এসএসসি হিসাববিজ্ঞান

আর্থিক বিবরণী

Supported by Matador Stationary

প্রত্যেক ব্যবসায়ের নির্দিষ্ট সময়ান্তে আর্থিক অবস্থা জানার প্রয়োজন হয়। আর্থিক অবস্থার দুটি বিষয় আছে- ব্যবসায়ের কত লাভ বা ক্ষতি হলো এবং ব্যবসায়ের সম্পদ এবং দায়-দেনার পরিমাণ কত। লাভ-ক্ষতি নিরূপণের জন্য যে বিবরণী প্রস্তুত করা হয় এর নাম বিশদ আয় বিবরণী বা Statement of Comprehensive Income (যার পূর্বের নাম ছিল আয় বিবরণী বা Income Statement) আর সম্পদ এবং দায়-দেনা জানার জন্য যে বিবরণী প্রস্তুত
করা হয় তার নাম আর্থিক অবস্থার বিবরণী বা Statement of Financial Position (যার পূর্বের নাম ছিল উদ্বৃত্ত্বপত্র বা Balance Sheet)। বিশদ আয় বিবরণী এবং আর্থিক অবস্থার বিবরণীকে আর্থিক বিবরণী বলা হয়। শুধু আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করলেই চলবে না, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য আর্থিক বিবরণীর বিশ্লেষণ করাও প্রয়োজন।

এক মালিকানা ব্যবসায়ের আর্থিক বিবরণী :

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা জানার কাঠামোবদ্ধ সুশৃঙ্খল ধারাবাহিক প্রক্রিয়া আর্থিক বিবরণী বলা হয়। আর্থিক বিবরণী বৃহদাকার ব্যবহারকারীদের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল, আর্থিক অবস্থা ও নগদ প্রবাহ সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও সার্বিক অবস্থা মূল্যায়নের অন্যতম ভিত্তি আর্থিক বিবরণী। আন্তর্জাতিক হিসাব মান-০১ (IAS-01) অনুযায়ী আর্থিক বিবরণী ৫টি অংশে প্রস্তুত করা হয়। আর্থিক বিবরণীর ৫টি ধাপ হলো-
১. বিশদ আয় বিবরণী (Statement of Comprehensive Income)
২. মালিকানা সত্ত্ব বিবরণী (Statement of Changes in Eqity)
৩. আর্থিক অবস্থার বিবরণী (Statement of Financial Position)
৪. নগদ প্রবাহ বিবরণী (Statement of Cash Flows)
৫. আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় নোট ও গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের নীতিমালা

বিশদ আয় বিবরণী:

বিশদ আয় বিবরণীতে মুনাফা জাতীয় আয় ও ব্যয় লিপিবদ্ধকরা হয়। সেবা প্রদানকারী ব্যবসায় যা পণ্য ক্রয় বিক্রয় করে না বরং সেবা প্রদান করে (বিজ্ঞাপনী সংস্থা)। এ রকম ব্যবসায়ে আয় থেকে সেবা প্রদানের যাবতীয় ব্যয় বাদ দিলে নীট মুনাফা পাওয়া যায়। অপরদিকে পণ্য ক্রয় বিক্রয়কারী ব্যবসায়ে পণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় বাদ দিলে মোট মুনাফা পাওয়া যায়। আর মোট মুনাফার সাথে অন্যান্য পরোক্ষ আয় যোগ করে, সমষ্টি হতে পরোক্ষ ব্যয় বাদ দিলে নীট মুনাফা পাওয়া যায়।

বিশদ আয় বিবরণীর উদ্দেশ্য :

১) বিশদ আয় বিবরণীর মাধ্যমে ব্যবসায়ের নীট লাভ বা ক্ষতি জানা যায়। এই আয় বিবরণীর উদ্দেশ্য হলো মালিককে জানিয়ে দেয়া যে তিনি নীট লাভের অতিরিক্ত দাবি করতে পারেন না। নীট লাভের অতিরিক্ত দাবি করার অর্থ হচ্ছে ব্যবসায়ের মূলধন ভেঙ্গে ফেলা যা ভবিষ্যতের কার্যক্রম ব্যাহত করবে।
২) বিশদ আয় বিবরণীর বিভিন্ন আয় এবং ব্যয়গুলির বিশ্লেষন করে ভবিষ্যতে কীভাবে আয় বাড়িয়ে এবং ব্যয় কমিয়ে নীট মুনাফা বাড়ানো যায় তার ব্যবস্থা করা যায়।

বিশদ আয় বিবরণী প্রস্তুত (সেবা প্রদানকারী ব্যবসায়) :

একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত প্রতি বছরের জন্য বিশদ আয় বিবরণী প্রস্তুত করতে হয়। এখানে বছরের আয় থেকে ব্যয়গুলি বাদ দিলে নীট আয় পাওয়া যায়।

পণ্য ক্রয় বিক্রয়কারী ব্যবসায়ে আয়ের প্রধান উৎস হল পণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ। ইহা ব্যবসার মূল পরিচালন আয়। ব্যবসায়ের কিছু অপরিচালন আয়ও রয়েছে, যেমন- প্রাপ্ত কমিশন, বাড়ী ভাড়া আয় ও ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ ইত্যাদি। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে পণ্য ক্রয়, মজুরি, ম্যনেজারের বেতন, ভ্রমন খরচ, মেরামত খরচ, অনাদায়ী পাওনা, সম্পদের অবচয় ইত্যাদি বিদ্যমান। বিশদ আয় বিবরণীকে প্রধানত তিনটি ধাপে সাজিয়ে প্রস্তুত করা হয়।

