এসএসসি জীববিজ্ঞান

জীবনীশক্তি

Supported by Matador Stationary

আজকে নুহার ক্লাসে শিক্ষক জীবনীশক্তি নিয়ে পড়াচ্ছিল। নুহা আজকে জানতে পারলো যে, পৃথিবীতে শক্তির মূল উৎস হল সূর্য। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে আর এ শক্তি দিয়েই সমগ্র জীবকুল বেঁচে আছে। প্রথম প্রক্রিয়াটি হল সালোকসংশ্লেষণ এবং দ্বিতীয়টি হল শ্বসন। আমরা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার আগে চলো ATP নিয়ে জেনে নিই।

সালোকসংশ্লেষণ

যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ক্লোরোফিলযুক্ত কোষে আলোর উপস্থিতিতে পরিবেশ থেকে শোষিত জল ও গৃহিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের আলোক রাসায়নিক ও জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে সরল শর্করা (গ্লুকোজ) সংশ্লেষিত হয় ও উৎপন্ন খাদ্যে সৌরশক্তি স্থিতিশক্তি রূপে আবদ্ধ হয় এবং উপজাত বস্তু হিসেবে পরিবেশ থেকে গৃহিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম-অণু অক্সিজেন ও জল উৎপন্ন হয়, তাকে সালোকসংশ্লেষ বা (Photosynthesis) বলে।

সালোকসংশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণ

1905 সালে ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান এ প্রক্রিয়াকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করেন। পর্যায় দুটি হলো আলোক নির্ভর পর্যায়ে এবং আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়।

আলোক নিরপেক্ষ বা অন্ধকার পর্যায়ে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না তবে আলোর উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া চলতে পারে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড পত্ররন্ধের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে আলো পর্যায়ে তৈরি ATP বা NADPH এবং H+ এর সাহায্যে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে কার্বন আছে বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটের পরিণত হয় সবুজ দিয়েছে তার বর্ণনা তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো হচ্ছে কেলভিন চক্র হ্যাচ-ও-স্ল্যাক চক্র এবং crassulacean acid বিভাগ।

কেলভিন চক্র বা C3 গতিপথ: CO2 আত্তীকরণের গতিপথকে আবিষ্কারকের নামানুসারে কেলভিন চক্র বলা হয়। কেলভিন তার এ আবিস্কারের জুন ১৯৬১ সালে নোবেল পুরস্কার পান। বেশিরভাগ উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় শর্করা তৈরি হয়। প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বন বিশিষ্ট ফসফোগ্লিসারিক এসিড বলে এই ধরনের উদ্ভিদকে C3 উদ্ভিদ বলে।

হ্যাচ-ও-স্ল্যাক চক্র বা C4 গতিপথ: এর প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৪ কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড, তাই একে C4 গতিপথ বলে।

সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব

সালোকসংশ্লেষণ হলো উদ্ভিদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য উৎপাদন করে। জীবজগতে সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে সংক্ষেপে এর গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১। সকল শক্তির উৎস সূর্য, উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌর শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে।

২। খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে উক্ত শক্তি সকল জীবে সঞ্চারিত হয়।

৩। পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির খাদ্য প্রস্তুত হয় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়।

৪। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় CO2 ও O2 অনুপাত ঠিক রাখতে সালোকসংশ্লেষণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৫। উদ্ভিদ ও প্রাণির স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বায়ুতে এ দুটি গ্যাসের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে উক্ত প্রক্রিয়ার ভূমিকা রয়েছে।

৬। শ্বসন প্রক্রিয়ায় নির্গত গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বায়ুমণ্ডল জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে। সালোকসংশ্লেষণ উক্ত গ্যাস গ্রহণ করে বায়ুকে নির্মল রাখে।

৭। মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান যেমন- কয়লা, পেট্রোল, রেয়ন, কাগজ, রাবার, ঔষধ ইত্যাদি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার ফল।

শ্বসন

অক্সিজেন সহযোগে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে শক্তি ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে শ্বসন বলে। যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীব কোষের জটিল জৈব যৌগ জারিত হয়ে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং স্থিতি শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তাকে শ্বসন বলে।

শ্বসনিক বস্তু: শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে সব যৌগিক বস্তু জারিত হয়ে সরল বস্তুতে পরিণত হয় তাদেরকে শ্বসনিক বস্তু বলে। যেমন- শর্করা, প্রোটিন, লিপিড, জৈব এসিড ইত্যাদি।

শ্বসনের প্রকারভেদ:   শ্বসনের সময় অক্সিজেনের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে শ্বসনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-  সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসন।

১। সবাত শ্বসন : যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে সবাত শ্বসন বলে। সবাত শ্বসনই হলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লকোজ সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে ৬ অণু CO2, ৬ অণু পানি এবং ৩৮ টি ATP উত্পন্ন করে।

সবাত শ্বসন

সবাত শ্বসন

২। অবাত শ্বসন : যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না তাকে অবাত শ্বসন বলে। এ প্রক্রিয়ায় ইথাইল অ্যালকোহল, ল্যাকটিক এসিড, CO2 ও সামান্য পরিমাণ শক্তি উত্পন্ন হয়।
অবাত শ্বসন

সবাত শ্বসন

সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। যথা-
১। গ্লাইকোলাইসিস
২। অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি
৩। ক্রেবস চক্র
৪। ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র

aerobic-and-anaerobic-proce_med
সবাত শ্বসন

অবাত শ্বসন

যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অবায়ুজীবি জীবের কোষস্থ খাদ্য মুক্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে কিন্তু অক্সিজেনযুক্ত যৌগের (অজৈব অক্সাইড) সাহায্যে আংশিকভাবে জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য যৌগ উৎপন্ন করে এবং শ্বসন বস্তুস্থিত শক্তির আংশিক নির্গমন ঘটায় তাকে অবাত শ্বসন (Anaerobic Respiration) বলে ।

C6H12O6+12NO3⟶6CO2+6H2O+12NO2+50K.Cal

এ প্রক্রিয়ায়-

  1. অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই
  2. অল্পপরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। কখনো কখনো হয়না
  3. পানি উৎপন্ন হয়না।
  4. অ্যালকোহল উৎপন্ন হয়।
  5. ATP আকারে ২০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
  6. ATP মোট ২টি উৎপন্ন হয়।
  7. নিম্নশ্রেণীর কতক উদ্ভিদে যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকে ঘটে।

সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থ্যক্য

সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থ্যক্য

শ্বসনের গুরুত্ব

১। শক্তি সরবরাহ
২। খাদ্য প্রস্তুত
৩। খনিজ লবণ পরিশোষণ
৪। কোষ বিভাজন ও দৈহিক বৃদ্ধি
৫। এনজাইম ও জৈব এসিড উৎপাদন
৬। বায়ু মন্ডলে CO2-O2 এর ভারসাম্য রক্ষা
৭। শিল্পে ব্যবহার