অষ্টম শ্রেণি: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী

Supported by Matador Stationary

বাংলাদেশে বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী বাঙালিদের পাশপাশি আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ সুদীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। নিতুর আজকে পড়া শুরু করবে বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীদের নিয়ে। তো চলো দেখে আসি আমাদের দেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীদের সম্পর্কে।



চাকমা

বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।

নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক। তাদের মুখমন্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, চুল সোজা, গায়ের রং ঈষৎ হলদেটে। বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।


নিচের মানচিত্র টিতে চাকমাদের অবস্থানে ক্লিক করে চিহ্নিত করো!


গারো

বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গারোরা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ। গারোরা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলের মধুপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরে বাস করে। বৃহত্তর সিলেট জেলায় কিছু সংখ্যক গারো রয়েছে। বাংলাদেশের বাইরে ভারতের মেঘালয় ও অন্যান্য রাজ্যেও গারোরা বাস করে। বাংলাদেশের গারোরা সাধারণত সমতলের বাসিন্দা।

এই নৃগোষ্ঠীর আদি বাসস্থান ছিল তিব্বত। গারোরা সাধারণত ‘মান্দি’ নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে। গারোরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।


নিচের মানচিত্র টিতে গারোদের অবস্থানে ক্লিক করে চিহ্নিত করো!


সাঁওতাল

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো মধ্যে একটি প্রধান নৃগোষ্ঠী হলো সাঁওতাল। তাঁরা রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় বাস করে। ধারণা করা হয়, সাঁওতালদের পূর্বপুরুষরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের এসব অঞ্চলে আসে। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও বেশ কিছু সাঁওতাল বসবাস করে।

সাঁওতালরা অস্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীভুক্ত লোক। তাঁদের দেহের রং কালো, উচ্চতা মাঝারি ধরনের এবং চুল কালো ও ঈষৎ ঢেউ খেলানো।


নিচের মানচিত্র টিতে সাঁওতালদের অবস্থানে ক্লিক করে চিহ্নিত করো!


মারমা

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্য জনসংখ্যার দিক তেকে মারমাদের অবস্থান দ্বিতীয়। মারমা নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। ‘মারমা’ শব্দটি ‘স্রাইমা’ শব্দ থেকে উদ্ভত।


নিচের মানচিত্র টিতে মারমাদের অবস্থানে ক্লিক করে চিহ্নিত করো!


রাখাইন

বাংলাদেশের পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার জেলায় রাখাইনরা বাস করে। রাখাইনরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক। তাদের মুখমন্ডল গোলাকার, দেহের রং ফরসা ও চুলগুলো সোজা।

‘রাখাইন’ শব্দটির উৎপত্তি পালি ভাষার ‘রাক্ষাইন’ থেকে। এর অর্থ হচ্চে রক্ষণশীল জাতি যারা নিজেদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় কৃষ্টিসমূহকে রক্ষা করতে সচেষ্ট।

বর্তমান মায়ানমারের আরাকান অঞ্চল রাখাইনদের আদিবাস। রাখাইনরা এক সময় আরাকান থেকে এদেশে এসেছিল। তারা নিজেদের রাক্ষাইন নামে পরিচয় দিতে ভালোবাসে।


নিচের মানচিত্র টিতে রাখাইনদের অবস্থানে ক্লিক করে চিহ্নিত করো!




অবশেষে নিতু বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীদের সম্পর্কে জানতে পারলো। নৃগোষ্ঠীদের বাসস্থান গুলো দেখার তার খুব ইচ্ছে জাগছে। হয়তোবা পরের বার যেকোনো নৃগোষ্ঠীদের এলাকায় বেড়াতে যেতে পারে।