘটে।
• বাংলাদেশে কৃষি ভিত্তিক সমাজে কৃষি কাজ ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব।
• ব্রিটিশ ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও যারা পেশায় কৃষক তাদের জীবনে উন্নতি কর হয় নি।
• কৃষকদের এই করুন অবস্থার পিছনে দায়ী হল কুটির শিল্পের হ্রাস এবং কিছু কৃষকের বিলাসী জীবন-যাপনের স্বপ্ন।
• অধিকাংশ কৃষকের অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটানোর কারণ।
• উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারাটাই হলো আধুনিকতা, অনেকের মতে।
• চাষাদের খাবার কে নিম্ন মানের খাবার বলে গণ্য করা হয়েছে ।
• কৃষককে সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণী হিসেবে বলা হয়েছে।
• লেখক বাংলার কৃষকদের দুরবস্থা থেকে উত্তরনের পথ দেখিয়েছেন এবং গ্রামীন সমাজের দুঃখ-দুদর্শা লাঘবের উপায় তুলে ধরেন। 


আহবান

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

মানুষের মধ্যে যে স্নেহ-মমতা-প্রীতির বাধন রয়েছে তা ধনসম্পদে নয়, হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার মাধ্যমে গড়ে উঠে। পিতা মাতার স্নেহবঞ্চিত গোপাল গ্রামে এসে বুড়ির মাতৃ স্নেহে অন্য এক মানুষে পরিণত হয়। পুত্র স্নেহের বদৌলতে সামান্য গ্রামে বুড়ি থেকে এক অসামান্য মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ন হয় গল্পটিতে। গোপালের জন্য বুড়ির নিঃস্বার্থ স্নেহ-বাৎসল্য দেশকাল জাতি –ধর্ম -বর্ণ ও বিভেদের উর্ধ্বে। দারিদ্র-পীড়িত গ্রামের মানুষের সহজ সরল জীবনধারার প্রতিফলন ও এই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু।
• ১৮৯৪ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর মাসে জন্ম গ্রহণ করেন।
• তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন।
• ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিক, ১৯১৬ সালে আইএ এবং ১৯১৮ সালে ডিস্টিং সহ বিএ পাস করেন।
• তিনি দীর্ঘদিন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
• তার গদ্য কাব্যময় ও চিত্রাত্নক বর্ণনায় সমৃদ্ধ।
• ১৯৫০ সালের পহেলা সেপ্টেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন।
• একটি উদার মানবিক সম্পর্কের পরিচয়।
• বাৎসল্য ও মমতার নিবিড় সম্পর্কের ব্যাখ্যা।
• গোপাল এবং বৃদ্ধার মধ্যে সম্পর্ককারী হিসেবে বৃদ্ধার মাতৃত্বের আবেদন সবচেয়ে বেশি প্রকাশ ঘটেছে।
• অসম্প্রদায়িক জীবন চেতনার দৃষ্টান্ত স্বরূপ।
• গোপালের সাথে বুড়ির আত্নিক হৃদ্যতার গভীরতার প্রকাশ।
• বিভেদহীন, সংকীণর্তা হীনসমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা।
• অর্থ-বৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্য রোধ করার প্রেরণা স্বরুপ।
• সহজ-সরল ও সাবলীল জীবন ধারা সম্পর্কে ধারনা ।
• মানুষের প্রতি মানুষকে ভালোবাসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।


