আত্মরক্ষার ৩ ‘ক’ : কখন, কেন ও কীভাবে?


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

১. সময় রাত ১১টা। টিউশনি শেষে বাসায় ফিরছে তন্বী। হঠাৎ করে তার গলায় কীসের যেন জোরে একটা টান লাগলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুটো ছেলে তার পাশ দিয়ে তার হ্যান্ডব্যাগটা নিয়ে, তাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে গেল।

২. এবারের ঘটনাটা দুপুরের। ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে ফারাবী। একটু পর ফারাবী খেয়াল করলো, তার মাথায় অসম্ভব ব্যাথা হচ্ছে, কে জানি কিছু একটা দিয়ে তার মাথায় বাড়ি মেরেছে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন তার কানের কাছ থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে সাঁই করে ভীড়ের মধ্যে মিশে গেল।

এইরকম ঘটনার সাথে আমরা প্রায় সবাই কম-বেশি পরিচিত৷ পেপার-পত্রিকাতেও অহরহ এসব খবর আমরা পড়ে থাকি। এমনও তো হতে পারে, আপনি নিজেই এমন কোনো পরিস্থিতির শিকার হলেন, তখন? ক্যারাটে-জুডো শেখার ক্লাসে হয়তো আপনার যাওয়ার সময় নেই। কিংবা আপনাকে আগলে রাখার মানুষও হয়তো আপনার সাথে থাকেন না, তখন আপনি কী করবেন? নিশ্চয়ই হাত-পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকবেন না, বাইরে তো বের হতেই হবে। এরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইলে প্রয়োজন ঠান্ডা মস্তিষ্ক এবং সদা প্রস্তুত, সজাগ ও কৌশলী মনোভাবের হওয়াটা জরুরি। কিছু ছোট ছোট আত্মরক্ষার কৌশলী আপনাকে এমন আকস্মিক পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে পারে। জানতে চান কীভাবে? তাহলে আপনার জন্যই এই ব্লগটা!    

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে! The 10-Minute Blog!

 

কব্জি হোক মুষ্টিবদ্ধ :


যখনই দেখবেন বিপদ আপনার আশেপাশে, সাথে সাথে হাতের চারটি আঙ্গুল তালুর সাথে আটকে রেখে, এর উপর বৃদ্ধাঙ্গুল রেখে দিবেন। খেয়াল রাখবেন বৃদ্ধাঙ্গুলের উপর কোনো আঘাত যাতে না লাগে। কেননা, আমাদের হাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো এই বৃদ্ধাঙ্গুল। তাই বলে বৃদ্ধাঙ্গুল লুকিয়েও রাখা যাবে না। 

হাত যদি থাকে বাঁধা:


কেউ আপনাকে কিডন্যাপ করলে কিংবা ক্ষতি করতে আসলে, সবার আগে আপনার হাতটাই বাঁধতে যাবে। দড়ি দিয়ে আপনার হাত বাঁধলে সবার আগে আপনি যেটা করবেন, তা হলো বাতাস চলাচলের জায়গা তৈরি। গিঁট খোলার জন্য প্রয়োজন বিনা বাঁধায় বাতাসের চলাচল। তাই দু’ হাতের মাঝে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস চলাচল করতে পারে, আপনাকে সেই ব্যবস্থাটা করতে হবে। তাছাড়া, আপনার হাত যদি টেপ দিয়ে বাঁধা থাকে, তাহলে প্রথমেই হাত দুটোকে মুষ্টিবদ্ধ করে মাথার উপরে উঠিয়ে নিন। এরপর সকল শক্তি প্রয়োগ করে হাত দু’টোকে উপর থেকে নিচের দিকে বারবার নামাতে থাকবেন।

হাত বেঁধে দেওয়ার সময় হাত মুষ্টিবদ্ধ করে যতটা বেশি সম্ভব জায়গা নিয়ে রাখুন, যাতে মুষ্টি ছেড়ে না দিয়ে বাঁধন ঢিলে হয়ে পড়ে৷ মুষ্টিবদ্ধ করে থাকার সময় জোরে জোরে শ্বাস নিলে বুকের প্রস্থ বেড়ে যেয়ে আরেকটু স্পেস তৈরি হয়। আর আপনার হাত যদি প্লাস্টিকের টেপ দিয়ে বাঁধা থাকে, তাহলে হাত ধীরে ধীরে উপরের দিকে তুলে দুই দিকে চাপ দিতে হবে, যাতে টেপ খুব দ্রুত ছিঁড়ে যায়।  

সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত:


আমাদের দেহের অন্যতম সংবেদনশীল অঙ্গগুলো হলো- চোখ, কান, নাক, গলার মাঝখান, কুঁচকি, হাঁটু, দুই উরুর সন্ধিস্থল। এগুলো হলো মানবদেহের উইক পয়েন্ট৷ এখানে আঘাত করলে যে কেউ একেবারে ধরাশায়ী হয়ে পড়বে!  

