এসএসসি বাংলা ১ম পত্র

অন্ধবধূ

Supported by Matador Stationary
10 minute school bangla smartbook
অন্ধবধূ

লেখক: যতীন্দ্রমোহন বাগচী

পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী!
আস্তে একটু চল না ঠাকুরঝি —

ওমা, এ যে ঝরা-বকুল! নয়?
তাইতো বলি, বসে দোরের পাশে,
রাত্তিরে কাল — মধুমদির বাসে
আকাশ-পাতাল — কতই মনে হয়।

জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাই —
আমের গায়ে বরণ দেখা যায়?

—অনেক দেরি? কেমন করে হবে !
কোকিল-ডাকা শুনেছি সেই কবে,
দখিন হাওয়া —বন্ধ কবে ভাই;

দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে —
শ্যাওলা-পিছল — এমনি শঙ্কা লাগে,
পা-পিছলিয়ে তলিয়ে যদি যাই!

মন্দ নেহাত হয়না কিন্তু তায় —
অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যায়!

দুঃখ নাইকো সত্যি কথা শোন ,
অন্ধ গেলে কী আর হবে বোন?

বাঁচবি তোরা — দাদা তো তার আগে?
এই আষাঢ়েই আবার বিয়ে হবে,

বাড়ি আসার পথ খুঁজে’ না পাবে —
দেখবি তখন — প্রবাস কেমন লাগে?

‘চোখ গেল’ ওই চেঁচিয়ে হলো সারা।
আচ্ছা দিদি, কী করবে ভাই তারা —
জন্ম লাগি গিয়েছে যার চোখ!
কাঁদার সুখ যে বারণ তাহার — ছাই!

কাঁদতে পেলে বাঁচত সে যে ভাই,
কতক তবু কমত যে তার শোক!

’চোখ’ গেল – তার ভরসা তবু আছে —‌‌‍‍‍‌
চক্ষুহীনার কী কথা কার কাছে!
টানিস কেন? কিসের তাড়াতাড়ি —
সেই তো ফিরে যাব আবার বাড়ি,
একলা-থাকা-সেই তো গৃহকোণ —

তার চেয়ে এই স্নিগ্ধ শীতল জলে
দুটো যেন প্রাণের কথা বলে —

দরদ-ভরা দুখের আলাপন;
পরশ তাহার মায়ের স্নেহের মতো
ভুলায় খানিক মনের ব্যথা যত!

যারা চোখে দেখতে পায়না সমাজ তাদের অবজ্ঞা করে এবং দৃষ্টিহীনরা নিজেরাও নিজেদের অসহায় ভেবে থাকে। কিন্তু ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে এই প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায়। পায়ের নিচে নরম কোনো বস্তুর অস্তিত্ব, কোকিলের ডাক শুনে নতুন ঋতু আসছে তা অনুমান করা, শ্যাওলায় পা রেখে নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার কথা বুঝতে পারা দৃষ্টিহীন হয়েও কিন্তু সম্ভব। কবিতার বধূটি চোখে দেখতে পায়না তবে অনুভবে সে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। তাই দৃষ্টিহীন হলে নিজেকে অসহায় না ভেবে, শুধুই ঘরের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করা প্রয়োজন।
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
◈ জন্ম- ১৮৭৮ সালের ২৭শে নভেম্বর নদীয়া জেলার জামশেদপুর গ্রামে।
◈ ‘পথের পাঁচালী’র বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কবি জীবনানন্দ দাশের মত তাঁর কাব্য চিত্ররূপময়।
◈ তাঁর রচনায় গ্রাম বাংলার শ্যামল স্নিগ্ধ রূপের কথা আমরা দেখতে পাই।
◈ উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- লেখা, রেখা, অপরাজিতা, নাগকেশর, বন্ধুর দান, জাগরণী, নীহারিকা ও মহাভারতী।
◈ মৃত্যু- ১৯৪৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

চলো এবার দিয়ে ফেলি ছোট একটি কুইজ!