সপ্তম শ্রেণি: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সহযােগিতা

Supported by Matador Stationary

বিশ্বের সকল স্বাধীন রাষ্ট্রই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রতিটি দেশের সরকারের দায়িত্ব হলাে দেশকে। সুন্দর ও সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধন করা। এজন্য বিভিন্ন দেশের সরকার বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে। কিন্তু এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা কোনাে সরকারের পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব হয় না। প্রয়ােজন হয় অন্য কোনাে দেশ বা সংস্থার সহযােগিতা। এ প্রয়ােজনীয়তা থেকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযােগিতার ধারণার উদ্ভব হয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সহযােগিতা সংস্থা। এদের মধ্যে অন্যতম হলাে জাতিসংঘ। এ অধ্যায়ে আন্তর্জাতিক সহযােগিতার প্রয়ােজনীয়তাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে।

উপরের আলােচনায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের দেশগুলাে স্বাধীন হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সহযােগিতার প্রয়ােজনীয়তা ও বন্ধুত্বের মনােভাব। কেবল একই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলাের মধ্যেই নয়, বিশ্বের দূর দূরান্তে অবস্থিত দেশগুলাের মধ্যেও এ ধরনের সহযােগিতা ও বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে। সহযােগিতার এ গুরুত্ব থেকে তাই পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযােগিতা সংস্থা, যেমন জাতিসংঘ, ওআইসি, কমনওয়েলথ ইত্যাদি। এসব আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশকে সহযােগিতা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

 

জাতিসংঘ ও এর গঠন

জাতিসংঘ গঠনের পটভূমি

আমরা জানি বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুইটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রথমটি হয় ১৯১৪ সালে এবং দ্বিতীয়টি শুরু হয় ১৯৩৯ সালে। বিশ্বের বিন্নি দেশ এসব যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এ যুদ্ধ ছিল মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বিরাট বাধা। সেজন্য যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী চলেছে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২০ সালে গঠিত হয়েছিল সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা লীগ অব নেশনস। কিন্তু বিভিন্ন দেশের স্বার্থপতার কারণে এ সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করেনি। ফলে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবীকে গ্রাস করে। এ যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জাপান আনবিক বােমার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়। মারা যায় লাখ লাখ মানুষ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখে বিশ্ববাসী শংকিত ও হতবাক হয়ে যায়। তাদের মনে দানা বাধে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। এছাড়া তারা অনুভব করে মানব কল্যাণের জন্য যুদ্ধকে পরিহার করতে হবে। দেশগুলােকে পারস্পরিক সহযােগিতার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে হবে। ফলে ১৯৪১ সাল থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হাতে নেয়। তঙ্কালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট-এর উদ্যোগে এবং বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘদিন আলাপ আলােচনার মাধ্যমে ১৯৪৫ সালের ২৪-এ অক্টোবর তারিখে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ন্যায় অন্য কোনাে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে মুক্তির জন্য জাতিসংঘের জন্ম হয়।

জাতিসংঘ গঠন জাতিসংঘ মােট ছয়টি সংস্থা বা শাখা নিয়ে গঠিত। শাখাগুলো নিম্নরূপ:

ক) সাধারণ পরিষদ ঘ) আন্তর্জাতিক আদালত খ) সচিবালয় ঙ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ গ) অছি পরিষদ চ) নিরাপত্তা পরিষদ

শুরুতে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫১। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৫। জাতিসংঘের মহাসচিব হচ্ছে এর প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। নরওয়ের অধিবাসী ট্রিগভেলি ছিলেন জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব। বর্তমান (জানু-২০১৭ হতে) মহাসচিবের নাম অন্তনিও গুটরেস (Antonio Guterres)। তিনি পর্তুগালের অধিবাসী। জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। জাতিসংঘের নিজস্ব পতাকা আছে। পতাকাটি হালকা নীল রঙের। মাঝখানে সাদার ভিতরে বিশ্বের বৃত্তাকার মানচিত্র রয়েছে। এর দুইপাশ দুইটি জলপাই পাতার ঝাড় দিয়ে বেষ্টিত।

জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা কয়টি। এগুলো হলে : আরবি, চাইনিজ, ইংরেজি, ফরাসি, রাশিয়ান ও স্প্যানিশ। জাতিসংঘের যেকোনো সভায় এই ছয়টি ভাষার যেকোনো একটি ব্যবহার করা হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাকি ভাষাগুলােতে অনুবাদ হয়ে যায়। তবে ইংরেজি ভাষার উপর বেশি গুরুত্বারােপ করা হয়ে থাকে।

জাতিসংঘ গঠনের উদ্দেশ্য ও মৌলিক নীতি

জাতিসংঘ গঠনের উদ্দেশ্য বিশ্বশান্তি ও সহযােগিতার মহান লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলাে নিম্নরূপ

  • শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরােধ করে বিশ্ব শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ;
  • জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবােধ গড়ে তােলা ;
  • অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানব সেবামূলক সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযােগিতা গড়ে তােলা ; এবং
  • সকল উপনিবেশিক রাষ্ট্র ও জনগণকে স্বাধীনতা প্রদান করা

জাতিসংঘের মৌলিক নীতি

জাতিসংঘের সাতটি মৌলিক নীতি আছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলাে এগুলাে মেনে চলার শর্তে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে থাকে। এ মূলনীতিগুলাে •

  • জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের অধিকারী হবে;
  • সকল সদস্য রাষ্ট্রকে পরিপূর্ণ বিশ্বাসের সাথে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে;
  • সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরােধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
  • কোনাে সদস্য রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বল প্রয়ােগ করতে বা বল প্রয়ােগের হুমকি দিতে পারবে না;
  • সকল সদস্য রাষ্ট্র জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা মেনে নেবে এবং কোনাে রাষ্ট্র এর বিরােধিতা করতে পারবে না;
  • সদস্য নয় এমন কোনাে রাষ্ট্র জাতিসংঘের মূলনীতির বিরােধিতা করলে সে বিষয়ে জাতিসংঘ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;
  • কোনাে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করবে না। তবে কোনাে রাষ্ট্র যদি আগ্রাসী তৎপরতা চালায় তাহলে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

জাতিসংঘের কাজ

জাতিসংঘ মানবতার কল্যাণ ও সদস্য রাষ্ট্রসমূহের উন্নয়নের লক্ষ্যে বহুমুখী কাজ করে থাকে। নিজ জাতিসংঘের কয়েকটি কাজ উল্লেখ করা হলাে :

• আন্তর্জাতিক সহযােগিতা, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

• আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরােধ আরােপ করা।

• শান্তিপ্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য শান্তিরক্ষা বাহিনী মােতায়েন করা।

• আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের সহযােগিতা গ্রহণ করা।

• সদস্যরাষ্ট্রসমূহের জীবনযাত্রার মাননান্নয়নের লক্ষ্যে বেকার সমস্যার সমাধান, কৃষি, শিক্ষা ও চিকিত্সা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুনর্বাসন, সেবা ইত্যাদি কল্যাণমূলক কাজ করা।

• আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরােধ নিষ্পত্তি করা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের উপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি থেকেই জন্ম নিয়েছিল জাতিসংঘ। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার একটি প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জাতিসংঘ সফলতা অর্জন করেছে। আবার কোথাও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তা সত্ত্বেও এর অবদান উল্লেখযোগ্য। জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অবদান হলাে এটি প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বে আজ পর্যন্ত কোনো বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই। এটি প্রতিষ্ঠার পূর্বে মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে দুইটি বিশ্ব যুদ্ধ পৃথিবীকে গ্রাস করেছিল। জাতিসংঘের একটি অন্যতম সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ। বিশ্ব শান্তি রক্ষার প্রধান দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে নিরাপত্তা পরিষদে যে কোনাে সম্মিলিত ব্যবস্থা গ্রহণে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

