এসএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

আমার শিক্ষায় ইন্টারনেট

Supported by Matador Stationary

ডিজিটাল কনটেন্ট

কোনো তথ্য বা কনটেন্ট যদি ডিজিটাল উপাত্ত আকারে বিরাজ করে, প্রকাশিত হয় কিংবা প্রেরিত-গৃহীত হয় তাহলে সেটিই ডিজিটাল কনটেন্ট

ডিজিটাল কনটেন্ট কম্পিউটারের ফাইল আকারে অথবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্প্রচারিত হতে পারে। লিখিত তথ্য, ছবি, শব্দ, ভিডিও সব ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট হতে পারে।

ডিজিটাল কনটেন্ট –এর প্রকারভেদ

ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত যেকোনো তথ্য ছবি, শব্দ, কিংবা সবই ডিজিটাল কনটেন্ট। কাজেই নানাভাবে ডিজিটাল কনটেন্টকে শ্রেণিকরণ করা যায়। তবে, প্রধান চারটি ভাগে ডিজিটাল কনটেন্টকে ভাগ করা যায়।

চিত্রে (+) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে জেনে নিতে পারো বিস্তারিত!


ই-বুক

ই-বুক হলো মুদ্রিত বইয়ের ইলেকট্রনিক রূপ।

যেহেতু এটি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয় সে কারণে এতে শব্দ, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও জুড়ে দেওয়া যায়। এ ধরনের বই কেবল কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা বিশেষ ধরনের রিডার এর সাহায্যে পড়া যায়।

বিভিন্ন প্রকার ই-বুক

বর্তমানে ই-বুকের বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের প্রকাশনার জন্য বিভিন্ন ধরনের ই-বুক রয়েছে। তবে সাধারণভাবে ই-বুককে নিম্নোক্ত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়।

এই ধরনের ই-বুকগুলো মূলত মুদ্রিত বই যেমন, তেমনটি হয়ে থাকে। সচরাচর পিডিএফ ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়ে থাকে। সম্পূর্ণ বই একসঙ্গে অথবা অধ্যায় হিসাবে পাওয়া যায়।

এসকল বইয়ে কনটেন্ট ছাড়াও পাঠকের নিজের নোট লেখা, শব্দের অর্থ জানা ইত্যাদির সুবিধা থাকে। এগুলোর বেশিরভাগই ই-পাব ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়। এসব ই-বুকের কোনো কোনোটি কেবল বিশেষ ডিভাইসে পড়া যায়।

যে ই-বইগুলো কেবল অনলাইনে তথা ইন্টারনেটে পড়া যায় এগুলো সচরাচর এইচটিএমএল–এ প্রকাশিত হয়। এগুলোকে বই-এর ওয়েবসাইট বলা যায়।

এগুলো স্মার্ট বা চৌকস ই-বুক। অর্থাৎ এগুলোতে বই–এর লিখিত অংশ ছাড়াও অডিও/ভিডিও/এনিমেশন ইত্যাদি সংযুক্ত থাকে।

এগুলোর কনটেন্ট মাল্টিমিডিয়াতে সমৃদ্ধ। যেমন এতে থাকে কুইজ। কুইজের উত্তর করার ব্যবস্থাও থাকে এবং উত্তর সঠিক হয়েছে কিনা তাও ই-বুক থেকেই জানা যায়। এমনকি এসব ই-বুকে ত্রিমাত্রিক ছবিও যুক্ত থাকে। তোমরা এখন যা পড়ছো তাও একটি স্মার্ট বুক।

তবে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী বা নির্মাতারা এ সকল ই-বুক এমন ফরম্যাটে তৈরি করেন যা কেবল নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারে চলে।

এক্ষেত্রে ই-বুকটি নিজেই একটি অ্যাপস আকারে প্রকাশিত হয়। অ্যাপস ডাউনলোড করে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে পড়া যায়।

এখন অনেক বই কেবল ই-বুক আকারে প্রকাশিত হয়। এগুলো মুদ্রিত রূপ থাকে না। ফলে অনেকেই এখন আর ই-বুককে মুদ্রিত বইয়ের ইলেকট্রনিক সংস্করণ বলতে নারাজ। মুদ্রিত বই-এর মতো ই-বুকও কম্পিউটারের আওতায় প্রকাশিত হয়ে থাকে।


