অষ্টম শ্রেণি: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

Supported by Matador Stationary

রাফাত তাঁর বাবার সাথে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বেড়াতে গেলো। সেখানে গিয়ে সে দেখলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি, তাঁদের বীরত্বগাঁথা ইত্যাদি। সে তাঁর বাবাকে জিজ্ঞাসা করলো, “বাবা, আমরা আসলে কীভাবে স্বাধীনতা লাভ করেছি?” তাঁর বাবা তাকে বললেন, “নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শাসন থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি। তুমি যদি এই ইতিহাস জানতে চাও তাহলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই ১৯৭১ সালের দিনগুলোতে।” রাফাত আবার জিজ্ঞেস করলো, “বাবা, তুমি কি সেই ইতিহাস জানো?” তাঁর বাবা বললেন, “জানবো না কেন খোকা? আমিও তো সেই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম!” রাফাত অবাক বিস্ময়ে তাঁর বাবাকে দেখলো এবং সে তাঁর বাবার কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে বসলো। বন্ধুরা চলো তাহলে আমরা রাফাতের মতো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জেনে আসি।

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি

১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা শুরু করে ষড়যন্ত্র। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বার বার স্থগিত ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

একদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয় আর অন্যদিকে জুলফিকার আলী ভুট্টো তা বানচালের জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তিনি ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘােষণা দিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেন। ভুট্টোর ষড়যন্ত্রে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘােষণা করায় আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়। ফলে ওই দিন আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘােষণা করা হয়।

(>) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে দেখে নাও ৭ই মার্চ পর্যন্ত আন্দোলনের পটভূমি


৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ও বাঙালির স্বাধীনতার প্রস্তুতি

বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে ইয়াহিয়া ও তার সহযোগী ভুট্টোর কর্মকাণ্ড দেখে বুঝেছিলেন এরা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তাই তিনি একদিকে আলোচনা ও অন্যদিকে চূড়ান্ত সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য জাতিকে প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান। বক্তৃতায় শেষ অংশে “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” ঘােষণা দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবেই স্বাধীনতার ডাক দেন।


২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যার অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। ছিল। ঢাকার বাইরে এ অপারেশনের প্রধান দায়িত্ব পান মেজর জেনারেল খাদিম হােসেন রাজা। সার্বিকভাবে এ পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন গভর্নর জেনারেল টিক্কা খান

২৫শে মার্চের ভয়াল সেই রাতের কাহিনী জানতে দেখে নাও নিচের ভিডিওটি


অপারেশন সার্চলাইট অনুযায়ী, ২৫শে মার্চ রাত দেড়টায় (২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধুকে তার ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসা থেকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেফতার করে। তবে গ্রেফতারের আগেই তিনি স্বাধীনতা ঘােষণার মাধ্যমে দেশবাসীকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।

এবার নিচের সত্য মিথ্যাগুলো যাচাই করে নাও


২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘােষণা

Bangabandhu

বঙ্গবন্ধু তাঁর সেই স্বাধীনতার ঘােষণায় বলেছিলেন, “ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরােধ কর। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও” (বাংলাদেশ গেজেট, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশােধনী, ৩রা জুলাই, ২০১১)।

করেন। ২৬শে মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান এই বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘােষণাপত্রটি প্রচার করেন। ২৭শে মার্চ সন্ধ্যায় একই বেতার কেন্দ্র। হতে বাঙালি সামরিক অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘােষণা পাঠ করেন। বেতারে প্রচারিত স্বাধীনতার এই ঘােষণা সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড আশা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।


মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরো জানতে চলে যাও পরবর্তী পৃষ্ঠায়