ফলে বিশ্বের কোথাও কোথাও আন্তর্জাতিক শান্তি বিরােধী কোনাে কাজ সংঘটিত হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালায়। এভাবে জাতিসংৰ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশ্বের অনেক দেশেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিনের গৃহ যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা অর্জন, এর একটি অন্যতম উদাহরণ। এছাড়া বিভিন্ন দেশে এবং অঞ্চলে বিরাজমান আর্থ-সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার লংঘন ইত্যাদিও বিশ্ব শান্তি নষ্ট করে। তাই জাতিসংঘ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ, সংঘাত নিরসনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

  • বিভিন্ন দেশের মধ্যে কোনাে কারণে যুদ্ধ সংঘাত দেখা দিলে অথবা একই দেশের অভ্যন্তরে কোনাে সংঘাত সৃষ্টি হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে সে দ্বন্দ্ব সংঘাত দূর করার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিরােধপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ করে। কখনও সরাসরি আক্রমণ চালায়।
  • বর্তমান বিশ্বের একটি অন্যতম সমস্যা পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন। বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তন মােকাবিলায় জাতিসংঘ কাজ করে যাচ্ছে।
  • বিশ্ব শান্তির একটি অন্যতম দিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘােষণার মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। •
  • নিরক্ষরতা মানবজাতির জন্য অভিশাপ। বিশ্বকে নিরক্ষরতা থেকে মুক্ত করার জন্য জাতিসংঘ ইউনেস্কো, ইউনিসেফ এর মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
  • বিশ্বের অনেক দেশ দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বেড়াজালে আবদ্ধ। এটি শান্তির পথে বিরাট বাধা। তাই পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিরসনে জাতিসংঘ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
  • এছাড়াও জাতিসংঘ বিশ্ব জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন, উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরােধ ও প্রতিকার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। এসকল কর্মকাণ্ড বিশ্বশান্তি রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের ভূমিকা।

বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর একটি অন্যতম সদস্য দেশ। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভ করার পর থেকেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য প্রেরণ করে। ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান। বাহিনী (সশস্ত্রবাহিনী) এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্য মিলে ৪০টি দেশে ৫০টি মিশনে কাজ করছে। এ পর্যন্ত যে সমস্ত দেশে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে সেগুলাের মধ্যে কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলাে : কংগাে, হাইতি, আইভরি কোস্ট, পূর্বতিমুর, ইরাক, কুয়েত, নামিবিয়া, সুদান, সিয়েরালিয়ন, পশ্চিম সাহারা, মুজাম্বিক, রুয়ান্ডা, কম্বােডিয়া, সােমালিয়া, উগান্ডা, জর্জিয়া, সিরিয়া, লাইবেরিয়া আফগানিস্তান প্রভৃতি।

২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে মােট ১,৫৭,০৫০ জন সদস্য পাঠিয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম স্থান দখল করে আছে। বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা বিশ্ব শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। এ সুনাম অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে নতুনভাবে পরিচিত করছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশগ্রহণ ও সুনাম অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে অবশ্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশ গ্রহণ করে ১২৪ জন সদস্য বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও শান্তি রক্ষার যুদ্ধে নিহত হয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশিরা সর্বোচ্চ কৃতিত্ব প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কেবল পুরুষ সদস্যই নয়, মহিলা সদস্যও দক্ষতা এবং সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করছে ও বিদেশের মাটিতে যথেষ্ট সুনাম কুঁড়িয়েছে।

আসলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর অবস্থান উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতাে। এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কমান্ডার হিসেবে ও উর্ধ্বতন পদে নিয়ােগ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ভূমিকার আরেকটি স্বীকৃতি, যা বিশ্বে দেশের মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ দেশকে অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ করছে।

চলো এবার ঝটপট এই কুইজটি দিয়ে আসা যাক!