এসএসসি রসায়ন

রাসায়নিক বিক্রিয়া

Supported by Matador Stationary

একদিন সন্ধ্যায় মিলা পড়ছিলো। হঠাৎ কারেন্ট চলে যায় এবং সে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে বসলো। কিছুক্ষণ পড়ার পর সে খেয়াল করলো, মোমবাতিটি প্রায় শেষ হয়ে গেলো। তখন সে মোমবাতির এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে তার বইয়ের রাসায়নিক বিক্রিয়া অধ্যায়টি পড়ে দেখলো,  মোমকে দহন করলে উত্তাপে কিছু মোম গলে তরল মোমে পরিণত হয়, আবার ঠাণ্ডা করলে কঠিন মোমে ফিরে আসে। এটি ভৌত পরিবর্তন। মোমবাতির দহনে অধিকাংশ মোম বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয়বাষ্প উৎপন্ন করে। মোম জৈব পদার্থ, যা কার্বন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু দহনে উৎপন্ন পদার্থ দু’টি অজৈব পদার্থ। অর্থাৎ, দহনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয়বাষ্প পদার্থ দু’টি মোম ও অক্সিজেন পদার্থ হতে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। সুতরাং, এটি রাসায়নিক পরিবর্তন। মোমবাতির দহনে ভৌত ও রাসায়নিক উভয় ধরণের পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত। মোবাইল স্ক্রিনে দেখতে এখনই স্ক্রিনটি রোটেট করে নাও

জারন-বিজারণ যুগপৎ বিক্রিয়া

সঠিক শব্দটি টেনে শূণ্যস্থানে বসাও

জারণ সংখ্যা ও যোজনীর মধ্যে তুলনা

জারণ সংখ্যা যোজনী
যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌল যত সংখ্যক ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে অথবা যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন উৎপন্ন করে তাকে মৌলের জারণ সংখ্যা বলে। যোজনী দ্বারা মৌলিক পদার্থ বা কোনো যোগমৌলের আরেকটি মৌলিক পদার্থ বা যৌগমৌলের সঙ্গে বিক্রিয়ার ও যৌগ গঠনের ক্ষমতাকে বোঝায়।
জারণ সংখ্যা শূন্য বা ভগ্নাংশও হতে পারে। যোজনী সর্বদা পূর্ণ সংখ্যা হয়।
এটি চার্জ যুক্ত অর্থাৎ ধনাত্মক বা ঋণাত্মক হতে পারে। এদের কোন চার্জ থাকে না।
একই মৌলের জারণ সংখ্যা বিভিন্ন যৌগে বিভিন্ন হয়ে থাকে। কোন মৌলের যোজনী সাধারণত নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে। যেমন- S এর যোজনী 6, 8 হয়ে থাকে।

