এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

কপোতাক্ষ নদ

Supported by Matador Stationary
10 minute school bangla smartbook
কপোতাক্ষ নদ

লেখক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত

সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে!
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;

সতত (যেমতি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া-মন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!

বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে

দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।

আর কি হে হবে দেখা?- যত দিন যাবে,
প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
বারি-রূপ কর তুমি;
এ মিনতি, গাবে
বঙ্গজ জনের কানে, সখে, সখা-রীতে
নাম তার,
এ প্রবাসে মজি প্রেম-ভাবে
লইছে যে নাম তব বঙ্গের সঙ্গীতে।

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের চতুর্দশপদী কবিতাবলি থেকে নেয়া হয়েছে। এই কবিতায় স্মৃতিকাতরতার মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। কবি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই নদীর তীরের প্রাকৃতিক পরিবেশেই বড় হয়েছেন কবি। যখন তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন, তখন তাঁর শৈশবের বেদনা-বিধুর স্মৃতি মনে জাগিয়েছে কাতরতা। দূরে বসেও যেন তিনি শুনতে পান কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি। কত দেশে কত নদ-নদী তিনি দেখেছেন, কিন্তু জন্মভূমির এই নদ যেন মায়ের স্নেহডোরে তাঁকে বেঁধেছে এবং এ জন্যই কিছুতেই তিনি ভুলতে পারেন না এই নদকে। কবির মনে সন্দেহ জাগে আর কি তিনি এই নদের দেখা পাবেন! কপোতাক্ষ নদের কাছে তাঁর মিনতি- তিনি যেমন মমতার সাথে স্নেহাদরে এই নদকে স্মরণ করেন, তেমনি ঠিক একইভাবে এই নদও যেন তাঁকে স্মরণ করে। কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের জন্য হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীদের নিকট ব্যক্ত করে।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
◈ জন্ম: ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
◈ স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং এখানে পড়ার সময়ই ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র ভালো লাগা কাজ করতে শুরু করে।
◈ ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন এবং তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় মাইকেল।
◈ পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় প্রেরণা যোগায়।
◈ তবে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনার মধ্য দিয়েই তাঁর কবিপ্রতিভার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে।
◈ বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
◈ ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য’ তাঁর অমর কীর্তি। এ ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
কাব্যগ্রন্থ: তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও চতুর্দশপদী কবিতাবলি
নাটক: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী
প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
◈ মৃত্যু: ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন

চলো এবার নিজেকে ঝালাই করে নেই!