এসএসসি জীববিজ্ঞান

গ্যাসীয় বিনিময়

Supported by Matador Stationary

প্রথমেই তোমাদের একটা গল্প শোনাই। আমার এক ভীতু বন্ধুর গল্প। তার একদিন ভারী মন খারাপ। সবাই তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। নাহ, আর মেনে নেওয়া যাচ্ছে না! এবার সে ঠিক করলো আমাদের সবাইকে সে তার সাহসের প্রমাণ দিয়েই ছাড়বে। নদীর পাশে যে বড় তেঁতুল গাছটা আছে তার নিচে এক রাত্তির কাটিয়ে আসবে সে।

শুনে আমাদেরই ভয়ে আঁতকে উঠার মত অবস্থা। তেঁতুল গাছটার আসলে খুব দুর্নাম। লোকমুখে শোনা যায় এক শাঁকচুন্নি নাকি সেখানে বাসা বেঁধেছে। রাত্রিবেলা তাই কেউ ভুলেও গাছটার ছায়া মাড়ায় না। কিন্তু বন্ধুকে তো কিছুতেই বিপদের কথা বোঝাতে পারি না। সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ- যাবেই। তো সন্ধ্যা নামতেই লেপ-কোলবালিশ নিয়ে তেঁতুল গাছের উদ্দেশ্যে তার প্রস্থান। এদিকে আমরা চিন্তায় ভুগে ভুগে মরছি।

এক ঘণ্টা যায়, দুই ঘণ্টা যায়, আমরা তো ভেবে রেখেছি ভয় পেয়ে ভীতুর হদ্দ এর মাঝেই ফিরে আসবে। কিন্তু এ কী ব্যাপার! যখন বন্ধুর ফেরার আসা প্রায় ছেড়েই দিয়েছি তখনই কাঁপতে কাঁপতে বন্ধুর প্রবেশ। হলো কী রে? কোনো দুর্ঘটনা ঘটে নি তো? আমাদের জ্বলন্ত জিজ্ঞাসা, সাথে বন্ধুর স্বতন্ত্র উত্তর, “আসলে আমার খুব ভয় লাগছিলো তো, তাই ভাবলাম ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমিয়ে গেলে তো আর ভয় লাগবে না! প্রথমদিকে সব ঠিকই ছিল, ঘুমিয়েও পড়েছিলাম, কিন্তু তারপর……” , “তারপর কী?”, একযোগে আমাদের চিৎকার। “তারপর না আমার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হওয়া শুরু করলো। আস্তে আস্তে সেটা বাড়তে লাগলো। একটুর জন্য শাঁকচুন্নির খপ্পর থেকে বেঁচে ফিরেছি রে, দোস্ত। কানে ধরছি, আর ওদিকে ভুলেও পা বাড়াবো না।”

এদিকে আমরা সবাই যখন ভূতের গল্পটাকে সত্যি বলে ভাবছি, তখন আমাদের বন্ধুমহলের বিজ্ঞানী বন্ধুটি জোর গলায় এর প্রতিবাদ করে উঠলো। উদ্ভিদ আর প্রাণীর গ্যাসীয় বিনিময় নিয়ে বেশ বড়সড় একটা বক্তৃতা দিয়ে বুঝিয়ে দিল আমাদের ভীতু বন্ধুর শ্বাসকষ্ট হওয়ার সাথে তেঁতুল গাছের শাঁকচুন্নির কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞানী বন্ধুটির সেই বক্তৃতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তবে পড়ে ফেলো এই স্মার্টবুকটি।

উদ্ভিদে গ্যাসীয় বিনিময়

উদ্ভিদ পাতার স্টোমাটা ও কাণ্ডের লেন্টিসেল-এর মাধ্যমে O₂, CO₂ ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় ঘটে। মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাসীয় বিনিময় হয়ে থাকে। এরা হলো:

মানব শ্বসনতন্ত্র

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


 

সঠিক স্থানে ক্লিক করে মানব শ্বসনতন্ত্রের অংশগুলো চিহ্নিত করে নাও


 


শ্বাসক্রিয়া

শ্বাসক্রিয়া বা শ্বসন এক ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণিদেহের খাদ্যবস্তু বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে মজুত শক্তিকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করে ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করে। অর্থাৎ সহজ কথায়, যে প্রক্রিয়া দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করা হয় তাকেই বলে শ্বাসক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটিকে একটি সরল বিক্রিয়া দিয়ে প্রকাশ করা যায় :

    C₆H₁₂O₆      +       6O₂          →    6CO₂                  +    6H₂O       +   ATP

     গ্লুকোজ              অক্সিজেন         কার্বন ডাই-অক্সাইড            পানি              শক্তি

শ্বাসক্রিয়াকে আমরা দুটি পর্যায়ে ভাগ করতে পারি :


গ্যাসীয় বিনিময়কে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়:

মোবাইলের স্ক্রিনটি রোটেট করে শূন্যস্থানে সঠিক শব্দটি ড্র্যাগ করে বসিয়ে নাও

 


শ্বাসনালি সংক্রান্ত রোগ

বিভিন্ন ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ ধরনের রোগ হয়ে থাকে। বায়ুদূষণ, বিভিন্ন প্রকার ভাসমান কণা এবং রাসায়নিকের প্রভাবেও অনেক সময় কিছু শ্বাসনালি সংক্রান্ত রোগ দেখা দিতে পারে। যেমনঃ

মোবাইলের ডানে বামে swipe করে দেখে নাও। পুরো স্ক্রিনজুড়ে দেখতে এখনই স্ক্রিনটি রোটেট করে নাও 

অ্যাজমা বা হাঁপানি(Asthma)


ব্রঙ্কাইটিস(Bronchitis)


নিউমোনিয়া(Pneumonia)


যক্ষ্মা (Tuberculosis)


ফুসফুসের ক্যান্সার (Lung cancer)


সঠিক ছবিগুলো মিলিয়ে নাও


এবার তাহলে সঠিক উত্তরগুলো চিহ্নিত করে নাও


 

আমাদের ভীতু বন্ধুটি তো তাহলে ভয়ের ব্যাখ্যা পেয়ে গেলো, এই স্মার্টবুকটির মাধ্যমে। তোমরাও এর ব্যাখ্যা শেয়ার করে জানিয়ে দাও তোমাদের বন্ধুদের।