এসএসসি অর্থায়ন

অর্থায়নের উৎস

Supported by Matador Stationary

অর্থায়ন বলতে তহবিল সংগ্রহ, এর ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনকে বুঝায়। এই অধ্যায়ে আমরা তহবিল সংগ্রহ করার কাজটি সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য এর বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে ধারণা লাভ করব। অর্থায়নের বিভিন্ন উৎসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে কারবারের বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে তহবিল সংগ্রহ করা উচিত।
যেমন: স্থায়ী মূলধন ক্রয়ের জন্য শেয়ার বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহ করা উচিত। আবার দৈনন্দিন প্রয়োজন যেমন: কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য বাকিতে ক্রয়ের সুযোগ ব্যবহার করা উচিত বা স্বল্পমেয়াদি ব্যাংক ঋণ নিয়ে তহবিল সংগ্রহ করা উচিত।

যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করার জন্য এবং দৈনন্দিন ব্যবসায় কার্য পরিচালনা করার জন্য যে তহবিলের প্রয়োজন হয় তার উৎস নির্বাচন অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কেননা ভিন্ন ভিন্ন তহবিল উৎসের খরচও ভিন্ন এবং ভিন্ন মেয়াদভিত্তিক তহবিলের সুবিধা-অসুবিধাও আলাদা। বিভিন্ন উৎসের মধ্যে তুলনা করে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তহবিলের উৎসের যে মিশ্রণটি সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদানকারী ও ন্যূনতম খরচযুক্ত, সেই মিশ্রণের উৎস থেকেই প্রতিষ্ঠান তহবিল সংগ্রহ করে। তহবিল বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন। মোট মুনাফা থেকে তহবিলের উৎস বাবদ খরচ বা ব্যয় ও কর বাদ দিলে নিট মুনাফা পাওয়া যায়। সুতরাং মুনাফার পরিমাণকে সরবোচ্চকরণে তহবিল উৎসের খরচ ন্যূনতম হওয়া অত্যাবশ্যক।

বিভিন্ন প্রকার তহবিলের উৎসের ধারণা

ব্যবসায় অর্থায়ন বলতে ব্যবসা করার জন্য যে তহবিলের প্রয়োজন হয় তা সরবরাহ করাকে বুঝায়। জনাব রহমান একটি দর্জি দোকানের মালিক। ব্যবসার শুরুতেই তিনি কিছু মেশিন ক্রয় করে। ব্যবসায়ী সাধারণত তার নিজস্ব সঞ্চয় হতে মেশিন ক্রয়সংক্রান্ত স্থায়ী বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে। কেননা এই অর্থ তিনি যেকোনো মেয়াদে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি হিসাব করে দেখেন নিজস্ব সঞ্চয় মেশিন ক্রয়ের জন্য যথেষ্ট নয়, তবে তিনি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক যেমন: জনতা, রূপালী অথবা অন্যান্য ঋণ প্রদানকারী আর্থিক সংস্থা হতে নির্দিষ্ট সুদের হারে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করেন। এ ধরনের ঋণ তিনি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য গ্রহণ করে থাকেন। ব্যবসায়ীর স্থাবর সম্পত্তি যেমন: বিল্ডিং ফ্যাক্টরি, অস্থাবর সম্পত্তি যেমন: কাঁচামাল, বিক্রয়যোগ্য মালামাল, ইত্যাদির বিপরীতে ব্যাংক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে বন্ধকী ঋণ গ্রহণ করেও তহবিল সরবরাহ করা যায়। এছাড়া রহমান সাহেব ব্যবসায় যে মুনাফা অর্জন করেন, তা কারবার থেকে উত্তোলন না করে কারবারে বিনিয়োগ করেও অর্থায়নের প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে  দুটি তহবিল উৎসের শ্রেণিবিভাগ দেখে নাও

বহিস্থ তহবিলের স্বল্পমেয়াদি উৎস

স্বল্পমেয়াদ বলতে ১ বছরের কম সময়কে বুঝানো হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ অর্থায়ন মূলত স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে সংগ্রহ করা হয়, যা এক বছর বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য। স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কিছু সুবিধা থাকে। যেমন:

