এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র

ভেক্টর: লব্ধি, বিভাজন ও উপাংশ

Supported by Matador Stationary

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞাগুলো
কল্পনায় ফুটবলের অবস্থান
ধরো, একদিন তুমি ফুটবল খেলছ তোমার বন্ধুদের সাথে। একটা সময় বল এমন জায়গায় আসল যে তুমি শট নিলেই গোল হয়ে যাবে! তো তুমি দৌড় দিলে শট নেওয়ার জন্য। কিন্তু তোমার প্রতিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড় গোলটা যাতে না হয় সেজন্য বলের দিকে দৌড় দিল!!!
এখন পরিস্থিতি এমন হল যে তুমি আর তোমার প্রতিপক্ষ বন্ধু দুজনেই একসাথে বলের কাছে পৌঁছালে এবং একই সাথে বলের উপর শট করলে!
বল বেচারার হল বিপদ! সে এখন কোন দিকে যাবে! তুমি যেদিকে শট নিয়েছ সেদিকে নাকি তোমার প্রতিপক্ষ যেদিকে শট নিয়েছে সেদিকে!
এখন চলো আমরা চিন্তা করে দেখি বলটি আসলে কোন দিকে যাবে! কল্পনা করা শুরু করে দাও!!
কল্পনা করতে পেরেছ কি! দৃশ্যটা কী রকম হবে তা কি দেখতে পারলে মনের চোখ দিয়ে! দেখো তো ঘটনাটা এরকম কী না!

 


ফুটবল থেকে ভেক্টরে

 

তাহলে আমরা দেখতে পারলাম যে, ফুটবলটি আসলে কারো শটের দিকেই যায় না বরং দুই শটের মাঝখান দিয়ে যায়!
তাহলে ভেবে দেখ, শট গুলো ছিল আমাদের প্রয়োগকৃত “বল”। আর আমরা জানি বল এক প্রকার ভেক্টর রাশি
অর্থাৎ, দুইটি বল একই সাথে একই ফুটবলের উপর প্রয়োগ করায় একটি লব্ধি বলের সৃষ্টি হয় এবং সেই বলের দিক বরাবর ফুটবলটি চলে যায়!

এখন চলো, ফুটবলটিকে একটি বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করি এবং শটগুলোকে দুইটি ভেক্টর হিসেবে কল্পনা করি। কল্পনা শেষ করে,আমাদের দেওয়া ছবির সাথে একটু মিলিয়ে নাও!

 

চিত্রের সাথে আশা করি তোমাদের কল্পনা মিলে গেছে! দেখ, দুইটি ভেক্টরের সাহায্যে একটি সামান্তরিক আঁকা হয়েছে। অদ্ভুত একটা ব্যাপার লক্ষ করেছ কি? লব্ধি বলটি আসলে আমাদের আঁকা সামান্তরিকের কর্ণ হিসেবে কাজ করে!
তাহলে পুরো ব্যাপারটাকে আমরা এভাবে বলতে পারি- “দুইটি একই রকম ভেক্টর একই সময়ে একই বিন্দুতে কাজ করলে যে লব্ধি ভেক্টর পাওয়া যায় সেটি ভেক্টর দুইটি দিয়ে আঁকা সামান্তরিকের কর্ণ বরাবর কাজ করে!”
এই পুরো বিষয়টিকে আমরা পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় বলি “সামান্তরিক সূত্র”।