এসএসসি হিসাববিজ্ঞান

খতিয়ান

Supported by Matador Stationary

লেনদেনসমূহকে প্রাথমিকভাবে লিপিবদ্ধের পর হিসাবের শ্রেণি অনুযায়ী যথাযথ হিসাবে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। সারা বছর বিভিনড়ব সময়ে নগদে ও বাকিতে পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় করা হয়। ক্রয় জাবেদা হতে বাকিতে ক্রয় এবং নগদান বই হতে নগদ ক্রয় একত্রিত করা ব্যতিত মোট ক্রয় জানা সম্ভব নয়। খতিয়ান বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ক্রয়, বিক্রয় ও অন্যান্য আয়-ব্যয় সমূহকে একত্রিত করে মোট ক্রয়, মোট বিক্রয় এবং অন্যান্য সকল আয় ও ব্যয়ের মোট পরিমাণ নির্ণয়ে সাহায্য করে। হিসাবের উদ্বৃত্ত নির্ণয়ের প্রক্রীয়া জানা এবং হিসাবের উদ্বৃত্তের ভিত্তিতে গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করা এই অধ্যায়ের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত।

খতিয়ানের ধারণা:

সারিবদ্ধ ও শ্রেণীবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরণের বস্তু সাজিয়ে রাখা হলে সহজেই নির্দিষ্ট বস্তু খুঁজে বের করা এবং তার পরিমাণ সম্পর্কেও অবগত হওয়া যায়। লেনদেন প্রাথমিকভাবে জাবেদায় লেখার পর স্থায়ী বা পাকা ভাবে খতিয়ানে সারিবদ্ধ ও শ্রেণিবদ্ধভাবে লিখে রাখা হয়। জাবেদা হতে লেনদেনের সামগ্রিক ফলাফল এবং আর্থিক অবস্থায় জানা সম্ভব নয়। খতিয়ানে একই জাতীয় বা একই শ্রেণির লেনদেনগুলোকে পৃথক পৃথক শিরোনামে লিপিবদ্ধ করা হয়। প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির হিসাব যেমন: সম্পদ, দায়, মালিকের মালিকানা সত্ত্ব, আয়, ব্যয় প্রভৃতি হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। এই সকল হিসাব সমূহকে এক কথায় খতিয়ান বলা হয়।

বৈশিষ্ট্য:

1.  প্রতিটি হিসাবের শিরোনাম প্রদান করা হয়।

 2. খতিয়ানে সংরক্ষিত হিসাব প্রস্তুতে ‘ঞ’ বা ‘চলমান জের ছক’ অনুসরণ করা হয়।

 3. প্রতিটি হিসাবের পৃথক জের/ উদ্বৃত্ত নির্ণয় করা হয়।

 4. খতিয়ান প্রস্তুতে জাবেদা সহায়ক বহি স্বরূপ কাজ করে। খতিয়ানে লিপিবদ্ধের সময় জাবেদা পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করা হয়।

 5. খতিয়ান হতে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত সংরক্ষিত হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাইয়ে সহায়তা করে।

খতিয়ানের উদ্বৃত্ত দ্বারা রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয়।

খতিয়ানের গুরুত্ব

লেনদেনসমূহ সুশৃঙ্খল ভাবে সাজিয়ে লিখে রাখা হয় বিধায় হিসাবতথ্য ব্যবহারকারিগণ সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খতিয়ান হতে পেতে পারে। খতিয়ান হতে ব্যবসায়ের মোট আয়, মোট ব্যয়, মোট সম্পদ ও মোট দায়ের পরিমান সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব। রেওয়ামিল প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্বৃত্ত খতিয়ান হতে সংগ্রহ করে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা হয়। খতিয়ানের গুরুত্ব ও উপকারিতা প্রকাশের জন্য একটি কথাই প্রচলিত রয়েছে-‘খতিয়ান হিসাবের সকল বইয়ের রাজা’।

জাবেদা ও খতিয়ানের পার্থক্য

জাবেদা ও খতিয়ান উভয়ই হিসাব চক্রের দু’টি ধাপ। খতিয়ান জাবেদা অপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যবহার উপযোগী। জাবেদা বই সংরক্ষন ঐচ্ছিক হলেও খতিয়ান প্রস্তুত বাধ্যতামূলক। খতিয়ানের উদ্বৃত্ত হতে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক অবস্থা নিরূপন সহজ হয়। জাবেদা ও খতিয়ান প্রস্তুতে ব্যবহৃত ছকের মাঝে যথেষ্ট অমিল রয়েছে। জাবেদায় শুধুমাত্র লেনদেনের ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ শনাক্তকরণ করা হয়, অপরদিকে খতিয়ানে প্রতিটি হিসাবের মোট ডেবিট ও মোট ক্রেডিট পার্থক্যকরণের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত নির্ণয় করা হয়। খতিয়ান সুষ্ঠ ও নির্ভুলভাবে প্রস্তুতের জন্য জাবেদা সহায়ক বই স্বরূপ কাজ করে।

সাধারণ খতিয়ান :

নগদান হিসাব, মূলধন হিসাব, ক্রয় হিসাব, বিক্রয় হিসাব, আসবাবপত্র হিসাব, দেনাদার হিসাব, পাওনাদার হিসাব প্রভৃতি সাধারণ খতিয়ান। প্রতিষ্ঠানে একাধিক দেনাদার ও পাওনাদার বিদ্যমান। সাধারণ খতিয়ানের মধ্য হতে শুধুমাত্র দেনাদার ও পাওনাদার হিসাবদ্বয়কে মূল হিসাব  নামে অভিহিত করা হয় ; কারণ দেনাদার ও পাওনাদার উভয় হিসাব দেনাদারবৃন্দ ও পাওনাদারবৃন্দের সমষ্টি।

সহকারী খতিয়ান :

সাধারণ খতিয়ানের বাইরে প্রতিটি দেনাদার ও প্রতিটি পাওনাদারের জন্য স্বতন্ত্র খতিয়ান তৈরি করা হয়, যাতে করে নির্দিষ্টভাবে কোন দেনাদার হতে কত টাকা পাওনা এবং কোন পাওনাদারের নিকট কত টাকা দেনা রয়েছে সহজে জানা যায়। প্রতিটি দেনাদার ও পাওনাদারের জন্য প্রস্তুতকৃত খতিয়ানকে সহকারী খতিয়ান বলা হয়।

চলো এবার ঝটপট এই সহজ কুইজটির উত্তর দিয়ে দাও