এসএসসি রসায়ন

খনিজ সম্পদঃ জীবাশ্ম

Supported by Matador Stationary

এই পৃথিবীর সকল প্রাণীর নরম এবং কঠিন অংশ থাকে। যেমন- আমদের দেহের হাড়, মাথার খুলি শক্ত অংশ। আর আমাদের চামড়া, মাংস নরম অংশ যা সহজেই পচনশীল। এটি সকল প্রাণীর জন্য প্রযোজ্য। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর লাগে, সাধারণত ৬৫০ মিলিয়ন বছর।

জীবাশ্ম = জীব+ অশ্ম। জীব কথাটার মানে আমাদের সবারই জানা। অর্থাৎ, জীবন আছে যার, তাই হলো জীব। আর অশ্ম মানে হল পাথর বা পাথুরে জাতীয় কিছু। জীবের যে অংশ নষ্ট না হয়ে শক্ত, প্রস্থরীভূত হয়ে হাজার হাজার, এমনকি লক্ষ বা কোটি বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে সেই অংশটাই হল জীবাশ্ম। কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসকে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। কয়লা কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। পেট্রোলিয়াম মূলত হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, এতে হাইড্রোকার্বন ছাড়া অন্যান্য কিছু জৈব যৌগ থাকে।

পেট্রোলিয়ামের উপাদান

 

সঠিক শব্দটি টেনে শূণ্যস্থানে বসাও


 

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


 

 

সমগোত্রীয় শ্রেণি

সকল হাইড্রোকার্বনকে কিছু সমগোত্রীয় শ্রেণি-তে ভাগ করা হয়েছে যাতে আমরা সহজে সেসব মনে রাখতে পারি। তাহলে চলো এখন দেখে নেয়া যাক।

 


 

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


 

হাইড্রোকার্বনসমূহের ধর্ম

সকল হাইড্রোকার্বনের ভৌত ধর্ম নিয়ে আলোচনা

অ্যালকেন অ্যালকিন অ্যালকাইন অ্যালকোহল অ্যালডিহাইড কার্বক্সিলিক এসিড
C1-C4 = গ্যাস
C5-C15= তরল
C16 কঠিন
C2-C4 = গ্যাস
C5-C15 = তরল
C16 কঠিন
C2-C4 = গ্যাস
C5-C12 = তরল
C13 < কঠিন
C1-C12 = তরল;
উচ্চতরগুলো মোম সদৃশ কঠিন।
C1-C2 = গ্যাস
C3-C11 = তরল
উচ্চতর সদস্য কঠিন।
C1-C9 = তরল; উচ্চতরগুলো মোম সদৃশ কঠিন।
বর্ণহীন, গন্ধহীন। বর্ণহীন, গন্ধহীন (শুধুমাত্র ইথিলিনের সুগন্ধ আছে) বর্ণহীন, গন্ধহীন। বর্ণহীন, নিম্নতরগুলো মৃদু মিষ্টিগন্ধযুক্ত, মধ্যবর্তীগুলো অপ্রীতিকর ও উচ্চতরগুলো গন্ধহীন। বর্ণহীন,নিম্নতরগুলো উগ্র গন্ধ-বিশিষ্ট, উচ্চতর (C8-C13) সুমিষ্ট। বর্ণহীন, নিম্নতরগুলো ঝাঁঝালো গন্ধ-বিশিষ্ট, উচ্চতরগুলো গন্ধহীন।
পানিতে অদ্রবণীয়। পানিতে অদ্রবণীয়। পানিতে অদ্রবণীয়। যেকোনো অনুপাতে পানিতে দ্রবণীয়। নিম্নতরগুলো পানিতে অধিক দ্রবণীয়, উচ্চতরগুলো
পানিতে অদ্রবণীয়।
পানিতে দ্রবণীয়।

এখন চলো এসব হাইড্রোকার্বন কিভাবে প্রস্তুত হয় তা দেখে নেই। সমগোত্রীয় শ্রেণির মধ্যে অ্যালকেন কিভাবে প্রস্তুত করা যায় তা দেখে নেই।

মোবাইলে স্ক্রিনে ডানে ও বামে swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি। পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্যও স্লাইডের নিচে পাবে আলাদা একটি বাটন।


 

অ্যালকেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া

নিচের অপশনগুলো সঠিক স্থানে টেনে বসিয়ে দাও।


 

অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের প্রস্তুতি

অ্যালকিন অ্যালকাইন
ইথাইল ক্লোরাইডের সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জলীয় দ্রবণকে উত্তপ্ত করলে ইথিন, সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং পানি উৎপন্ন হয়।
CH3-CH2-Cl + NaOH → CH2=CH2 + NaCl + H2O
প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেনকে 1500° C তাপমাত্রায় বায়ুর উপস্থিতিতে দহন করলে ইথাইন উৎপন্ন হয়। মিথেনের আংশিক দহন থেকে এই বিক্রিয়ার প্রয়োজনীয় তাপ পাওয়া যায়। বিক্রিয়ার সময় মিথেন অণুতে বন্ধন ভাঙা-গড়ার মাধ্যমে ইথাইন উৎপন্ন হয়।
2CH4 +3/2 O2 → CH≡CH + 3H2O + তাপ
ইথানলকে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের উপস্থিতিতে উত্তপ্ত করলে বা সালফিউরিক এসিড দ্বারা নিরুদিত করলে পানি অপসারিত হয়ে ইথিলিন বা ইথিন উৎপন্ন করে।
CH3CH2OH → CH2 = CH2
শিল্পক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে ইথাইন গ্যাস প্রস্তুত করা হয়। ক্যালসিয়াম কার্বাইডে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি যোগ করলে ইথাইন বা অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
CaC2 + 2H2O → CH≡CH + Ca(OH)2