অষ্টম শ্রেণি: সাধারণ বিজ্ঞান

অম্ল ক্ষারক ও লবণ

Supported by Matador Stationary

লেবুর রস, ভিনেগার, চুন, এন্টাসিড ঔষধ, খাবার লবণ এগুলো আমাদের অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী। এদের মধ্যে কোনোটি অম্ল বা এসিড, কোনোটি ক্ষারক আবার কোনোটি হয়তো লবণ। এদের রাসায়নিক ধর্মও ভিন্নভিন্ন। আঙুর, কমলা, লেবু, তেঁতুল, টমেটো, আমলকি , আপেল, আনারস এই সবগুলো ফলের ক্ষেত্রে মিল হচ্ছে এরা প্রত্যেকেই টকস্বাদযুক্ত। আর এর পিছনের কারণ হচ্ছে এই সকল ফলে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরণের এসিড।


এসিড কী?

এসিড কী বুঝার জন্য প্রথমে আমরা কয়েকটি এসিডের সংকেত লক্ষ্য করি। ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH), অক্সালিক এসিড (HOOC-COOH), হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) । এই সবগুলো এসিডের মিল কোথায়? এদের সবগুলোতেই এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন (H) পরমাণু আছে এবং এরা সবাই পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) দান করে। তাহলে বলা যায় যে,

এসিড (অম্ল) হলো ঐ সকল রাসায়নিক পদার্থ যাদের মধ্যে এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং যারা পানিতে H+ দান করে।

HCl ,CH3COOH ও H2SO4 এর পানিতে বিক্রিয়া।

নিচের প্রত্যেকটি অপশনে ক্লিক করে জেনে নাও এসিডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মতো প্রায় সকল এসিডই কার্বোনেটের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে।

CaCO3 + 2HCl = CaCl2 + H2O + CO2

তোমরা শুনে আশ্চর্য হবে যে, কখনও কখনও এসিডের এই ধর্মকে কাজে লাগিয়ে উৎপন্ন CO2 আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। তোমরা বলো তো খাবার সোডা (NaHCO3) ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বিক্রিয়ায় কী ঘটব? খাবার সোডা ও হাইড্রোক্লোরিক এসিডের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ, পানি ও CO2 গ্যাস উৎপন্ন হবে।

NaHCO3 + HCl = NaCl + H2O + CO2

হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মত প্রায় সকল এসিডই ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে।

2HCl + Zn = ZnCl2 + H2

অম্ল ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় সাধারণত লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

NaOH + HCl = NaCl + H2O

KOH + HNO3 = KNO3 + H2O

এসিড ধাতুর সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমেও লবণ উৎপন্ন করে।

2HCL + Mg = MgCl2 + H2

2HCl + Na = NaCl + H2

এছাড়াও, কার্বোনেটের সাথে বিক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপাদনের সময়ও লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়েছিলো।

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও


ক্ষারক কী?

ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যারা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় এসিডের বৈশিষ্ট্যমূলক ধর্মকে বিলুপ্ত করে

ক্ষারক সাধারণত কটু স্বাদযুক্ত এবং পিচ্ছিল হয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সাবানে ক্ষার থাকে বলে এরা পিচ্ছিল হয়। কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না। যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। NaOH, KOH, Ca(OH)2, NH4OH এরা সবাই ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।

পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়। অতএব এ কথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

ক্ষারগুলোর সংকেত এর দিকে তাকালে দেখা যায়, এদের সবগুলোতেই OH আছে এবং এরা যখন পানির সাথে বিক্রিয়া করে, তখন পানিতে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) দান করে

ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর পানিতে বিক্রিয়া।

ক্ষার হলো সেই সকল রাসায়নিক বস্তু যাদের মধ্যে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং যারা পানিতে হাইড্রক্সিল আয়ন (OH) দান করে।


অম্ল-ক্ষার শনাক্তকরণ

অম্ল-ক্ষার শনাক্তকরণের একটি বিখ্যাত পদ্ধতি হচ্ছে লিটমাস পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় লিটমাস নামের এক ধরণের কাগজ ব্যবহার করা হয়। লিটমাস কাগজ তৈরি করা হয় সাধারণ কাগজে লাইকেন (Lichens) নামক এক ধরনের গাছ থেকে প্রাপ্ত রঙের সাহায্যে। এভাবে প্রাপ্ত লিটমাস কাগজ দেখতে রক্তবর্ণের হয়। এই রক্তবর্ণের লিটমাস কাগজকে ক্ষারে ডুবালে নীলবর্ণ ধারণ করে।

লিটমাস পরীক্ষাঃ এসিড নীল লিটমাস পেপারকে লাল করে এবং ক্ষার লাল লিটমাস পেপারকে নীল করে

একটি নীলবর্ণের লিটমাস কাগজে সালফিউরিক এসিড বা হাইড্রোক্লোরিক এসিড যোগ করলে তা লাল বর্ণের লিটমাস কাগজে পরিণত হয়। অন্যদিকে লালবর্ণের লিটমাস কাগজে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যোগ করলে তা নীল বর্ণের কাগজ পরিণত হয়। লিটমাস পরীক্ষা পদ্ধতি সহজে মনে রাখার উপায় হলো “এনীলা” এই শব্দটি মনে রাখা।

এবার ঝালাই করে নাও নিজেকে।


এসিড ও ক্ষারকের ব্যবহার

ঝটপট কুইজটি দিয়ে যাচাই করে নাও নিজেকে।