এসএসসি জীববিজ্ঞান

জীবের প্রজনন

Supported by Matador Stationary

নিলুদের ক্লাসে আজকে প্রজনন নিয়ে পড়াচ্ছিল। সে জানতে পারলো যে, প্রজনন হচ্ছে জীবের বংশধর তৈরির একটি প্রক্রিয়া। প্রজনন প্রধানত দুই প্রকার। জননকোষ সৃষ্টির পূর্ব শর্ত হল জনন মাতৃকোষকে অবশ্যই মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হতে হয়। জাইগোট সৃষ্টির সময় ক্রোমোজোমের সংখ্যা আবার জনন মাতৃকোষের সমান হয়ে যায় আর এ জননকোষটি বিভাজনের মাধ্যমে নতুন জীবদেহ তৈরি হয়। এবার নিলুদের ক্লাসে প্রজনন নিয়ে বিস্তারিত পড়ানো শুরু করলো।

প্রজনন অঙ্গ: ফুল

পুষ্পমঞ্জরী

অনেক গাছের ছোট একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সাজানো থাকে, ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জরী বলে। যে শাখায় সজ্জিত থাকে, তাকে মঞ্জরীদণ্ড বলে। 

পুষ্পমঞ্জরী

পরাগায়ন

পরাগায়নকে পরাগসংযােগ বলা হয়। পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। পরাগায়ন দুই ধরনের, স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন।

স্ব-পরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনাে পরিবর্তন আসে না এবং কোনাে একটি বিষয় থাকবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য আসে না এক কোনাে একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযােজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে।

পর-পরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন  উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। শিমুল, পেঁপে ইতালি গাছের ফুলে পর-পরাগমন হতে দেখা যায়। পর-পরাগানের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, পর-পরাগায়ন বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছে মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উইপন্ন হয় এ নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং পর-পরাগায়ন থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন পুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্রের  সৃষ্টি হয়। তবে এটি বাহক-নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরাগায়ন

পরাগায়নের মাধ্যম:

পরাগায়নের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনাে না কোনাে মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে। যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। বায়ু, পানি, কীট-পড়া, পাখি, বাদুড়, শামুক এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। এ সময়ে ঐ ফুলের পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। এই বাইকটি যখন অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাণ পরবর্তী ফুলেৱ গর্ভমুণ্ডে যায়। এভাবে পরাগায়ন ঘটে। পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, হালকা ও মধু-গ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো ও সুগন্ধযুক্ত হয়, যেমন; জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

পরাগায়ন

(>) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটোফাইটের উৎপত্তি সম্পর্কে জেনে নাও। 

নিষেক

পরাগায়নের ফলে পরিণত পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে (Style) পতিত হয়। এরপর পরাগনালিকা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে গর্ভদণ্ড ভেদ করে এবং কিছু তরল পদার্থ শােষণ করে স্ফীত হয়ে উঠে। এক সময় এ স্ফীত অগ্রভাগটি ফেটে পুংজনন কোষ দুটি ভ্রূণথলিতে মুক্ত হয়। এর একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগােট (Zygote) তৈরি করে। অপর পুংজনন কোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে টিপ্লয়েড(3n) সস্য কোষের (Endosperm cells) সৃষ্টি করে। প্রায় একই সময়ে দুটি পুংজনন কোষের একটি ডিম্বাণু এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়। এ ঘটনাকে দ্বি-নিষেক (Dynable fertilization) বলা হয়।

নিষেক

নতুন স্পোরোফাইট গঠন

জাইগােট কোষটি স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়। একই সাথে সস্যের বিকাশ ঘটতে শুরু করে। জাইগােটের বিভাজন অনুপ্রস্থে (Transversely) ঘটে। ডিম্বকরন্ধ্রের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ (basal cell) এবং ভ্রূণথলিয় কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ (Apical cell) বলা হয় । এই সাথে এ কোষ দুটির বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি একটি ভ্রূণে পরিণত হয়। একই সাথে ভিত্তি কোষ থেকে ভ্রূণধারক (suspensor) গঠন করে। ক্রমশ বীজপত্র, ভূণমূল এবং ভ্রূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি উৎপন্ন করে। এই কোষগুলাে ট্রিপ্লয়েড অর্থাৎ এর নিউক্লিয়াসে n সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। পরিণত ডিম্বকটি সস্য ও ভ্রূণসহ বীজে পরিণত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণ স্পোরোফাইটের সৃষ্টি করে।

