অষ্টম শ্রেণি: সাধারণ বিজ্ঞান

উদ্ভিদে বংশ বৃদ্ধি

Supported by Matador Stationary

তোমরা লক্ষ করলে দেখবে এক জোড়া কবুতর হতে বছর ঘুরতে না ঘুরতে অনেকগুলো কবুতর হয়ে যায়। একটি গাভী বছর বছর বাচ্চা দিয়ে গোয়াল ঘর ভরে দেয়। একটি উদ্ভিদে বহু বীজ সৃষ্টি হয়। এই বীজগুলো থেকে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। এ সবই জীবের প্রজনন বা বংশ বৃদ্ধির উদাহরণ।

অযৌন প্রজনন

পৃথিবীর প্রতিটি জীব মৃত্যুর পূর্বে তার বংশধর রেখে যেতে চায়। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বলে। প্রজনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা অযৌনযৌন প্রজনন। নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। অযৌন প্রজনন প্রধানত দুই ধরনের, যথা স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ প্রজনন।

স্পোর উৎপাদন

প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। উদ্ভিদের দেহকোষ পরিবর্তিত হয়ে স্পোরবাহী একটি অঙ্গের সৃষ্টি করে। এদের স্পোরথলী বলে। একটি স্পোরথলিতে সাধারণত অসংখ্য স্পোর থাকে। তবে কখনও একটি থলিতে একটি স্পোর থাকতে পারে। স্পোরথলির বাইরেও স্পোর উৎপন্ন হয়। এদের বহিঃস্পোর বলে। বহিঃস্পোরের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে।

অঙ্গজ প্রজনন

কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো প্রত্যঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে প্রজনন ঘটে তাকে অঙ্গজ প্রজনন বলে। এ ধরনের প্রজনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতস্ফুর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন বলা হয়। যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ প্রজনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন বলে। নিচের চিত্রের (+) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে বিভিন্ন ধরণের অঙ্গজ প্রজনন সম্পর্কে জেনে নাও।

এবার ঝটপট নিচের প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিয়ে দাও।

সপুষ্পক উদ্ভিদের জনন অঙ্গ ফুল

ফুল থেকে ফল এবং ফল থেকে বীজ হয়। বীজ থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়। তাই ফুল উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এভাবে একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ বংশ বৃদ্ধি করে। একটি ফুল নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে দেখবে এর মোট পাঁচটি অংশ রয়েছে। কোনো কোনো ফুলে এর চেয়ে বাড়তি কিছু অংশ থাকতে পারে। আবার এ পাঁচটির যে কোনো একটি বা দুটি অংশ নাও থাকতে পারে। সবগুলো স্তবক থাকলে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। তবে কোনো একটি স্তবক না থাকলে তাকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। বৃন্ত থাকলে তাকে সবৃন্তক এবং বৃন্ত না থাকলে অবৃন্তক ফুল বলে। বৃত্তি ও দলমন্ডলকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক এবং পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক কে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক বা অঙ্গ বলে। নিচের (+) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে ফুলের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে জেনে নাও।


পরাগায়ন

পরাগায়ন ফল ও বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। পরাগায়ন দু’প্রকার, যথা- স্ব-পরাগায়নপর-পরাগায়ন

পরাগ স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে। যে বাহক পরাগ বহন করে গর্ভমুন্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে পতঙ্গ বা প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। এ সময়ে পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। এই বাহকটি যখন অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগ পরবর্তী ফুলের গর্ভমুন্ডে লেগে যায়। এভাবে তাদের অজান্তে পরাগায়নের কাজটি হয়ে যায়।

পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে অভিযোজন বলা হয়। বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য অভিযোজনগুলোও আলাদা। অভিযোজনগুলো নিম্নরূপ :



নিষিক্তকরণ

একটি পুং গ্যামেট অন্য একটি স্ত্রী-গ্যামেটের সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে মিলিত হওয়াকে নিষিক্তকরণ বলে। পরাগায়নের ফলে পরাগরেণু গর্ভমুন্ডে স্থানান্তরিত হয়। এখান থেকে নিঃসৃত রস শুষে নিয়ে এটি ফুলে উঠে এবং এর আবরণ ভেদ করে একটি নালি বেরিয়ে আসে। এটি পরাগনালি। পরাগনালি গর্ভদন্ড ভেদ করে গর্ভাশয়ে ডিম্বকের কাছে গিয়ে পৌঁছে।