জারণ সংখ্যা নির্ণয়

যে সকল উভমুখী বিক্রিয়ায় তাপের পরিবর্তন হয় সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর তাপের প্রভাব থাকে। উভমুখী বিক্রিয়ার সম্মুখমুখী অংশটি তাপোৎপাদী এবং বিপরীত বিক্রিয়াটি তাপহারী। এই বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থা বাম দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্রিয়কের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। অর্থাৎ তাপহারী বিক্রিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে তাপ বৃদ্ধিজনিত ফলাফল প্রশমিত করবে। একইভাবে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় তাপমাত্রা হ্রাস করলে সাম্যবস্থা ডান দিকে অগ্রসর হবে। অর্থাৎ তাপউৎপাদী বিক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। যে সকল উভমুখী বিক্রিয়ায় তাপের পরিবর্তন হয় না সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর তাপের প্রভাব নেই।গ্যাসীয় বিক্রিয়ায় সাম্যবস্থায় চাপ পরিবর্তন করলে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার পরিবর্তন হয়। যে সকল বিক্রিয়াব গ্যাসীয় অণুর সংখ্যা পরিবর্তন হয় (হ্রাস/বৃদ্ধি) হয় সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর চাপের প্রভাব রয়েছে। বিক্রিয়াটি সম্মুখমুখী হলে অণুর সংখ্যা হ্রাস পায়। ফলে একই আয়তনে চাপ হ্রাস পায়। বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় চাপ বৃদ্ধি করলে সাম্যবস্থা ডান দিকে অগ্রসর হয়। অর্থ্যাৎ সম্মুখমুখী বিক্রিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে চাপ হ্রাস করবে এবং চাপ বৃদ্ধিজনিত ফলাফল প্রশমিত করবে। বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় চাপ হ্রাস করলে সাম্যবস্থা বাম দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্রিয়কের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। যে সকল বিক্রিয়ায় গ্যাসীয় অণুর সংখ্যার পরিবর্তন হয় না সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর চাপের প্রভাব নেই।
সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার প্রভাব রয়েছে। বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় যে কোন একটি বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি করলে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থা ডান দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা হ্রাস করে পরিবর্তনের ফলাফলকে প্রশমিত করে এবং উৎপাদের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। একইভাবে সাম্যবস্থায় যে কোন একটি উৎপাদের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি করলে সাম্যবস্থা বাম দিকে অগ্রসর হয়ে উৎপাদের পরিমাণ হ্রা্স করে।

 

১) ধাতুর ও অধাতুর জারণ সংখ্যা যথাক্রমে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক।
২) নিরপেক্ষ পরমানু,মুক্ত মৌল এবং যৌগের পরমাণুর মোট জারণ সংখ্যা শূন্য হয়।
৩) চার্জযুক্ত আয়নে পরমাণুসমূহের মোট জারণ সংখ্যা চার্জের সমান।
৪) ক্ষারধাতু (Na, K) ও মৃৎক্ষার ধাতুর (Mg, Ca) জারণ সংখ্যা যথাক্রমে +১, + ২। (যেমন- NaCl, MgCl2)
৫) ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -১। (যেমন- NaF)
৬) বেশিরভাগ যৌগে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +১, কিন্তু ধাতব হাইড্রাইডে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -১ হয়।
৭) বেশিরভাগ যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -২, কিন্তু পার অক্সাইডে -১ এবং সুপার অক্সাইডে -১/২ হয়।

কিভাবে কোন মৌল, জটিল যৌগ ও যৌগমূলক থেকে জারণ সংখ্যা বের করতে হয় তা জেনে নিতে নিচের লিঙ্কটিতে ক্লিক করে দেখে নাও।

ইলেকট্রনের স্থানান্তরের ভিত্তি-তে রাসায়নিক বিক্রিয়া

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত। মোবাইল স্ক্রিনে দেখতে এখনই স্ক্রিনটি রোটেট করে নাও

বিশেষ কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া

ঝটপট দিয়ে ফেলো নিচের কুইজটি 

বাস্তবে ঘটা কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়ার উদাহরণ

মোবাইল স্ক্রিন swipe করে দেখে নাও বিস্তারিত 


১) মরিচা ক্ষয় রোধ করতে লোহার তৈরি জিনিসের উপর লোহা থকে কম সক্রিয় এমন একটি ধাতুর প্রলেপ দিয়ে ইলেক্ট্রোপ্লেটিং করতে হবে।
২) বর্ষাকালে বাড়ীর উঠানে ক্ষার জাতীয় পদার্থের কারণে পিচ্ছিল থাকে, তাই বালি (SiO2) ফেলে পিচ্ছিলতা কমানোর চেষ্টা করা হয়।
৩) সেলাই করার সুচ নারিকেল তেলে ডুবিয়ে রাখলে তা বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

বিক্রিয়ার হার বা গতিবেগ বিক্রিয়ার তাপমাত্রা, বিক্রিয়ার ঘনমাত্রা, বিক্রিয়কের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল এবং বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রভাবকের উপর নির্ভরশীল। বিক্রিয়ার তাপমাত্রা, বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা, বিক্রিয়কের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধির সাথে বিক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায়। প্রভাবক ব্যবহারে বিক্রিয়ার হার বৃদ্ধি এবং হ্রাস উভয়ই হতে পারে। বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রভাবকের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে হার বা গতিবেগ বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। এমনকি প্রভাবকের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে উৎপাদ ও ভিন্ন হয়।

বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় সম্মুখমুখী ও বিপরীতমুখী উভয় বিক্রিয়া চলমান থাকে। রাসায়নিক বিক্রিয়ার এই অবস্থায় উৎপাদের পরিমাণ বিক্রিয়ার নিয়ামক (তাপমাত্রা, চাপ ও বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা) দ্বারা প্রভাবিত হয়। উভমুখী বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় উৎপাদের পরিমাণ লা শাতেলিয়ারের নীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। লা শাতেলিয়ারের নীতি: উভমুখী বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় বিক্রিয়ার যে কোন একটি নিয়ামক (তাপমাত্রা, চাপ, বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা) পরিবর্তন (হ্রাস/বৃদ্ধি) করলে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থা এমনভাবে পরিবর্তন হয় যেন নিয়ামক পরিবর্তনের ফলাফল প্রশমিত হয়।

যে সকল উভমুখী বিক্রিয়ায় তাপের পরিবর্তন হয় সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর তাপের প্রভাব থাকে। উভমুখী বিক্রিয়ার সম্মুখমুখী অংশটি তাপোৎপাদী এবং বিপরীত বিক্রিয়াটি তাপহারী। এই বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থা বাম দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্রিয়কের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। অর্থাৎ তাপহারী বিক্রিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে তাপ বৃদ্ধিজনিত ফলাফল প্রশমিত করবে। একইভাবে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় তাপমাত্রা হ্রাস করলে সাম্যবস্থা ডান দিকে অগ্রসর হবে। অর্থাৎ তাপউৎপাদী বিক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। যে সকল উভমুখী বিক্রিয়ায় তাপের পরিবর্তন হয় না সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর তাপের প্রভাব নেই।

গ্যাসীয় বিক্রিয়ায় সাম্যবস্থায় চাপ পরিবর্তন করলে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার পরিবর্তন হয়। যে সকল বিক্রিয়াব গ্যাসীয় অণুর সংখ্যা পরিবর্তন হয় (হ্রাস/বৃদ্ধি) হয় সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর চাপের প্রভাব রয়েছে। বিক্রিয়াটি সম্মুখমুখী হলে অণুর সংখ্যা হ্রাস পায়। ফলে একই আয়তনে চাপ হ্রাস পায়। বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় চাপ বৃদ্ধি করলে সাম্যবস্থা ডান দিকে অগ্রসর হয়। অর্থ্যাৎ সম্মুখমুখী বিক্রিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে চাপ হ্রাস করবে এবং চাপ বৃদ্ধিজনিত ফলাফল প্রশমিত করবে। বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় চাপ হ্রাস করলে সাম্যবস্থা বাম দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্রিয়কের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। যে সকল বিক্রিয়ায় গ্যাসীয় অণুর সংখ্যার পরিবর্তন হয় না সে সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর চাপের প্রভাব নেই।

সকল বিক্রিয়ার সাম্যবস্থার উপর বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার প্রভাব রয়েছে। বিক্রিয়ার সাম্যবস্থায় যে কোন একটি বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি করলে বিক্রিয়ার সাম্যবস্থা ডান দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্রিয়কের ঘনমাত্রা হ্রাস করে পরিবর্তনের ফলাফলকে প্রশমিত করে এবং উৎপাদের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। একইভাবে সাম্যবস্থায় যে কোন একটি উৎপাদের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি করলে সাম্যবস্থা বাম দিকে অগ্রসর হয়ে উৎপাদের পরিমাণ হ্রাস করে।

দিয়ে ফেলো নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর

মিলা এখন রাসায়নিক বিক্রিয়ার ব্যাপারটি সহজেই বুঝতে পারলো। তোমরাও বুঝতে এবং তোমাদের বন্ধুদের বুঝাতে এখনই শেয়ার করো!