প্রয়োজন জীবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য জীব তার জীবদ্দশায় নিজের প্রতিরোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তারপর জাতিকে বাঁচিয়ে রাখে ভিন্নভিন্ন জীবের প্রজনন প্রক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে প্রজনন প্রক্রিয়া বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্যণীয় এই অধ্যায়ের সপুষ্পক উদ্ভিদ এবং মানব প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

জীবে প্রজনন এর ধারণা ও গুরুত্ব

গুরুত্ব

জীবের ক্ষেত্রে জন্ম হতে মৃত্যু অবধারিত. জীবনের মৃত্যু হলে পৃথিবী থেকে একসময় যেসব প্রজাতির সেসব প্রজাতির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত. কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হয়নি কারণ একদিকে পৃথিবীতে যেমন মৃত্যু ঘটছে, অন্যদিকে তেমনি প্রজননের মাধ্যমে জীবের জন্ম হচ্ছে. এমন একটি শাড়ির তত্ত্বীয় কার্যক্রম. যার মাধ্যমে জিৎদার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ বংশধর রেখে যায়. যে প্রক্রিয়ায় কোনো যে তার বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বলে

প্রজনন প্রধানত দুই ধরনের যৌন এবং অযৌন. সাধারণত নিম্ন শ্রেণীর জীব এর যৌন প্রজনন হয়না, তবে কোন কোন নিম্ন শ্রেণীর জীব যৌন উপায় প্রজনন ঘটায়. উচ্চশ্রেণির অধিকাংশ উদ্ভিদ এবং উচ্চ শ্রেণীর সকল প্রাণী যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশধর সৃষ্টি করে. যৌন জনন ব্যতিক্রমধর্মী জননকোষ পরস্পরের সাথে মিলিত হয়. এক্ষেত্রে একটিকে পুংজননকোষ বা শুক্রাণু অন্যটিকে স্ত্রী জনন কোষ বা ডিম্বাণু বলে। এই দুই ধরনের জননকোষ একই ফুলে বা একই দেহে সৃষ্টি হতে পারে। উন্নত উদ্ভিদে এই দুই ধরনের জনন কোষে একই দেহের সৃষ্টি হয়। এরা সহবাসী উদ্ভিদ। যখন দুই ধরনের জননকোষ আলাদা সৃষ্টি হয় তখন সেই উদ্ভিদ ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে

সৃষ্টির পূর্বশর্ত হলো, জনম মাতৃকোষকে মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হতে হয়। এই বিভাজনের ফলে ক্রোমোজোমের সংখ্যা জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। কাজেই যখন কোন পুং ও স্ত্রী জননকোষ দুটি মিলিত হয়ে যে জাইগোটের সৃষ্টি করে তাতে ক্রোমোজমের সংখ্যা আবার জনন মাতৃকোষ এর সমান হয়ে যায়। পরে এই জাইগোট মাইক্রোটিক কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বারবার বিভাজিত হয়ে একটি নতুন জীবদেহের সৃষ্টি করে। এভাবে একটি জীব বহু জীবের জন্ম দিয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যত বংশধর সৃষ্টি করে বংশধারা রক্ষা করে।
প্রজনন নাহলে অস্তিত্ব বিলোপ হয়ে যেত। ব্যাকটেরিয়া থেকে শুরু করে মানুষ পর্যন্ত সকল যেভাবে বংশধর সৃষ্টি করে প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। তবে কি উপায় প্রজনন ঘটবে তা জীবে বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করেন। এজন্যই নিম্নশ্রেণীর জীব কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জনন ঘটায় আবার উচ্চশ্রেণীর জীবের জটিল প্রক্রিয়া যৌন জনন সংঘটিত হয়।