ষষ্ঠ শ্রেণি: বিজ্ঞান

বল এবং সরল যন্ত্র

Supported by Matador Stationary

কোনো বস্তুকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরাতে বল প্রয়োগ করতে হয়। এই বলের আবার বিভিন্ন রূপ আছে। তাছাড়া রয়েছে বল প্রয়োগ করার বিভিন্ন কৌশল। এই কৌশল প্রয়োগে কাজকে বিভিন্নভাবে সহজ করা যায়। যা কিছু এই বলকে কাজ করতে সহজ করে তা হল সরল যন্ত্র।

বল

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জানা বা অজানা বিভিন্নভাবে বল প্রয়োগ করে থাকি। সকাল থেকেই শুরু হয় আমাদের নানাভাবে বিভিন্ন বস্তুর ওপর বলের প্রয়োগ।

উদাহরণ: ধরো, তোমার পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে তোমার জ্যামিতি বক্সটি আছে। এটিকে বের করতে এবং বের করার পর পুনরায় এটিকে বন্ধ করতে ড্রয়ারটিকে যথাক্রমে টান বা ধাক্কা দিতে হয়। তোমার ঘরের বাতিটি জ্বালানোর জন্য তুমি যে সুইচ অন করেছ তাতেও কিন্তু বলের প্রয়োগ হয়েছে। কোকের ক্যান খোলাও কিন্তু বল প্রয়োগ। ফুটবলে লাথি দেওয়া বা ক্রিকেট বলে ব্যাট দিয়ে আঘাত করাও বল।

উপরোক্ত ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে দু’টো জিনিস জড়িত- ধাক্কা বা টান। এই ধাক্কা বা টানই হলো বল।

বস্তুর ওপর বিভিন্ন প্রকার বলের প্রভাব

তোমার গাড়ি যদি রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে তাহলে কিন্তু তুমি তাতে ধাক্কা দিতে চাইবে। এক-দুই জন ধাক্কা দিলে নাও নড়তে পারে কিন্তু চার-পাঁচ একসাথে ধাক্কা দিলে নড়তে এমনকি চলতেও পারে। এখানে বল প্রয়োগের ফলে স্থির বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে বা ঘটতে চায়।
সাধারণত বল প্রয়োগে স্থির বস্তুকে গতিশীল করা যায়, গতিশীল বস্তুর গতি বাড়ানো বা কমানো যায় এবং গতিশীল বস্তুকে থামানো যায়। উপরের উদাহরণগুলো থেকে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারি। বল প্রয়োগের ফলে-

♦ কোনো স্থির বস্তু গতিশীল এবং গতিশীল বস্তু স্থির হয় বা হতে চায়।
♦ চলন্ত বস্তুর গতি বাড়াতে বা কমাতে পারে।
♦ চলন্ত বস্তুর গতির দিক পরিবর্তন হয়।
♦ কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন পরিবর্তন হয়

সরল যন্ত্র

কাজকে সহজ করার জন্য দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানাবিধ সরল যন্ত্র ব্যবহার করে থাকি। যেমন: কাঁচি, সাঁড়াশি, হাতুড়ি, শাবল, কপিকল, লিভার ইত্যাদি। এসব সরল যন্ত্র নিচের উপায়ে এক বা একাধিকভাবে কাজকে সহজ করে-

♦ প্রযুক্ত বলকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে।
♦ কম বল প্রয়োগে কোনো কাজ সম্পন্ন করে।
♦ বলকে কোনো একটি সুবিধাজনক দিকে প্রয়োগ করে।
♦ কাজকে নির্দিষ্ট একটি উপায়ে সম্পন্ন করে যা অন্য কোনো উপায়ে করা কঠিন।
♦ গতি ও দূরত্ব বৃদ্ধি করে।

লিভার

লিভারের একটি সাধারণ উদাহরণ হলো শাবলকে ইট বা পাথরের উপরে ভর করে কোনো ভারি বস্তুকে উঠাতে সাহায্য করে। এখানে ভারি বস্তুটি হলো ভার এবং এই ভারকে উঠাতে যে বল প্রয়োগ করা হয় তা হলো প্রযুক্ত বল। শক্ত দন্ডটিকে ঠেকানোর জন্য কোনো অবলম্বনের যে বিন্দুতে মুক্তভাবে ওঠানামা করে বা ঘোরে তা হলো ফালক্রাম। লিভার কোনো ভারি বস্তুকে কম বল প্রয়োগ করে উঠাতে বা সরাতে সাহায্য করে।

লিভারের নীতিমালা হলো : বল × বলবাহুর দৈর্ঘ্য = ভার × ভারবাহুর দৈর্ঘ্য

লিভারের শ্রেণি বিভাগ

প্রযুক্ত বল, ভার ও ফালক্রামের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে লিভারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

(>) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে জেনে নাও পরবর্তী তথ্য! 
চলো এবার চিত্রের সাথে লিভারের শ্রেণিবিভাগ মিলিয়ে ফেলি! 
(+) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত!
চলো শেষবারের মত নিজেকে ঝালাই করে নেই!