এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

আমি কোনো আগন্তুক নই

Supported by Matador Stationary
10 minute school bangla smartbook
আমি কোনো আগন্তুক নই

লেখক: আহসান হাবীব

আসমানের তারা সাক্ষী
সাক্ষী এই জমিনের ফুল,
এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
সাক্ষী এই জারুল জামরুল,
সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি
মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি
ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে
এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা–
সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই। এই
খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের
পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো আত্মীয় নই।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী
সাক্ষী তার চিরোল পাতার
টলমল শিশির-
সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা
নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী
তার ক্লান্ত চোখের আঁধার-
আমি চিনি,
আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন। আমি
জমিলার মা’র
শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি
সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো
আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর। দেখো
মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে
লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই।
দু’পাশে ধানের ক্ষেত
সরু পথ
সামনে ধু ধু নদীর কিনার
আমার অস্তিত্বে গাঁথা।
আমি এই উধাও নদীর
মুগ্ধ এক অবোধ বালক।

জন্মভূমির সবকিছুই আমাদের কাছে মনে হয় কত চেনা, কত জানা। এই অনুভূতি তুলনাহীন এবং জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আজীবনের। চারপাশের প্রকৃতিকে আপন সত্ত্বায় অনুভব করলে দেশের মানুষকেও আপন মনে হয় আমাদের। এই কবিতায় সেই অনুভবই আন্তরিকভাবে তুলে ধরেছেন কবি আহসান হাবীব। তিনি বলছেন, তিনি কোনো আগন্তুক নন। তিনি যেমন ঐ আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙাকে চেনেন, তেমনি তারাও তাকে চেনে। শুধু প্রকৃতিই নয়, তিনি এই জনপদের মানুষদেরও ভালোভাবে চেনেন। কবি অনুভব করেন, যে লাঙল জমিতে ফসল ফলায়, সেই লাঙল আর মাটির গন্ধ লেগে আছে তাঁর হাতে, শরীরে। এই গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে তাঁর জীবন বাঁধা এবং এটাই হচ্ছে তাঁর অস্তিত্ব। জন্মভূমির সঙ্গে একজন মানুষ যে গভীরভাবে সম্পর্কিত সে কথাটিই মূলত কবি এখানে বুঝিয়েছেন।

আহসান হাবীব
◈ জন্ম- ১৯১৭ সালের ২রা জানুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
◈ বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে আই এ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।
◈ পেশায় ছিলেন একজন সাংবাদিক।
◈ গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদ তাঁর কবিতাকে এক বিশেষ ব্যঞ্জনা দান করেছে।
◈ তিনি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং আর্তমানবতার সপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন।
◈ সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক পুরস্কার লাভ করেন।
◈ প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষ।
◈ উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, আশায় বসতি, সারা দুপুর, ছায়াহরিণ।
◈ ছোটদের জন্য তাঁর কবিতার বই- জোছনা রাতের গল্প, ছুটির দিন দুপুরে।
◈ কিশোরপাঠ্য উপন্যাস- রানী খালের সাঁকো।
◈ মৃত্যু- ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক থাকাকালে ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

চলো এবার দিয়ে ফেলি ছোট একটি কুইজ!