অনুপ্রেরণার অভাব?

পৃথিবীর সব থেকে বড় মোটিভেশন হল সেলফ মোটিভেশন (Self Motivation)। সারাদিন ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করে ছেলেটি দিন পার করে। অথচ মনে অনেক আশা জীবনে ভাল পজিশনে যাওয়ার। আধাঘণ্টা খানেক আলাপ হল… অনেক কিছু বোঝানোর পর সে এক সময় বলে উঠে “আপু, এগুলো সবই তো বুঝি, মোটিভেটেড হই তবুও পড়াশুনা করতে ইচ্ছে করে না”।

মানুষের মোটিভেশনাল কথা, লেকচার শুনে আমরা মোটিভেটেড হই ঠিকই, কিন্তু তার স্থিতি খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে… যখন শোনা হয়, তখন হয়তো উজ্জীবিত হই, চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে… কিন্তু খানিক পরেই আবার সেই আগের মত।

জীবনে সবচেয়ে যে জিনিসটা বেশি দরকার তা হল সেলফ মোটিভেশন (Self Motivation) ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। নিজের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কোন মোটিভেশনই আপনার জীবনে কাজেলাগবে না।

বিখ্যাত আমেরিকান লেখক এবং মোটিভেশন স্পিকার Stephen R. Covey বলেন “মোটিভেশন নিজের ভেতরের আগুন, যদি অন্য কেউ তা জ্বালানোর চেষ্টা করে তবে তা খুব কমই জ্বলবে “ । এর মানে হচ্ছে কেউ আপনাকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে , কিন্তু লক্ষ্য অর্জনে আপনাকেই এগিয়ে যেতে হবে। আপনার হয়ে অন্য কেউ সেটা করে দেবে না।

মোটিভেশন কী ?

মোটিভেশন দুই রকমের হয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

১। Intrinsic : 

Intrinsic বা স্বকীয়। যা প্রাকৃতিকভাবে একজন মানুষের নিজের ভেতর থেকেই আসে। পরীক্ষায় ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য সারারাত পড়াশুনা করা, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজের ভেতরের ইচ্ছাশক্তিই intrinsic মোটিভেশন।

২। Extrinsic : 

Extrinsic বা বহিঃস্থ। অর্থাৎ যখন আমরা একজন মোটিভেশনাল স্পিকারের কথা শুনে বা ভিডিও দেখে অনুপ্রেরণা পাই। যেমন অন্য কারো সফলতার গল্প শোনার পর মনে হয়, এটা আমাদেরও করতে হবে।

সহজ কথায়, মোটিভেশন হচ্ছে এমন এক উৎস যা আপনার মন-মানসিকতাকে  আপনার লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তুত করবে। সঠিক মোটিভেশন আপনাকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে যা আপনি কল্পনাও করেননি।

তাই প্রতিনিয়ত নিজেকে মোটিভেটেড রাখতে কিছু উপায় আমাদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো।

লক্ষ্য নির্ধারণ :

পরীক্ষায় যখন লিখতে দেয়া হয় “তোমার জীবনের লক্ষ্য” রচনা লেখো অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী বেশি নাম্বার পাওয়ার জন্য লিখে ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। একদম মুখস্থ লেখা যাকে বলে। এভাবেই আসলে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হয় , নিজেরাই জানে না কী হতে চায়। সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।

বিখ্যাত সেলস ট্রেইনার রাজিব আহমেদ স্যার বইয়ে  লিখেছিলেন, “আপনার পিতার ৫০ কোটি শুক্রাণুর মধ্যে একটি শুক্রাণু বিজয়ী হয়ে আপনার মা’র গর্ভাশয়ে পৌঁছেছিলো, সেই শুক্রাণুটিই আজকের আপনি। সুতরাং, স্রষ্টা আপনাকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন বিজয়ী করে। আপনি কেন হেরে যাবেন? স্রষ্টা আপনাকে বিজয়ী করে তার কাছে ফেরত নিতে। আপনি যদি হার না মানেন, আপনাকে হারানোর ক্ষমতা কারো নেই।

জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। Think big, be big। বাস্তবের চেয়ে বড় স্বপ্ন দেখুন। সব সময় নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখতে এটা একটি পরীক্ষিত উপায়।

Our goals can only be reached through a vehicle of a plan, in which we must fervently believe, and upon which we must vigorously act. There is no other route to success.” —Pablo Picasso

লক্ষ্য নির্ধারণ তিন রকম হতে পারে :

১। স্বল্প মেয়াদী : এমন কোন লক্ষ্য যা কিছু সপ্তাহ অথবা মাসে অর্জন করা যায়।

২। মধ্যম মেয়াদী : এক অথবা দুই বছর সময় লাগতে পারে এমন কোন লক্ষ্য।

৩। দীর্ঘ মেয়াদী : ক্যারিয়ার প্লান , বাড়ি অথবা গাড়ি কেনা এই ধরনের লক্ষ্যগুলোকে দীর্ঘ মেয়াদী বলা হয়।

 

দেখে নাও ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এর খুঁটিনাটি!

