ইংরেজিতে ইন্টারভিউয়ের টপ প্রিপারেশন

ইংরেজির সাথে আমাদের শত্রুতা যেন সেই মান্ধাতার আমলের! সেই যে, অনেক বছর আগে কোনো একদিন ছোট্ট একটা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে জামা-জুতো পরে বাবা কিংবা মায়ের হাত ধরে স্কুলে রওয়ানা হয়েছিলাম, সেদিন থেকেই ইংরেজির সাথে আমাদের পরিচয়। তারপর লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ইংরেজির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি আমাদের বেশিরভাগের পক্ষেই, বরং শত্রুতা বাড়তে থেকেছে দিনের পর দিন। ইংরেজি নামের এই বস্তু তাই এখনো বেশিরভাগ বাংলাদেশির কাছেই একটু বেশি রকমের বিদঘুটে!

ইংরেজিটা যতই বিদঘুটে লাগুক না কেন, ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া ছাড়া, অন্তত এই আধুনিক পৃথিবীতে যে অন্য কোনো গতি নেই সেই সত্যিটা বেশ ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে আজকাল। শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবন, সব খানেই ইংরেজিতে দক্ষতার উপর দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। বিশেষ করে চাকরির ইন্টারভিউগুলোর বেশিরভাগই আজকাল ইংরেজিতে হয়ে থাকে। কাজেই আপনার যদি ইংরেজিতে কথা চালিয়ে যাওয়ার মতো দক্ষতা না থাকে, তাহলে চাকরি পাওয়াটা আপনার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া এভারেস্ট জয় করার মতোই শক্ত ব্যাপার।

কাজেই ইংরেজিতে ইন্টারভিউ দিতে হবে শুনলেই যদি টেনশনে আপনার পেটের ভেতর গুড়গুড় করতে শুরু করে, কানের ভেতরটা সুরসুর করতে শুরু করে, নাকের ওপর উচ্চিংড়ে লাফাতে শুরু করে আর দরদর করে ঘাম হতে শুরু করে; তাহলে নির্ঘাত মহাবিপদ! শুধুমাত্র ‘ইংরেজিতে ইন্টারভিউ’ হবে, এই কারণেই অনেকে ইন্টারভিউ দিতে যেতেই ভয় পান; অথবা ইন্টারভিউ দিতে গেলেও আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভালো করতে পারেন না। এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আপনার দরকার যথাযথ প্রস্তুতি। তাহলে, কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে?

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে! The 10-Minute Blog!

কিছু সাধারণ প্রশ্ন

যে জায়গাতেই ইন্টারভিউ দিতে যান না কেন, কিছু সাধারণ প্রশ্নের মুখোমুখি আপনাকে সব জায়গাতেই হতে হবে। এসব প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এরকম কিছু প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় জানতে চাওয়া, আপনার অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া, আগে কোথায় কাজ করতেন, আগের চাকরি কেন ছেড়ে দিচ্ছেন, এই প্রতিষ্ঠানে কেন যোগ দিতে চান, আপনার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা ইত্যাদি। কাজেই এসব প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করে রাখুন, মানসিক প্রস্তুতি নিন এবং নিজে নিজেই এসব স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে বলার চেষ্টা করুন; নিজে নিজেই প্র্যাকটিস করুন।

সাধারণত সব জায়গায় জিজ্ঞাসা করা হয়, এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

Q: “Tell something about yourself…”

এই প্রশ্নটা সবার আগে করা হয়, খুব স্বাভাবিক ভাবেই। এবং অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, অত্যন্ত সাধারণ এই প্রশ্নের উত্তর দিতেও অনেকেই রীতিমতো হিমশিম খান।

আপনাকে মনে রাখতে হবে, স্কুল-কলেজে যে ‘Myself’ প্যারাগ্রাফ লিখে এসেছেন, এখানে আপনার জবাব মোটেও সেরকম হবে না। আপনি চাকরির জন্য এসেছেন অথবা অন্য কোনো কাজের জন্য; সুতরাং অবশ্যই আপনার কাজের সাথে সামঞ্জস্য আছে এমন কথাগুলোই কেবল আপনি বলবেন। এর বাইরে অন্য যেকোনো কথাই প্রশ্নকর্তার বিরক্তির উদ্রেক ঘটাবে।

কাজেই আপনার উত্তর হতে পারে এরকম :

“I am Tazrian Alam Ayaz. I am an Engineering graduate. I’m a really energetic person, a real self-starter. What I mean by self-starter is that in the past I’ve loved being independent and taking on new projects and developing my fresh ideas…”

আপনার উত্তর শুনেই যেন আপনার প্রতি প্রশ্নকর্তার ব্যাপক আগ্রহ জন্মে, সে দিকে সর্বোচ্চ খেয়াল থাকতে হবে আপনার।

Q: “Why did you leave your last job?”