সামনে পান যা কিছু:

সবসময় আপনার কাছে অস্ত্র নাও থাকতে পারে। তখন আপনার বিপদের বন্ধু হতে পারে আপনার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ, মুঠোফোন, চাবি এমনকি স্কার্ফ এবং রুমালও! স্কার্ফের সাহায্যে আপনি আক্রমণকারীর গলা চেপে ধরতে পারেন এবং রুমাল দিয়ে তার নাক চেপে কিংবা চোখে আঘাত কর‍তে পারবেন। ভ্যানিটি ব্যাগ ও মুঠোফোন দিয়ে মুখে আঘাত করতে পারবেন; চাবি দিয়ে নাক ও চোখে আঘাত করতে পারবেন এবং খোঁচাতে পারবেন। তাই, কোনো কিছুকেই অবহেলা করা চলবে না!    

হাত যদি ধরে শক্ত করে:

কেউ যদি আপনার হাত শক্ত করে চেপে ধরে, তাহলে হাত ধরার সাথে সাথে খুব দ্রুত আপনার হাতটিকে সজোরে এক ঝটকায় আক্রমণকারীর বৃদ্ধাঙ্গুল বরাবর ঘুরিয়ে নিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে যত দ্রুত নিজের হাতকে ছাড়িয়ে নিতে পারবেন তত ভালো। যদি দেরি হয়ে যায়, তাহলে আক্রমণকারীর হাঁটু বা কুঁচকিতে সজোরে লাথি মারতে হবে। তা না হলে নিজের শরীরে যত শক্তি আছে, তা ব্যবহার করে তার গায়ে উঠে পড়বেন। তাহলে সে আর নড়তে পারবে না।

 চুলের মুঠি টেনে ধরলে:

পেছন থেকে কেউ যদি আপনার চুল টেনে ধরে তাহলে সাথে সাথেই হামলাকারীর হাত খপ করে ধরে ফেলতে হবে। কিছুতেই এখানে বেশি সময় নষ্ট করা চলবে না৷

গলা বা ঘাড় চেপে ধরলে:

কেউ যদি আপনার ঘাড় বা গলা চেপে ধরে, তাহলে আপনি পা দিয়ে তার হাঁটু বা তলপেটে জোরে আঘাত করুন। আর সেটা না করতে পারলে নিজের আঙ্গুল দিয়ে আক্রমণকারীর চোখ বা মুখে খোঁচা দিন বা আঁচড় কাটুন।

কেউ যদি আপনার গলা চেপে ধরে, তাহলে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস যতক্ষণ সম্ভব, স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হবে না।

যদি থাকেন লিফটে:

চেষ্টা করবেন লিফটে একা ওঠা এড়িয়ে চলতে৷ কিংবা সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে তার সাথে লিফটে ওঠা থেকে বিরত থাকুন। কেউ যদি উঠেও থাকে, তাহলে সাথে সাথে লিফট থেকে নেমে যান। লিফটে উঠে যদি কোনো বিপদের গন্ধ পান, তাহলে লিফটের বাটনগুলো যেখানে আছে, সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ুন ও সবগুলো বাটন চাপা শুরু করে দিন। যাতে দরকার পরলে দ্রুত লিফট থেকে নেমে যেতে পারেন।

গাড়িতে বা বাইরে থাকলে:

গাড়িতে চলাচল করলে কিংবা বাসা থেকে বের হওয়ার এসময় পরিচিত কাউকে যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার ঠিকানা, গাড়ির রঙ ও নম্বর দিয়ে রাখুন। আর চালকের রুটের সাথে আপনার রুট মিল আছে কি-না, সেদিকেও খেয়াল রাখুন৷

সুন্দরভাবে কথা বলা সাফল্যের অন্যতম রহস্য!

মানুষের সাথে সুন্দর ও মার্জিতভাবে কথা বললে যেকোন কাজ কিন্তু অনেক সহজ হয়ে যায়!

কথা বলার এমন সব টিপস নিতে ঘুরে এসো এই প্লেলিস্টটি থেকে!

Communication Secrets!