প্রথমত, স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে অর্থ সংস্থানের খরচ তুলনামূলকভাবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুইই হতে পারে। যেমন: বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে গৃহীত ঋণের জন্য স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলকভাবে সুদের হার বেশি প্রদান করতে হয়। আবার বিভিন্ন ঋণমুক্ত উৎস যেমন: বাকিতে পণ্য ক্রয়, বকেয়া মজুরির মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সময়ের জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারে। যার কোনো মূলধনি খরচ নেই।

দ্বিতীয়ত, স্বল্পমেয়াদি অর্থ আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ায়  সবচেয়ে দ্রুততম ও সরল প্রক্রিয়া। পক্ষান্তরে, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থ আদান-প্রদানের জন্য অনেক সময় ব্যয় ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তৃতীয়ত, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য দ্রব্যের চাহিদা এক বছর সময়ের মধ্যে অতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও অর্থায়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা যায় না। যেমন: ফ্যাশন হাউসগুলোর চাহিদার দ্রুত পরিবর্তনশীলতার কারণে পণ্য উৎপাদনের জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে, ফলে একসাথে কম পরিমাণে উৎপাদন করায় এদের অর্থ বিনিয়োগের পরিমাণও কম হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে অর্থসংস্থান করা সুবিধাজনক।

এবার আমরা স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের উৎসগুলো আলোচনা করব। এই মেয়াদের অর্থায়নের উৎসগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক এই দুভাগে ভাগ করা যায়। নিচে আমরা প্রমে স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের প্রাতিষ্ঠানিক উৎস ও পরে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস আলোচনা করব।

১. স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের প্রাতিষ্ঠানিক উৎস

২. স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস

মধ্যমেয়াদি অর্থসংস্থান

এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সংগৃহীত তহবিল মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন হিসেবে পরিগণিত। একটি প্রতিষ্ঠান মধ্যমমেয়াদি তহবিল ব্যবহার করে ব্যবসার চলমান মূলধনের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মিটায়। এই তহবিলের খরচ বা সুদের হার স্বল্পমেয়াদি তহবিলের খরচ হতে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের খরচ হতে কম হয়। বিভিনড়ব বৈশিষ্ট্যভেদে এর উৎস আলোচনা করা হলো:

দীর্ঘমেয়াদি তহবিল

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মেয়াদ হচ্ছে ৫ বছর থেকে ঊর্ধ্বে যেকোনো সময়কাল পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎসগুলোর বিশেষ কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট্য আছে। আমরা এবার এই বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করব।

প্রথমবৈশিষ্ট্য এই যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের আকার সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি উৎসের তুলনায় বড় হয়, ফলে এই তহবিল বিভিন্ন স্থায়ী সম্পত্তি যেমন: ভূমি, দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো পরিশোধ পদ্ধতি-সংক্রান্ত। দীর্ঘমেয়াদি তহবিল ঋণের মাধ্যমে গৃহীত হলে তা চুক্তি মোতাবেক পরিশোধ করতে হয়। আর যদি শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হয়, তবে তা মালিকের তহবিল হিসাবে বিবেচিত হয় বলে ব্যবসা বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিশোধের প্রয়োজন হয় না। একমালিকানা ও অংশীদারি কারবারে মালিকের নিজস্ব মূলধনও সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবহার করা যায়। আয়কর-সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যটি হলো, শেয়ারের লভ্যাংশ করযোগ্য কিন্তু ঋণপত্রের সুদ করযোগ্য নয়। এই কারণে শেয়ার বিক্রয় করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করলে যে খরচ হয়, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিলে অপেক্ষাকৃত কম খরচ হয়। এবার আমরা দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎস আলোচনা করব।

উৎস নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়সমূহ

প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের প্রয়োজন মিটাবার জন্য বিভিন্ন উৎস হতে তহবিল সংগ্রহ করে। উৎস নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিনড়ব উৎসের মধ্যে সুবিধা-অসুবিধা বিচার-বিশে−ষণ, তহবিল সংগ্রহের খরচ, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি, তহবিলের প্রয়োজনের ধরন ও উদ্দেশ্য ইত্যাদি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তহবিল উৎসের সঠিক মিশ্রণ সৃষ্টি অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সঠিক তহবিল উৎস নির্বাচনে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত সেগুলো মূলত:

 

চলো দেখি কি কি শিখলে তোমরা!