অষ্টম শ্রেণি: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশের সম্পদ

Supported by Matador Stationary

প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া সব বস্তুকেই প্রাকৃতিক সম্পদ বলা হয়। মানুষ প্রকৃতি থেকেই এ সব সম্পদ আহরণ করে। এর ফলে মানুষের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক জীবনের অগ্রগতি ঘটে। প্রাকৃতিক সম্পদ পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।


বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ 

নিচের হটস্পটগুলোতে ক্লিক করো!


বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য


বাংলাদেশের প্রধান প্রধান শিল্প

পাট শিল্প

১৯৫১ সালে নারায়নগঞ্জে আদমজি পাটকল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাট শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ দেশে একসময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। পাট বিক্রি করে কৃষক তার পরিবারের টাকার চাহিদা পূরণ করত। বর্তমানে দেশে ৭৬টি পাটকল আছে। একসময় পাটকলগুলো শুধু পাটের বস্তা উৎপাদন করত। এখন পাট দিয়ে নানা পন্য-সামগ্রী উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ভবিস্যতে আরও হবে। বাংলাদেশ ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে পাটজাত সামগ্রী বিক্রি করে ৩২ কোটি মাকিৃন ডলার আয় করেছে।

বস্ত্র শিল্প

১৯৪৭ সারে এদেশে মাত্র ৮টি বস্ত্রকল ছিল। বর্তমানে ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচুর বস্ত্র ও সুতাকল রয়েছে। বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে কম মূলধন ও অধিক শ্রমিক ব্যবহার করে এ শিল্পের উৎপাদন সম্ভব। শিল্পায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বস্ত্র শিল্পের প্রাধান্য ছিল। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ১৭২.০৮ মিলিয়ন কেজি সুতা এবং ৫৬.৫৪ মিলিয়ন মিটার কাপড় উৎপাদন হয়।

পোশাক শিল্প

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত শতকের আশির দশকে এ শিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। অতি অল্প সময়ে এ শিল্পটি দেশের বৃহত্তর রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত হয়েছে। দেশে বর্তমানে তিন হাজারেরও অধিক পোশাক শিল্প ইউনিট রয়েছে। এতে প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করছে। বাংলাদেশ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত বাঙলাদেশ তৈরি পোশাক থেকে ৮০৯০ মার্কিন ডলার আয় করেছে।

চিনি শিল্প

বাংলাদেশে প্রচুর আখের চাষ হয়। আখ থেকে চিনি ও গুড় তৈরি হয়। ১৯৩৩ সারে নাটোরের গোপালপুরে প্রথম চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশে ১৭টি চিনিকল আছে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী চিনি দেশে উৎপাদিত হয় না। ফলে বাংলাদেশকে প্রতি বছর প্রচুর চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে আমাদের চিনি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৯.৩১ হাজার মেট্টিক টন।

কাগজ শিল্প

১৯৫৩ সালে চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী কাগজের কল স্থাপিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে এদেশে কাগজ শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় বাঁশ ও বেতকে ব্যবহার করে কাগজ উৎপাদন শুরু হয়। দেশে এখন সরকারি ও বেসরকারিখাতে বেশ কয়েকটি কাগজের কল রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে কর্ণফুলী, পাকশী, খুলনা হার্ডবোর্ড ও নিউজপ্রিন্ট মিল ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে বসুন্ধরা ও মাগুরা পেপার মিল উল্লেখযোগ্র কাগজ শিল্প প্রতিষ্ঠান। ২০১১-১২ অর্থবছরে আমাদের কাগজ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫৩.১৬ হাজার মেট্রিক টন।

সার শিল্প

কৃষি প্রধান বাংলাদেশে খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই রাসায়নিক সার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক সার কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশে এখন ৬টি ইউরিয়া ও একটি টিএসপি সার কারখানা চালু আছে। বাংলাদেশের সারের চাহিদা পূরণের জন্যে এ কয়টি কারখানার উৎপাদন যথেষ্ট নয়। প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমাদের প্রচুর সার আমাদানি করতে হচ্ছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ১০৪৭.২১ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হয়েছে।

সিমেন্ট শিল্প

পাকা বাড়িঘর, দালান কোঠা তথা শহর নির্মাণে প্রচুর সিমেন্ট প্রয়োজন হয়। চুনাপাথর ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সমন্বয়ে সিমেন্ট উৎপাদিত হয় ১৯৪০ সালে ছাতক সিমেন্ট কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে এদেশে সিমেন্ট শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বড় ও মাঝারি আকারের ১২টি সিমেন্ট কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা দেশের মোট চাহিদার অর্ধে সিমন্টে উৎপাদিত হয়। বাকি সিমেন্ট আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে ৩১৯৭.১১ হাজার মেট্রিক টন সিমেন্ট উৎপাদিত হয়েছিল।

ঔষধ শিল্প

বাংলাদেশে বর্তমানে ঔষধ একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এক সময় আমাদের প্রচুর অর্থ খরচ করে বিদেশ থেকে ঔষধ আমদানি করতে হতো। এখন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কয়েকটি ঔষধ কোম্পানি তৈরি হয়েছে যারা দেশের ঔষধ চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে, একই সঙ্গে বিদেশে ঔষধ রপ্তানিও করছে। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প হিসাবে ঔষধের সম্ভাবনা কথা সকলেই এখন গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকার ঔষধ রপ্তানি হয়েছে।

চামড়া শিল্প

বাংলাদেশে প্রচুর গুরু, ছাগল ও মহিষ পালন করা হয়। এদেশে বহু আগে থেকেই চামড়া বা টেনারি শিল্প গড়ে উঠেছে। জুতা ও ব্যাগ তৈরিতে চামড়া শিল্পের জুড়ি নেই। এখন বাংলাদেশে কিছুসংখ্যক চামড়া শিল্প কারখানা তৈরি হয়েছে যেগুলো দেশের গুরু, ছাগল ও মহিষের চামড়া থেকে জুতা, ব্যাগসহ নানা উন্নতমানের জিনিস তৈরি করছে। কোনো কোনো কোম্পানি বিদেশেও তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদেশে জুতা রপ্তানি রে প্রায় ১৯ কোটি মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। আর ঐ বছর চামড়া বিক্রি করে আমাদের আয় হয়েছে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের উৎপাদন ছিল ১০.১৪ মিলিয়ন বর্গমিটার।


ঝটপট দিয়ে ফেলো নিচের কুইজগুলো!