অষ্টম শ্রেণি: সাধারণ বিজ্ঞান

রাসায়নিক বিক্রিয়া

Supported by Matador Stationary

আমাদের জীবনের প্রতিটা সময়ই রসায়নের ব্যবহার রয়েছে। রসায়নের মৌল বা যৌগ গুলো কিন্তু নিজে নিজে এসকল কাজে ব্যবহৃত হয় না। এগুলো হয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে। তাহলে চলো বন্ধুরা, এই স্মার্টবুকে দেখে আসি, রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত।

সংযোজন

রাসায়নিক পরিবর্তন যেখানে একের অধিক পদার্থ একত্রিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন একটি রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করলে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।

সংযোজন বিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হলে আমরা একটি ছোট্ট পরীক্ষার সহায়তা নিবো। চলো তাহলে নিচের ভিডিওটির মাধ্যমে সেটি একবার দেখে আসি –

উপরের ভিডিওতে দেখানো প্রক্রিয়ার মতই জিংক (Zn) ও (S) সালফারের বিক্রিয়ায় জিংক সালফাইড (ZnS) তৈরি করা যায়। এছাড়াও দুটি যৌগ যুক্ত হয়েও কিন্তু সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন আরেকটি যৌগ তৈরি হতে পারে। যেমন- ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মধ্যে সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট তৈরি হয়।

Cao + CO2 → CaCO3

দহন বিক্রিয়া


প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া

একটি মৌল কোনো যৌগ থেকে অপর একটি মৌলকে সরিয়ে নিজে ঐ স্থান দখল করে নতুন যৌগ তৈরি করে তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে।


বিযোজন বিক্রিয়া

তাপ প্রয়োগে কোন যৌগ ভেঙ্গে যদি এক বা একাধিক যৌগ বা মৌলে পরিণত হয় তাকে বিযোজন বিক্রিয়া বলে।

পাশে swipe করে দেখে নাও কয়েকটি বিযোজন প্রক্রিয়ার উদাহরণ


প্রতিস্থাপন ও বিযোজন বিক্রিয়া আরও ভালো ভাবে বুঝতে এই ভিডিওটি দেখে নাও!


রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপশক্তির রূপান্তর

Candle

জ্বলন্ত মোমের কাছাকাছি হাত নিলে হাতে গরম লাগে। আবার, অন্ধকারে মোম জ্বালালে আমরা এর আশেপাশে দেখতে পাই। তাহলে একথা বলা যায় যে, মোম জ্বালানোর ফলে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় বলেই হাতে গরম লাগে আর আলোক শক্তি উৎপন্ন হয় বলেই অন্ধকারে মোম জ্বালালে আমরা এর আশেপাশের জিনিস দেখতে পাই। মোম একটি রাসায়নিক বস্তু। একে পোড়ালে এতে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি পরিবর্তিত হয়ে তাপশক্তি ও আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। একইভাবে গ্যাসের চুলায় গ্যাস জ্বালালেও গ্যাসে সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তি পরিবর্তিত হয়ে প্রচুর তাপশক্তি ও আলোক শক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন তাপশক্তি দিয়েই আমরা রান্নার কাজ করি। অতএব বলা যায় যে, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর ঘটে।



শুষ্ক কোষ

আমরা টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমোর্ট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করি এগুলোকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।

প্রথমে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, কয়লার গুঁড়া এবং ম্যাংগানিজ ডাইঅক্সাইড ভালোভাবে মিশিয়ে তাতে অল্প পরিমাণ পানি যোগ করে একটি পেষ্ট তৈরি করা হয়। এই মিশ্রণটি সিলিন্ডার আকৃতির দস্তার চোঙে নিয়ে তার মধ্যে একটি কার্বন দণ্ড বসানো হয় এমনভাবে যাতে দণ্ডটি দস্তার চোঙকে স্পর্শ না করে। কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি ধাতব টুপি পরানো থাকে। শুষ্ক কোষের উপরের অংশ কার্বন দণ্ডটির চারপাশ পিচের আস্তরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। দস্তার চোঙটিকে একটি শক্ত কাগজ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এখানে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দণ্ডের উপরিভাগ ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।

তড়িৎ বিশ্লেষণ

তড়িৎ বিশ্লেষণ: তড়িৎ প্রবাহের ফলে লবণের এই রাসায়নিক পরিবর্তন যা ক্লোরিন গ্যাস ও ধাতব সোডিয়াম উৎপন্ন করেছে, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
তড়িৎ বিশ্লেষ্য: লবণের মতো যে সকল পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে।
তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ: সব পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহণ করে না, ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়াও করে না, তাদেরকে তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। যেমন – চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি।


এবার তাহলে ঝটপট এই কুইজটি দিয়ে আসা যাক!


রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে তোমাদের ধারণা পরিষ্কার হয়ে গেলে এখনই স্মার্টবুকটি তোমার বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করে নাও।