আমাদের ছোট-বড় অনেকরকম স্বপ্ন থাকে। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি কতগুলো?

এই দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে চল ঘুরে আসি ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্ট থেকে!

লাইফ হ্যাকস সিরিজ!

সঞ্চয়ী হোনঃ

ধরুন আপনি একটি ব্যবসা শুরু করলেন, কিছুদিন পর দেখা গেল ব্যবসার জন্য যে টাকাটা আপনার দরকার সেটা আর জোগাড় করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় আপনি কাজ করার অনুপ্রেরণা হারাবেন আর কাজ করতেও ইচ্ছা করবে না।  তাই অবশ্যই প্রতি মাসে আপনার উপার্জন থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করুন। সঞ্চয় থাকতে আপনি আত্নবিশ্বাস হারাবেন না কখনই নিজেকে সবসময় মোটিভেটেড রাখতে সঞ্চয়ী হওয়া খুব জরুরি।

ঋণকে না বলুনঃ

নিঃসন্দেহে যে সব মানুষ অনেক বেশি ঋণ নিয়ে থাকেন তারা হতাশায় ভোগেন বেশি। কারণ তাদের উপার্জনের সিংহভাগই চলে যায় ঋণ পরিশোধ করতে। তাই খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কখনই ঋণ নেবেন না।

ইতিবাচক মানুষের সাথে থাকুনঃ

আরে ধুর, তোকে দিয়ে হবে না। তুই জিতবি কম্পিটিশন? বাদ দে, তুই পারবি না। এই ধরনের নেতিবাচক কথা বলা মানুষের থেকে সব সময় দূরত্ব বজায় রাখুন। পজেটিভ চিন্তার মানুষ বেস্ট মোটিভেটর হয়।যখনই আপনার মনে কোন নেতিবাচক চিন্তা আসবে, এমন একজন পজেটিভ চিন্তা-ভাবনার মানুষের সাথে কথা বলবেন যে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে। তাই সবসময় চেষ্টা করুন ইতিবাচক চিন্তা করে এমন মানুষের সাথে থাকতে।

 

নিজেকে সম্মান করতে শিখুন ঃ

আমরা কম বেশি সবাই যে কাজটি করি সেটা হচ্ছে   নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করি । আরে ওর রেজাল্ট তো আমার থেকে ভালো, তাহলে জবটা ওরই হবে। “পাশের বাসার হাবলু ভাত খায়, তুইও ভাত খাস” তাহলে তুই নাম্বার কম কেন পাস? এই কথাগুলো আমরা শুনি বা বলি, তাই না? যে কাজটা কখনই করা উচিত না। এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আপনার আত্নবিশ্বাস কমিয়ে দেবে। যখনই মনে করবেন আপনার আত্নবিশ্বাস কমে যাচ্ছে আপনার আগের অর্জনগুলোর কথা ভাবুন, ভাবুন সেগুলো অর্জন করতে কতটা কষ্ট আপনি করেছেন। কতগুলো রাত আপনি জেগেছেন । Be your own kind of perfect! এতে করে আপনার হারানো আত্মবিশ্বাস আবার ফিরে পাবেন, নতুন উদ্যমে নিজের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে পারবেন ।

“When you’re trying to motivate yourself, appreciate the fact that you’re even thinking about making a change. And as you move forward, allow yourself to be good enough.” – Alice Domar  

ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুনঃ

ভুল আমাদের জীবনের খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কম বেশি , জেনে বা না জেনে  ভুল আমরা সবাই করি। এটা খারাপ কিছু নয়, স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যাটি তখনই হয় যখন আমরা ওই ভুল থেকেশিক্ষা না নিই। পৃথিবীতে যত সফল মানুষ আছেন বা ছিলেন সবার মধ্যে একটা মিল আছে। সেটা হচ্ছে  ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া। পৃথিবীতে কোন মানুষই ১০০% সঠিক না। ভুল মানুষ করবেই। যারা সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে তারা সফলতার দিকে এগিয়ে যেতেপারবে।

“There is nothing known as “Perfect”. It’s only those imperfections which we choose not to see!!”― Albert Einstein 

নিজের উদ্দেশ্য সঠিক রাখুনঃ

যখন  কোন কাজ করছেন আপনি তার উদ্দেশ্য ঠিক আছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে দেখবেন। ভুল মানুষের মোটিভেশন আপনাকে অনেক বড় বিপদেও ফেলতে পারে। তাই আপনি ঠিক পথে এগোচ্ছেন নাকি ভুল হচ্ছে কোথাও তা পরীক্ষা করে নেয়া জরুরি। আপনার কাজের উদ্দেশ্য আপনাকে সব সময় মোটিভেটেড থাকতে সাহায্য করবে।

