যেকোন অভ্যাস ভাঙতে ঠিক কতটা সময় লাগে?

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

কথায় বলে, মানুষ অভ্যাসের দাস। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমাদের কিছু বিশেষ অভ্যাস বা ব্যবহার আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি না বা চাই না। রাত জাগা, বেশি ফাস্টফুড খাওয়া – এরকম অনেক বদ অভ্যাসই আমাদের জীবনযাত্রার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এরকম কিছু অভ্যাস বাদ দিতে আমরা সবাই চাই, কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই নিজের প্রবৃত্তির কাছে হার মানতে হয় আমাদের।

কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে যেকোন অভ্যাসই বাদ দেয়া সম্ভব। কিছু কিছু অভ্যাস ত্যাগ করতে হয়তো কষ্ট হতে পারে, নিজের উপর নিজের কঠোর হবার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু আখেরে লাভ নিজেরই হবে। তাই দেখে নেয়া যাক কিছু পদ্ধতি, যা সাহায্য করবে যেকোন বাজে অভ্যাস কাটিয়ে উঠতে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

কত সময় লাগতে পারে?

২১-দিনের নিয়ম বলে একটি কথা খুবই প্রচলিত। এই থিওরি অনুসারে, যেকোন অভ্যাস বাদ দিতে ঠিক ২১ দিন সময় লাগা উচিত। ডঃ ম্যাক্স মালটজের বিখ্যাত ‘সাইকো-সাইবারনেটিক্স’ গবেষণা অনুসারে এই তত্ত্বটি আসে, যা পরবর্তীতে অনেক বিশেষজ্ঞ নিজের কাজে ব্যবহার করেছেন। মানসিক চিকিৎসা থেকে শুরু করে খেলার জগত – সবখানেই ২১-দিন নিয়ম প্রচলিত আছে।

bad habits, habits, life hacks, life skills, life tips, ovvash

তবে একটা জিনিস বুঝতে হবে, ২১-দিনের নিয়মটি কোনো বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। তাই ২১ দিনের মাথায় কোনো অভ্যাস ত্যাগ না করতে পারলে, এটা ভাবার দরকার নেই যে, সে অভ্যাসটি ত্যাগ করা একেবারেই অসম্ভব।

ঘুরে আসুন: খারাপ অভ্যাসকে দিয়ে দাও ছুটি!

একেকজন মানুষের মানিয়ে নেবার ক্ষমতা একেক রকম – একইভাবে, একেকজনের সমস্যাও ভিন্ন। একটা খারাপ অভিজ্ঞতা বা খারাপ অভ্যাসকে পাশ কাটাতে যদি কারো বেশি সময় লেগে যায়, হতাশ হবার কিছু নেই। নিষ্ঠার সাথে লেগে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ – একদিন সাফল্য ধরা দিতে বাধ্য

ইউসিএলের একটি গবেষণা অনুসারে, ১৮-২৫৪ দিনের মধ্যে মানুষ যে কোন অভ্যাস ছেড়ে দিতে পারে। তাই কোন অভ্যাস ত্যাগ করতে যদি এক বছরের কাছাকাছি সময় লেগে যায়, তখন পেশাদারি সাহায্য নেয়া উচিত।

পাবলিক স্পিকিং এখন তোমার হাতের মুঠোয়!

বর্তমান সময়ে পাবলিক স্পিকিং এর আবেদন সব ক্ষেত্রেই খুব বেশি। কিন্তু পাবলিক স্পিকিং তো মুখের কথা না। তাহলে উপায়?

চিন্তা নেই। বিস্তারিত জানতে ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লেলিস্টটি থেকে। 😀

১০ মিনিট স্কুলের Presentation Skills সিরিজ

অভ্যাস কাটাতে অভ্যাস গড়ুন:

কোন পুরনো অভ্যাস যখন ছাড়বেন, তখন সে অভ্যাসের বিপরীতে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়। কোন কার্যক্রমকে নতুন কার্যক্রম দিয়ে স্থানান্তর করা সবসময়ই ভালো। একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস চট করে ছেড়ে দিয়ে নিষ্কর্ম বসে থাকা খুবই অস্বাস্থ্যকর, কেননা অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা।

আপনার নিজের অভ্যাসগুলোকে জয় করতে আপনিই সবচেয়ে ভালো পারেন

ধরা যাক, আপনার ধূমপানের বদ অভ্যাস আছে। ধূমপানের কারণে নিকোটিন আসক্তি ছাড়াও পুরো কাজটার ওপর একটা মানসিক নির্ভরতা এসে যায়। তাই আপনি যদি চট করে ধূমপান ছেড়ে দিয়ে বসে থাকেন, কয়েকদিন পরেই আপনার মধ্যে চলে আসবে একটা ভয়াবহ আগ্রহ – ইচ্ছে করবে আবার ধূমপান শুরু করতে।

তাই এই বাজে স্বভাবটাকে রিপ্লেস করুন কোনো ভালো কিছু দিয়ে। খালি জায়গাটি পূরণ হয়ে গেলেই আপনি অনায়াসে ছেড়ে দিতে পারবেন বাজে অভ্যাসকে।

মনের জোর চাই:

অনেক ক্ষেত্রেই অভ্যাস ভাঙবার জন্যে সময় বা পরিবেশের চেয়ে মনের জোরটা বেশি জরুরি। বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে সময়ের পরিমাণটা ভিন্ন হবার কারণ এটাই।

আপনার নিজেকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করতে হবে, আপনার অভ্যাসকে ভাঙতে আপনি কতটা বেশি করে চাইছেন। দ্বিতীয়ত, আপনার অভ্যাসটি কতটা গভীর?

ঘুরে আসুন: হয়ে উঠুন নিজেই নিজের Motivational Speaker!

আপনি যদি স্বভাবেই আরামপ্রিয় হন, তাহলে আপনার জন্যে ব্যায়াম শুরু করাটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আপনার মনে হতে পারে যে, এই নতুন অভ্যাসটা আপনার জন্যে খুব একটা সুফল বয়ে আনছে না।

১০ মিনিট স্কুল কিন্তু ইন্টার্ন নিচ্ছে! যদি হতে চাও আমাদের টীমের একজন তাহলে ঝটপট ফর্মটি ফিলাপ করে পাঠিয়ে দাও আমাদের কাছে।

কিন্তু যদি বিষয়টা আপনি নিজের দীর্ঘজীবিতা, সুস্থ জীবনের অনুষঙ্গ হিসেবে দেখেন, আপনার মনে চমকেই জেগে উঠবে ব্যায়াম করবার সুতীব্র ইচ্ছা। তখন দেখবেন, নিজের থেকে মনে জোর পাচ্ছেন রোজ সকালে দৌড়াবার।

আপনার স্বাস্থ্য সবার আগে। আপনার নিজের অভ্যাসগুলোকে জয় করতে আপনিই সবচেয়ে ভালো পারেন। নিজেকে নিজেরই প্রোগ্রাম করে নিতে হবে, আর তার মাধ্যমেই আপনি জয় করবেন যেকোন বাজে অভ্যাসকে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?