শিক্ষায় ইন্টারনেট

ইন্টারনেট থেকে শিক্ষামূলক কিছু অর্জন করার আগে আমাদের বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো-

ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে সবার প্রথমে একটি কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ দরকার। এগুলো খরচ সাপেক্ষ এবং আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের সবার জন্যে এটি ধরাছোঁয়ার ভেতরে নেই।

laptop and desktop computer
ইদানীং মানুষের ক্রয়সীমার ভেতরেই স্মার্টফোন চলে এসেছে যেগুলো দিয়ে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলোর স্ক্রিন ছোট বলে সাধারণ তথ্য দেখা এবং খুব সীমিত আকারে তথ্য আদান-প্রদান ছাড়া বিশেষ কিছু করা যায় না। তাই শিক্ষার জন্যে এটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

তবে ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোনের মাঝামাঝি একটি সম্ভবানা রয়েছে যেটি ট্যাবলেট নামে পরিচিত এবং সেটি শিক্ষার কাজে খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়। অনেক কোম্পানি এই ট্যাবলেটকে মাথায় রেখে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব, সেরকম অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে শুরু করেছে।

tablet
আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মনে রেখে আকাশ নামে এক ধরনের ট্যাবলেট তৈরি করেছে যার দাম মাত্র তিন হাজার টাকার ভেতরে। আমরা আশা করছি আমাদের দেশেও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ট্যাবলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করার উপযোগী যন্ত্র হাতে চলে এলেই আমরা কিন্তু ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারি না। তারপর প্রয়োজন হয় ইন্টারনেট সংযোগের।

দেশের সব জায়গায় সমানভাবে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, তাই সবাই সমানভাবে ইন্টারনেটে স্পিড পায় না এবং ইন্টারনেটের স্পিড কম হলে সেটি ব্যবহার করা অনেক সময়েই অর্থহীন হয়ে যায়। আবার ভালো স্পিডের ইন্টারনেট পেতে হলে যে পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয় সেটি আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে।
কাজেই শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে আমাদেরকে এই ইন্টারনেট সংযোগটি অনেক সাশ্রয়ী খরচে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, কিন্তু ইন্টারনেটে আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা কী ব্যবহার করবে? তাদের উপযোগী কনটেন্ট কী রয়েছে?

সরকারি উদ্যোগে কিংবা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে গড়ে উঠতে শুরু করেছে অনেক শিক্ষামূলক কনটেন্ট। তোমরা 10 Minute School ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে পাবে শিক্ষার সহায়ক অনেক ভিডিও, ব্লগ, কুইজ, স্মার্টবুক ইত্যাদি।

এ মুহূর্তে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী পড়ালেখা করতে গিয়ে কোনো একটা বিষয় বুঝতে না পেরে যদি ইন্টারনেটে সেটি অনুসন্ধান করে, মোটামুটি নিশ্চিতভাবে সে তার উত্তরটি কোনো না কোনোভাবে সে পেয়ে যাবে। এজন্যে ইংরেজি ভাষার অত্যন্ত দক্ষ, সার্চ ইঞ্জিনও আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তৈরি করেছে।

গণিতের অত্যন্ত চমৎকার সাইট রয়েছে যেখানে গণিতের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাতে কলমে দেখার জন্যে সাইট রয়েছে। উৎসাহী মানুষেরা নানা বিষয়ে গ্রুপ তৈরি করে রেখেছেন, তাদের কাছে যেকোনো প্রশ্ন দেওয়া হলে তারা উত্তর দিতে পারেন।

ইন্টারনেটে শিক্ষার একটা বিশাল জগৎ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। যখন আমরা সেটি আবিষ্কার করতে শুরু করব সম্পূর্ণ নতুন একটি জগৎ আমাদের সামনে হাজির হবে।

ইন্টারনেট ও আমার পাঠ্য বিষয়গুলো

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ওয়েবসাইট হতে তোমরা বিনামূল্যে তোমাদের পাঠ্যবই পড়তে পারো। তার বাইরেও তোমাদের লেখাপড়ার কাজে লাগতে পারে এরকম অনেক বই কিন্তু লেখা হয়। যারা সেই বই লেখেন তাঁদের অনেকেই এ বইগুলো ব্যবহারের জন্যে ইন্টারনেটে দিয়ে দেন।

বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে আগ্রহী মানুষেরা মিলে এই বইগুলোর সফ্‌ট কপি তৈরি করে সেগুলোতে কন্ঠ দিয়ে বইগুলো সংরক্ষণ করতে শুরু করেছে, যেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও এই বইগুলো থেকে উপকৃত হতে পারে।

পৃথিবীর অনেক লেখকই আজকাল তাঁদের বইগুলো ইন্টারনেটে সবার জন্যে উন্মুক্ত করে দিতে শুরু করেছেন। তোমরা একটু খোঁজ করলেই তোমরা পছন্দের অনেক বই ইন্টারনেটে একেবারে বিনামূল্যে পেয়ে যাবে

সব স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা তাদের সখের বিষয় বিজ্ঞান, গণিত কিংবা সাহিত্যের ক্লাব তৈরি করে। ইন্টারনেট হওয়ার কারণে বিষয়টা এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এখন সারা দেশের, এমনকি সারা পৃথিবীর ছেলেমেয়েরা এই ক্লাবগুলোতে অংশ নিতে পারে!

আমার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও আইসিটি

নিজের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে আইসিটিতে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিজেকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। সাধারণ অফিস সফটওয়্যারের ব্যবহার, ইন্টারনেট, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সহ প্রায় সব কিছুতেই প্রাথমিক দক্ষতা না থাকলে আগামীতে কোথাও চাকরি পাওয়া কঠিন হবে।

বর্তমানে প্রোগ্রামিং ওয়েবসাইট নির্মাণ, কম্পিউটার নিরাপত্তা ইত্যাদি বিশেষায়িত কাজের চাহিদা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরবর্তী ২-৩ বছরের মধ্যে এর চাহিদা দ্বিগুণ হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্যারিয়ার গঠনের একটি বড় ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রটিতে কতশত কাজ আছে তা কল্পনাতীত।

programming

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রোগ্রামিংয়ে সম্ভাবনার দ্বার দিন দিন উন্মোচিত হচ্ছে। প্রোগ্রামিংয়ের চাহিদা বর্তমানে অনেক বেশি।
স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপস প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমেই করা।

পেশা হিসেবে প্রোগ্রামিংয়ের আলাদা একটি গুরুত্ব আছে। কারণ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করার অনেক সুযোগ এখানে রয়েছে। প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে অনেকেই নিজের মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান করে নিচ্ছে বিখ্যাত সব কোম্পানিতে।
এসব বড় কোম্পানিতে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। তারা নিজেরাই বিভিন্ন দেশ থেকে ভালো ভালো প্রোগ্রামারকে খুঁজে বের করে নেয়।

ফ্রিল্যান্সিং

উন্নত দেশগুলোর ভালো ভালো কোম্পানি তাদের নিজেদের দেশের কর্মীদের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দেয়। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং সাইটে আমাদের দেশের ভালো প্রোগ্রামাররা দেশে বসেই অনেক বিখ্যাত কোম্পানির কাজ করতে পারছেন।

freelancing

ফ্রিল্যান্সের কাজ করার জন্য ধৈর্য্যের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা থাকলেই চলে। তাছাড়া ভালো প্রোগ্রামাররা ইচ্ছা করলে নিজেরাই সফটওয়্যার ফার্ম খুলতে পারেন।

এছাড়াও আইসিটিতে রয়েছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এ কাজ করার সুযোগ। যেসব কোম্পানি নিজেরা সার্ভার ব্যবহার করে তাদের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরির ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ লোকের প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে বেশ কিছু সফটওয়্যার কোম্পানি তৈরি হয়েছে যারা বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপস পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রপ্তানি করছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী এই পেশার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ছে।

ভবিষ্যতে এই সেক্টরে আরও অনেক দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। কাজেই ক্যারিয়ার হিসেবে আইসিটির সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল। এসব বিবেচনা করে নিজের আইসিটি দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে এখন থেকেই সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এখন ঝটপট এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে ঝালাই করে নিতে পারো নিজেকে!