“The key to motivation lies in the motive itself” -Dr. Stephen R. Covey

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাকে না বলুনঃ

সবসময় অতিরিক্ত চিন্তা করলে নেতিবাচক দিকগুলোই সামনে আসবে। আমরা সবাই জানি যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত কিন্তু এর মানে শুধু এই না যে আমরা যা চাচ্ছি ভবিষ্যতে তার চেয়ে খারাপ কিছুই অপেক্ষা করছে। আগামীকাল কী হবে সেটা ভেবে আজকের দিনটা কেন নষ্ট করছেন?

এমনটাও হতে পারে যে, ভবিষ্যতে আমাদের জন্য এত ভাল কিছু অপেক্ষা করছে, যা আমরা কখনো চিন্তাও করিনি। তাই ভবিষ্যতে ভাল কিছুই হবে এই চিন্তা মাথায় রেখে এগুতে হবে।

মেডিসিন এ নোবেলজয়ী ডক্টর Dr. Alexi’s carrel একটি কথা বলেন, কথাটা ছিল অনেকটা এ রকম “যে ব্যবসায়ী জানে না কিভাবে দুশ্চিন্তার সাথে যুদ্ধ করতে হয়, সে যুবক অবস্থাতেই মারা যায়।”

সুখী থাকতে শিখুনঃ

সমস্যা সবার জীবনেই থাকে কিন্তু তার মানে এই না সেই সমস্যার  কথা ভেবে আপনাকে হতাশ হতে হবে। হতাশা , দুশ্চিন্তা কখনই সমস্যার সমাধান হতে পারে না। যত বেশি সমস্যা নিয়ে ভাববেন, ততই নিরাশ হবেন। আপনার এমন হতে পারে  আপনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন, আপনার চাকুরি চলে গিয়েছে কিন্তু একবার ভেবে দেখুন আপনার জীবন কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। এই চিন্তাটাই আমরা করি না। তাই যা হয়েছে সেটাকে মেনে নিন। তাতে আপনি এই পরিস্থিতিটা কে সহজেই জয় করতে পারবেন।

১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে অনলাইন লাইভ ক্লাসের! তা-ও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে!

Hal Elrod – The author of “The miracle morning” মনে করতেন, ‘৫ মিনিটের বেশি নেতিবাচক চিন্তা পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তোলে, তাই তিনি নেতিবাচক চিন্তাগুলো মন থেকে সরিয়ে সামনের কথা চিন্তা করা উচিত’। ‘যা হয় ভালোর জন্য হয়’ কথাটা আপনাকে মোটিভেটেড থাকতে সাহায্য করবে।

“সুখ তৈরি কিছু না, এটা আপনার নিজের কর্মের থেকে আসে” –দালাই লামা

প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা করুনঃ

আপনার মোটিভেশনকে ধরে রাখতে প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা করুন। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতিটা দিনের পরিকল্পনা আপনার লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সহায়ক হবে। রাতে ঘুমানোর আগে  মাত্র ১৫ মিনিট ব্যয় করুন সারা দিনের পরিকল্পনা করতে।

এটি শুধুমাত্র আপনার একটি খসড়া পরিকল্পনা যেন আপনি কী কী করবেন সারাদিন তা মনে রাখতে পারেন। এমন যেন না হয় যে আপনি ঘর থেকে বের হলেন আর আপনি জানেন না যে কোথায় যাবেন আর কী করবেন।

“I am happy because I’m grateful. I choose to be grateful. That gratitude allows me to be happy.” – Will Arnett

অনুপ্রেরণাই আসলে আমাদের সাফল্য অর্জনের জাদুর মত কাজ করে। তাই নিজেকে মোটিভেটেড করুন। আর আমাদেরকে নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন, আপনি কীভাবে নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখছেন ।

এই লেখাটা নেয়া হয়েছে Spikestory ব্লগ থেকে।

এরকম আরো লেখা পড়তে ঘুরে এসো Spikestory-র ফেসবুক পেজ থেকে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Shanjana Rahman

জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ মাস্টার্স ১ম সেমিস্টারে পড়ছি, পাশাপাশি লেখালিখি করি, ব্লাড নিয়ে কাজ করি, কিছু সংস্থায় ভলেন্টিয়ার হিসাবে কাজ করি। বই পড়তে, নাচতে, স্কিল ডেভেলপ করে এমন কাজ করতে পছন্দ করি, আরো পছন্দ করি নতুন যে কোন বিষয় শিখতে । আগে সব কিছুই শিখতে ইচ্ছা করতো, এখন একটা একটা করে শিখি ।
Shanjana Rahman
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?