বাংলা ১ম পত্রের পদ্য স্মার্টবুকগুলোও দেখে নিতে পারো!
বাংলা ১ম পত্র: পদ্য


আমার পথ

কাজী নজরুল ইসলাম


লেখক ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে ‘আমি’ সত্তাকে উপলব্দি করার মাধ্যমে সত্যকে জয় করতে বলেছেন। নিজেকে চেনার মাধ্যমে নিজের সত্যকে জয় করতে আহবান করেছেন। মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক ভালো। নিজের সত্যে বলীয়ান ব্যক্তি স্পষ্টবাদী ও স্পষ্টভাষী হয়। ভুলের মাধ্যমে সত্যের সন্ধান করতে হয়। মানুষ ধর্মই বড় ধর্ম। মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করতে পারলেই ধর্মের সত্য উন্মোচিত হবে।
• ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ শে মে (১১ জৈষ্ঠ ১৩০৬) জন্মগ্রহন করেন।
• বাংলা সাহিত্যের ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
• ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগদান করেন।
• মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হন।
• ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ এ আগষ্ট (১২ ই ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
• ‘আমি’ সত্তাকে জাগ্রত করা; আত্নবিশ্বাসী হওয়া এবং নিজেকে সত্যের পথে জাগ্রত করা ।
• আত্নসম্মান ও অহংকার এর মধ্যে তুলনা।
• আত্নাকে চেনার মাধ্যমে আত্ননির্ভরশীল হওয়ার প্রেরণা।
• পুরনো ভিত্তিকে বিসর্জন দিয়ে নতুন ভিত্তি স্থাপনা।
• সত্যকে জীবনের মূলচাবিকাঠি হিসেবে গ্রহন করা ।
• ভুলকে পরিহার করে ভুলের মধ্য দিয়ে সত্যকে জানা।
• সব দুঃখ কষ্টকে পেছনে ফেলে নতুন পথে জাগ্রত হওয়া
• মানব মুক্তির লক্ষ্যে মানব ধর্মকে সবচেয়ে বড় ধর্ম হিসেবে লালন করে নেওয়া।


জীবন ও বৃক্ষ

মোতাহের হোসেন চৌধুরী

লেখক ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধকে মানব জীবনের কাঠামোকে বৃক্ষের সাথে তুলনা করেছেন। লেখক প্রবন্ধে বলেছেন একদিকে বৃক্ষ ফুলে, ফলে নিজেকে পরিপূর্ণ করে তোলে এবং তা মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয় নি:স্বার্থ ভাবে, অন্যদিকে অধিকাংশ মানুষ সৌন্দর্য ও ভালোবাসার স্পর্শ পায়নি বলে তারা নিষ্ঠুর ও বিকৃতি বুদ্ধিও, তাই মানুষকে বৃক্ষের মতো নীরব সাধনা করতে হবে। তাহলেই মানব সমাজ কল্যানের মাধ্যমে স্বার্থকর্তা লাভ করবে।
১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে নোয়াখালী জেলার কাঞ্চন পুরে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর গ্রন্থ ‘সংস্কৃতি কথা’ বাংলাদেশের প্রবন্ধ-সাহিত্যে এক বিশিষ্ট সংযোজন। তাঁর প্রকাশিত অন্য দুটি গ্রন্থ হচ্ছে:
১. ক্লাইভ বেল এর Civilization গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত ‘সভ্যতা’।
২. বারট্রান্ড রাসেলের ‘Conquest of Happiness’ গ্রন্থের অনুবাদ ‘সুখ’।
১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ১৮ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপনাকালে মৃত্যুবরণ করেন।
• বৃক্ষের জীবন ও মানুষের জীবন বৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা।
• বৃক্ষের অবদান হিসেবে পরোপকারী চিত্র ফুটে উঠেছে।
• বৃক্ষের মাধ্যমে আমাদের জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করা।
• বৃক্ষের সাধনার মধ্য দিয়েই জীবনের সার্থকতা নিহীত।
• বৃক্ষ কর্তৃক জীবনের শিক্ষণীয় দিকগুলোর প্রকাশ।
• মানুষের জ্ঞানের অপূর্ণতার কুফল প্রকাশ পেয়েছে।
• জীবনের প্রতীক হিসেবে নদী ও বৃক্ষের তুলনামূলক আলোচনা।
• মানুষকে বড় করে তুলতে বিকশিত জীবনের জন্য মানুষের জীবনে আগ্রহ জাগিয়ে তোলার প্রত্যাশা। 


এবার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলো তো!