অষ্টম শ্রেণি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার

Supported by Matador Stationary

Evolution of Computer

একসময় ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য বড় ডেস্কটপ কম্পিউটারের দরকার হতো, তারপর সেটি একটু ছোট হয়ে ল্যাপটপ হয়ে গেল। তারপর আরো ছোট হয়ে নোটবুক হলো, আরও ছোট হয়ে ট্যাব/ প্যাড হলো এখন সেটি ব্যবহার করার জন্যে স্মার্টফোন হলেই যথেষ্ট।

আজকাল প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই ওয়াই-ফাই সার্ভিস দেয়। কাজেই প্রায় সময়েই আমরা ইন্টারনেট সার্ভিস পেয়ে যাই। যে সমস্ত দেশ প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে আছে তারা সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট যোগাযোগ ছাড়া একটি মুহূর্তও চলতে পারে না এবং আমরাও খুব দ্রুত সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি।


নিচের কার্ডগুলো হতে দেখে নেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার


ইন্টারনেট আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে কোন ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে আমরা খুব অসহায় বোধ করি। তরুণ প্রজন্ম আজকাল সামাজিক নেটওয়ার্কে বেশি সময় ব্যয় করছে। কিন্তু ইন্টারনেটের গোলক ধাঁধাঁয় বাস্তব জগতের বিনোদন, খেলাধুলা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ইত্যাদি থেকে তারা যেন বিচ্ছিন্ন না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

শিক্ষাজীবনে ইন্টারনেটের প্রভাব

আমাদের জীবনের সবক্ষেত্রেই যেহেতু ইন্টারনেটের একটি প্রভাব আছে তাই শিক্ষাক্ষেত্রেও তার একটি বড় প্রভাব থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তোমরা যারা স্কুলে লেখাপড়া করছো, তারা হয়তো ইতোমধ্যেই সেটি লক্ষ করেছো।


নিচের স্লাইড হতে দেখে নাও শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেট কীভাবে প্রভাব ফেলেছে


দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে ইন্টারনেটের ভূমিকা

ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, পরিবহন, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সরকার, সরকার পদ্ধতি এবং রাজনৈতিক হালচালের প্রায় সকল ধরনের তথ্যই সেখানে রয়েছে। চলো তাহলে ভূমিকাগুলো জেনে আসা যাক –


ই-মেইল

ই-মেইলের মাধ্যমে আমরা কোনো লেখা বা ছবি অন্য যেকোনো ই-মেইল ঠিকানায় ইলেক্ট্রনিকভাবে পাঠাতে পারি।

যাদের ই-মেইল ঠিকানা থাকে তাদের প্রত্যেকের একটি করে মেইল বক্স থাকে। কোন ঠিকানা থেকে ই-মেইল এল তা মেইল বাক্সে জমা হয়। ঠিকানাটি যার সে মেইল বক্স থেকে ই-মেইলটি যখন ইচ্ছা খুলে পড়তে পারে।

JSC ICT Chapter 5 Email Provider
কিছু ই-মেইল সেবাদাতা

বর্তমানে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার ব্যাপারটি অত্যন্ত সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আজকালকার দিনে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই ই-মেইল যেমন পড়া যায়, তেমনি তা পাঠানোও যায়।

  • ই-মেইল পড়া ও পাঠানোর কাজটি প্রায় সময়ই বিনা পয়সায় করা যায়।
  • ই-মেইলের সাথে তুমি যেকোনো ফাইল যুক্ত করে পাঠাতে পারো। বিভিন্ন রকম ফাইল সেটি হতে পারে: কোনো ওয়ার্ড ডকুমেন্ট বা এক্সেল ফাইল বা ছবি।
  • একই চিঠি একসাথে অনেককে পাঠানো যায়!
  • ই-মেইল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাঠানো যায়।
  • ই-মেইল গ্রহণের জন্য আইসিটি যন্ত্রটি খোলা থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে যেকোনো সময় ই-মেইল পাঠানো যায় আবার পড়াও যায়।

ই-মেইল খোলার ব্যাপারে কিছু সতর্কতা জরুরি। যেমন অপরিচিত বা সন্দেহজনক ই-মেইল এলে তা খোলা উচিত নয়। কারণ এর সাথে ভাইরাস এসে তোমার আইসিটি যন্ত্রটিকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। অতএব সাবধান!

  • প্রথমেই আমাদেরকে ঠিক করতে হবে কোন ই-মেইল সেবাদাতার মাধ্যমে ই-মেইল ঠিকানা খুলবো।
  • এখন কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে হবে। কম্পিউটারের ব্রাউজারটি চালু করে পছন্দের সেবাদাতা সাইটটিতে প্রবেশ করো।
  • সব সাইটেই প্রবেশের পর আমাদের নতুন ই-মেইল ঠিকানা খুলতে সাইন আপ বা নিবন্ধন করতে হবে। এ সাইন আপের নিয়ম সব সাইটেই কিছুটা ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় একই। সব সাইটেই একটি ফর্ম পূরণ করতে হয়।
  • সাইটটির নির্দেশনা অনুসরণ করে-শেষে “Create Account” এ ক্লিক করলেই হয়ে গেলো তোমার ই-মেইল একাউন্ট বা ঠিকানা।
  • Password গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষণ করতে হবে। নইলে যে কেউ তোমার একাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে।

নিচের ভিডিওটিতে ই-মেইল খোলার সময় ফরম পূরণ করতে যে সকল তথ্য প্রয়োজন হয় এবং তা খোলার প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হলো। এ ক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ Yahoo ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করা হয়েছে। তুমি অন্য যে কোনটি ব্যবহার করতে পারো। ই-মেইল ঠিকানা করতে হলে তোমাকে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করতে হবে। তবে ই-মেইলে বাংলাতেও চিঠি আদান-প্রদান করা যায়।


ই-মেইল একাউন্ট তৈরি হয়ে গেলো। এখন নিচের স্লাইড হতে দেখে নেই ই-মেইল একাউন্টের বিভিন্ন ব্যবহার।


এখন ঝটপট এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে ঝালাই করে নেই নিজেকে!


শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট কীভাবে আমাদের কাজে লাগে তা আশা করি তোমরা বুঝে গিয়েছো। তোমার বন্ধুদেরও এই বিষয়ে ধারণা দিতে এখনই শেয়ার করে নাও এই স্মার্টবুকটি।