এটাও খুবই স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন। আপনার উত্তর হতে পারে এরকম:
“I am looking for new challenge. I have been with my current company for 2 years now and do not find the work as interesting as I once did.


Q: “Why do you want to work here?”

এই প্রশ্নের উত্তরে আপনাকে যথেষ্ট কৌশলী হতে হবে। উত্তর হতে পারে এরকম:
“I did some research and selected the companies I am most interested in working for, and yours is at the top of my list. The basis of research was company reputation, product reliability and industry stability, as well as the employees in it.

এছাড়াও নিচের প্রশ্ন আর তার উত্তরগুলো আপনার কাজে আসতে পারে।

Q : “What are your goals?”
Answer : “My goals are to grow in this company and know all things about this industry to make a big company.”
Q: “What’s your strengths?”
Answer : “I have the ability to match between technical skills and my communication skills.i can break down the complex issues into simple as well as time management skills and problem-solving skills.”
Q : “What’s your greatest weakness?”
Answer: “I am excellent in every thing but really my communication skills need to be improved.”

Q. “How much salary do you expect?”

Answer: “Salary is my second priority. I want to enhance my knowledge and build on my skills.”

এছাড়াও ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হতে পারে। অনেকেই এক্ষেত্রে আগ্রহ দেখান না। তবে প্রশ্ন করার সুযোগ পেলে অবশ্যই আপনি প্রশ্ন করবেন। আপনার প্রশ্ন করার প্রবণতা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার আগ্রহ প্রমাণ করবে।

Q. “Do you have any questions?”

এক্ষেত্রে আপনার উত্তর হতে পারে এরকম:

“Can you explain the roles and responsibilities in greater detail?”

“What are the growth opportunities for me in this company?”

“What are the next steps of the interviewing process?”

মনে রাখবেন, এ প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তরই আপনাকে ভালো করতে সাহায্য করবে। কাজেই গাইডলাইন অনুসরণ করে নিজের মতো উত্তর সাজিয়ে নেবেন অবশ্যই।

ব্যাকরণ নিয়ে ভাববেন না

সেই ছোট্ট বয়স থেকেই ক্রমাগত ইংরেজি ব্যাকরণ পড়তে পড়তে আমাদের মাথায় ‘শুদ্ধভাবে’ ইংরেজি বলার গুরুত্বটা খুব ভালোভাবেই ঢুকে গেছে। শুদ্ধভাবে ইংরেজি বলতে পারাটা অবশ্যই জরুরি। তবে একটা বিষয় আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, চাকরির ইন্টারভিউ কিন্তু মোটেও নিজেকে ইংরেজির জাহাজ প্রমাণ করার জায়গা নয়! যাদের মাতৃভাষাই ইংরেজি, তারা কিন্তু কথা বলার সময় এত ব্যাকরণের ধার ধারে না, শুধু যা বলার তা বলে ফেলে! ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনি কতটা শুদ্ধভাবে বলছেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আপনি কতটা স্বচ্ছন্দে এবং সাবলীলভাবে আপনার কথাগুলো বোঝাতে পারছেন। মনে রাখতে হবে, ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার অ্যাকুরেসির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনার ফ্লুয়েন্সি। কে কতটা ব্যাকরণ জানে সেটা কেউ খেয়াল করবে না। তবে হ্যাঁ, তাই বলে একেবারে লাগাম ছাড়া ইংরেজি বলতে থাকবেন তেমনটাও নয়! শুধু মনে রাখবেন, আপনার কথাগুলো সাবলীলভাবে বলতে হবে, ব্যাকরণের দিকে বেশী নজর দিতে গিয়ে যেন সব গুলিয়ে না ফেলেন!

মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে!

তাই আর দেরি না করে, আজই দেখে ফেল ১০ মিনিট স্কুলের ইংরেজি গ্রামার নিয়ে তৈরি করা এই প্লেলিস্ট টি !

১০ মিনিট স্কুলের ইংরেজি ভিডিও সিরিজ

ভাবিয়া করিও না

বাংলাতে যখন আপনি কথা বলেন, তখন কিন্তু আপনার খুব বেশি ভাবার দরকার পড়ে না। বরং নিখুঁত ভাবে একের পর এক বাক্য সাজিয়ে আপনার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন। ঠিক বলছেন নাকি ভুল, তা নিয়েও আপনার তেমন একটা মাথা ঘামাতে হয় না। ইংরেজিতে কথা বলার সময়েও যদি আপনি ভাবনা-চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করেন, তাহলে দিব্যি গড়গড়িয়ে কথা বলা যায়। ইংরেজি যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা নয়, তাই এ কাজটি অবশ্যই কঠিন।

তবে এরকম অভ্যাস একবার আয়ত্ত করে ফেলতে পারলেই আর চিন্তা নেই!