 

সিক্রেট সাইন তৈরি করুন:



ধরুন, কাউকে আপনি মেসেজ পাঠালেন, “Don’t worry. I’m alright.” এর মানে হলো, আপনি ঠিক নেই, আপনার এখন সাহায্যের দরকার। অর্থাৎ যা পাঠালেন, তার উল্টোটা মেসেজটির মানে হবে। তাই এমন কাউকে টেক্সট পাঠান, যে কিনা আপনার সাংকেতিক বার্তা বুঝতে পারবে।

মুখ ঢেকে রাখুন:



কেউ যদি সামনে দিয়ে আঘাত করতে আসে, তাহলে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলুন। এতে করে আপনার চোখ দুটো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। 

ফলো আপ:

ফিল্মি স্টাইলে মারামারি না করে, নিজের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে ট্রাকিয়া (পুরুষদের Adam’s apple) এ জোরে চাপ দিন। ব্যাথার যন্ত্রণায় সে আর উঠতে পারবে না।

ব্যালেন্স যদি যায় হারিয়ে:

যদি আপনি দেখেন যে আপনি তাল হারিয়ে ফেলছেন, তাহলে চেষ্টা করুন হামলাকারীর গায়ে পড়ার। আপনার ওজনটাকে নিজের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। হামলাকারীর উরুতে নিজের হাঁটু ও কনুই দিয়ে আঘাত করুন।

হামলাকারীর কাছে অস্ত্র থাকলে:

যদি ছুরি থাকে- কয়েক হাত দূরে থাকুন।

যদি পিস্তল থাকে- জোরে ডানে-বামে দৌড়াতে থাকুন, যাতে টার্গেট সেট করতে না পারে।

সঠিকভাবে কোন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করতে পারা ইংরেজিতে ভাল করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। শিখে নাও উচ্চারণ!!

এগুলো ছাড়াও আরো কিছু ছোটখাটো কার্যকরী উপায় আছে, যা আপনাকে বিপদের মুখ থেকে বের করে আনবে। সেগুলো হলো-

বিপদ কখন কোনদিক থেকে আসবে তা বলা যায় না৷ তাই সবসময় সবরকম পরিবেশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে।

রাস্তা দিয়ে চলার সময় নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাখুন। তাহলে বিপদ আসার সাথে সাথেই যেন হামলাকারীদের উপর ঘুষি বসিয়ে দিতে পারেন!

যত দ্রুত, জোরে ও বেশি সম্ভব আক্রমণকারীর চোখে ও নাকে আঘাত করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব সেখান থেকে পালিয়ে কারো সাহায্য চান।

সবসময় জোরে দৌড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা ভালো।

দ্রুত ঝামেলা শেষ করতে চাইলে নিজের কপালের শক্ত অংশটি দিয়ে আক্রমণকারীর নাকে সজোরে আঘাত করতে পারেন।

নিজের গোড়ালি বা জুতোর হিল দিয়ে হামলাকারীর পায়ে আঘাত করুন।

হাঁটুতে জোরে আঘাত করলে যে কেউ বেশ কিছুক্ষণের জন্য উঠে দাঁড়াতেই পারবে না।

  • ১২-১৬ পাউন্ড প্রেশার দিয়ে যদি কাউকে লাথি মারা হয়, তাহলে সে আর উঠে দাঁড়াতেই পারবে না! কারণ এই প্রেশারে লাথি মারলে হাঁটু ভেঙ্গে একদম গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাবে।

কেউ যদি আপনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে মারতে চায়, তবে সবার আগে তার হাত নিজের কলার বোন থেকে সরান।

পেছন থেকে আঘাত করলে চটজলদি মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ুন। আপনার এই স্টেপে সে কিছু সময়ের জন্য হলেও ভড়কে যাবে। তখন আপনি নেক্সট স্টেপ ভাবার জন্য এক্সট্রা সময়ও পেয়ে যাবেন।

  • আপনার অর্থের চেয়ে আপনার জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। তাই কোনো উপায় না থাকলে নিজের ব্যাগ বা ওয়ালেটটা ছুঁড়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
  • নিজে আগ বাড়িয়ে কাউকে মারতে যাবেন না। যতক্ষণ পারুন, কথার মাধ্যমে সব ঠিকঠাক করার চেষ্টা করতে হবে।

এমনই কিছু ছোট ছোট কৌশল আপনাকে অসংখ্য বড় বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে। শুধু প্রয়োজন একটু সতর্ক থাকা। যদি আপনার কখনো সময়-সুযোগ হয়, তাহলে মার্শাল আর্টের ক্লাসগুলোও করে নিতে ভুলে যাবেন না কিন্তু!

তথ্যসূত্র ও ছবি:

https://roar.media/bangla/awareness/self-defense-techniques/

https://m.wikihow.com/Defend-Yourself


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?