প্রথম ধাপে ধাপে পণ্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় বাদ দিয়ে মোট মুনাফা নির্ণয় করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে মোট মুনাফার সাথে পরোক্ষ পরিচালন আয় যোগ করে সমষ্টি থেকে ব্যবসায়ের পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে পরিচালন মুনাফা নির্ণয় করা হয়।
তৃতীয় ধাপে পরিচালন মুনাফার সহিত নীট অপরিচালন আয়/ব্যয় (অপরিচালন আয়-অপরিচালন ব্যয়) যোগ করে নীট মুনাফা নির্ণয় করা হয়।

 

কয়েকটি ব্যয় নিয়ে আলোচনা

প্রাপ্ত কয়েকটি আয় নিয়ে আলোচনা :

১) প্রাপ্ত লভ্যাংশ: ব্যবসায়ের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ থাকলে তা বিভিন্ন কোম্পানীর শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়। সেই শেয়ার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ একটি আয়।
২) সুদ প্রাপ্তি: ব্যবসায়ের অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংকে বা লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হলে তা থেকে সুদ পাওয়া যায়

 

সম্পদ ও দায়ের শ্রেণী বিভাগের প্রয়োজন :

বিভিন্ন সম্পদের প্রকৃতি, ব্যবহার এবং উদ্দেশ্য বিভিন্ন রকমের। কোন্ সম্পদ তাড়াতাড়ি নগদে রূপান্তর করা যাবে এবং কোন সম্পদ স্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হবে তা জানা থাকলে বিভিন্ন শ্রেণীর সম্পদের ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে এবং প্রত্যেকটির  উপর পৃথকভাবে জোর দেয়া হবে। তেমনিভাবে, বিভিন্ন দায়ের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। কোন্ দায় তাড়াতাড়ি এবং কোনো দায় দেরিতে পরিশোধ করা হবে তা জানা যায় এবং দুই শ্রেণীর দায়ের ব্যবস্থাপনাও দুই রকমের হবে।
চলতি সম্পদ : যে সকল সম্পদ সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে ব্যবসায়ের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নগদ অর্থে রূপান্তরযোগ্য তাহাই চলতি সম্পদ। যেমন: নগদ ও ব্যাংকে জমা, দেনাদার, মজুদ পণ্য ইত্যাদি।
স্থায়ী সম্পদ : এ সকল সম্পদ দীর্ঘকাল ধরে ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হয়। এ গুলো বিক্রয়ের জন্য ক্রয় করা হয় নাই। জমি, দালানকোঠা, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ইত্যাদি স্থায়ী সম্পদের উদাহরণ ।
চলতি দায় : যে দায় এক বছরের মধ্যে পরিশোধ হবে তা চলতি দায় বা স্বল্পমেয়াদী দায়। যেমন : পাওনাদার, বকেয়া খরচ ইত্যাদি।
দীর্ঘমেয়াদী দায় : যে দায় দীর্ঘ সময়ের জন্য নেয়া হয়েছে তা স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী দায়। যেমন: মেয়াদী ব্যাংক ঋণ, বন্ধকী ঋণ ইত্যাদি।

আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরণে হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালার প্রয়োগ

বিশদ আয় বিবরণী এবং আর্থিক অবস্থার বিবরণী প্রস্তুতকরণে হিসাববিজ্ঞানের কিছু নিয়ম-নীতি মানা হয়। সঠিকভাবে লাভ-ক্ষতি এবং সম্পদ ও দায়-দেনার পরিমাণ নিরূপণ করতে হলে এই নিয়ম-নীতি অনুসরণ অবশ্য করণীয়।

আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতকরনে বিবেচ্য সমন্বয়সমূহ 

যে সময়ের জন্য আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা হয় সে সময়ের সকল ব্যয় পরিশোধিত এবং অপরিশোধিত উভয়ই আর্থিক বিবরণীতে দেখাতে হবে। তেমনিভাবে, আয় যা পাওয়া গেছে এবং পাওনা রয়েছে উভয়ই হিসাবভূক্ত করতে হবে। তবে আগের বছর এবং পরের বছরের কোন আয়-ব্যয় চলতি বছরের আয় বলে গণ্য করা যাবে না।
আমরা জানি রেওয়ামিলের হিসাবঘরের ব্যালেন্সসমূহ নিয়ে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা হয়। তবে বিভিন্ন কারণে কিছু হিসাবখাত সংশ্লিষ্ট বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ নাও হতে পারে। রেওয়ামিল প্রস্তুত করার পর যখন এই আইটেমগুলো ধরা পড়বে তখন ঐ হিসাবখাতকে পূর্ণাঙ্গ (সংশ্লিষ্ট বছর সংক্রান্ত) করে তুলার জন্য সমন্বয় জাবেদা দেয়া
হয়।

ঝটপট এই সহজ প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিয়ে দাও!