ইতোমধ্যে এই পরাগনালিতে দুটো পুং গ্যামেট সৃষ্টি হয়। ডিম্বকের ভিতর পৌঁছে এ নালিকা ফেটে যায় এবং পুং গ্যামেট দুটো মুক্ত হয়। ডিম্বকের ভিতর ভ্রূণণথলি থাকে। এর মধ্যে স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু উৎপন্নহয়। পুং গ্যামেটের একটি এই স্ত্রী গ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হয়। এভাবে নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হয়। অন্য পুং গ্যামেটটি গৌণ কেন্দ্রিকার সাথে মিলিত হয় এবং শস্যকনা উৎপন্ন করে।


ফলের উৎপত্তি

আমরা ফল বলতে সাধারণত আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, আঙুর, আপেল, পেয়ারা ইত্যাদি সুমিষ্ট ফলগুলোকে বুঝি। এগুলো পেকে গেলে রান্না ছাড়াই খাওয়া যায়। লাউ, কুমড়া, ঝিঙা, পটল এরাও ফল। এদের কাঁচা খাওয়া হয় না বলে এদের সবজি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে এরা সবাই ফল।

নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই ফল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া গর্ভাশয়ে যে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে তার কারণে ধীরে ধীরে গর্ভাশয়টি ফলে পরিণত হয়। এর ডিম্বকগুলো বীজে রূপান্তরিত হয়। নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। সকল প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়


বীজের গঠন

একটি বাটির মধ্যে একটি ফিল্টার পেপার রেখে পানি দিয়ে ভিজিয়ে তার উপর ৮/১০টি ভেজা ছোলার বীজ ৩/৪ দিন ঢেকে রেখে দিলে এগুলো থেকে অঙ্কুর বের হবে।

বীজের সুঁচাল অংশের কাছে একটি ছিদ্র আছে, একে মাইক্রোপাইল (micropyle) বলে। এর ভিতর দিয়ে ভ্রূণমূল (radicle) বাইরে বেরিয়ে আসে। অঙ্কুর বের হওয়া বীজটিকে দু আঙ্গুল দিয়ে সামান্য চাপ দিয়ে ছোলা বীজের আবরণটি (seed coat) সরিয়ে ফেললে হলুদ রঙের একটি অংশ বের হবে, এটিকে আরও একটু চাপ দিলে পুরু বীজপত্র (cotyledon) দুটি দুই দিকে খুলে যাবে। এ দুটো যেখানে লেগে আছে সেখানে সাদা রঙের একটি লম্বাটে অঙ্গ দেখা যাবে।

একে ভ্রূণীয় অক্ষ (hypocotyl-radicle axis) বলে। এর নিচের দিকের অংশকে ভ্রূণমূল (radicle) এবং উপরের অংশকে ভ্রূণকাণ্ড (plumule) বলে। ভ্রূণকান্ডের নিচের অংশকে বীজপত্রাধিকাণ্ড (epicotyle) ও ভ্রূণমুলের উপরের অংশকে বীজপত্রাবকাণ্ড (hypocotyl) বলে। ভ্রূণমূল, ভ্রূণকাণ্ড ও বীজপত্রকে একত্রে ভ্রূণ এবং বাইরের আবরণটিকে বীজত্বক বলে।


অঙ্কুরোদগম

বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে। যথাযথভাবে অঙ্কুরোদগম হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি, তাপ ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। যখন বীজপত্র মাটির নিচে অবস্থান করে আর ভ্রূণকাণ্ড মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে কিন্তু বীজপত্রটি মাটির ভিতরে থেকে যায় তখন তাকে মৃদগত অঙ্কুরোদগম বলে। কখনও বীজপত্রসহ ভ্রূণণমুকুল মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে তখন তাকে মৃদভেদী অঙ্কুরোদগম বলে।

এখন ঝটপট এই কুইজটি দিয়ে নিজেকে ঝালাই করে ফেলো!