মনে মনে ইংরেজিতে ভাবুন

ইংরেজিতে আমরা কীভাবে কথা বলি? যা বলতে চাই তা প্রথমে মনে মনে ভাবি, তারপর সেটা ইংরেজিতে অনুবাদ করে উচ্চারণ করি, তাই তো?

এই অভ্যাসটাই আপনাকে ভোগাবে। ইংরেজিতে সোজাসাপ্টা কথা চালিয়ে যেতে হলে অবশ্যই অনুবাদের অভ্যাস ছাড়তে হবে। ইংরেজিতে যেটা বলবেন, সেটা যদি বাংলা থেকে অনুবাদ করেই বলতে হয় তবে তার চেয়ে খারাপ আর কিছু হতে পারে না। বরং সরাসরিই ইংরেজিতে ভাবুন।

এর জন্য অবশ্য প্র্যাকটিসটাও খুব জরুরি। ইংরেজিতে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেকোনো একটা টপিক বেছে নিন, সে সম্পর্কে ইংরেজিতে ভাবতে থাকুন। এতে আপনার ইংরেজিতে কথা বলার সময় আটকে যাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

সঠিকভাবে কোন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণ করতে পারা ইংরেজিতে ভাল করার জন্য অত্যন্ত জরুরি। শিখে নাও উচ্চারণ!!

 কিছু ছোটখাটো ভুল

ব্যাকরণ নিয়ে বেশি ভাবা উচিত নয় ঠিকই, তবে তাই বলে আপনি হাস্যকর ভুল করবেন, তা নিশ্চয়ই কারো চোখ এড়াবে না! এমন কিছু ভুল আছে, যেগুলো বড্ড বেমানান। হয়তো নার্ভাসনেসের কারণে এরকম অনেক ভুল হয়ে যেতে পারে, যা অত্যন্ত তুচ্ছ হলেও ভীষণ দৃষ্টিকটু। কাজেই এ ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকা দরকার। এরকম ছোট ছোট কিছু ভুল এড়ানোর জন্য এই ছবিগুলো দেখে নেয়া যেতে পারে।

রুমে প্রবেশের সময়…

নিজের সম্পর্কে বলার সময়…

একাডেমিক পড়াশোনা সম্পর্কে বলার সময়,

বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পর্কে বলার সময়,

এছাড়া,

বডি ল্যাংগুয়েজ

ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার বডি ল্যাংগুয়েজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, মানবীয় যোগাযোগের শতকরা ষাট ভাগই হয়ে থাকে বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে। কাজেই বডি ল্যাংগুয়েজের উপর আপনাকে যথেষ্ট জোর দিতে হবে। নার্ভাসনেসের কারণে বডি ল্যাংগুয়েজ দৃষ্টিকটু হয়ে যায়, ফলে ইন্টারভিউতে আপনার ভালো করার সম্ভাবনাও কমে যায়।

 হাসুন

কথা বলার সময় অবশ্যই হাসি মুখে কথা বলুন। হাসি মুখে কথা বলার প্রবণতা ইন্টারভিউ বোর্ডে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে আপনার সম্পর্কে ভালো দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলবে। আপনার হাসিমুখ আপনার আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ। কাজেই হাসি মুখে কথা বলাটা বেশ জরুরি।

নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন

নিজের উপর বিশ্বাস রাখাটা খুব দরকার। ইন্টারভিউয়ের আগেই যদি আপনার টেনশনে মরে যাওয়ার অবস্থা হয়, তাহলে কখনোই আপনি ভালো করতে পারবেন না। আত্মবিশ্বাস থাকলে, দুর্ভাগ্যক্রমে আপনি সফল হতে না পারলেও ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে লেগে পড়তে পারবেন। আর তাতে কাজটা আরো সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যাবে। কাজেই কিছুতেই নিজের উপর বিশ্বাস হারানো যাবে না।

ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে বসে ফটাফট ইংরেজিতে কথা বলতে পারাটা জীবন বাঁচানোর মতোই ফরজ কাজ! তাই আপনাকে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই সামনে এগোতে হবে।

একটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনি আপনার কথাগুলো সহজ ভাষায় সাবলীলভাবে বলতে পারলেই কিন্তু একেবারে কেল্লা ফতে! কাজেই চাপ না নিয়ে বরং প্রস্তুতি নিন।

আর চাপ নেয়ার চেয়ে প্রস্তুতি নেয়া কিন্তু হাজার গুণ উত্তম!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author

Tazrian Alam Ayaz

মনে-প্রাণে এবং ঘ্রাণে একজন লেখক। কলমের শক্তিতে দেশটাকে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি।
পৃথিবীর অলি-গলি-তস্যগলি পর্যন্ত ঘুরে দেখার ইচ্ছে নিয়ে দিন কাটছে। ভালোই তো কাটছে!
Tazrian Alam Ayaz
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?