এবার বিজ্ঞান শিখবে বিজ্ঞান বাক্সের সাথে!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

ছোটবেলা থেকেই আমাদের মনে অনেক ইচ্ছা থাকে, বিজ্ঞানের নানা এক্সপেরিমেন্ট করার। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় এসব করার যে উপকরণ, সেগুলো খুঁজে পাওয়াই যায় না। আর আমাদের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী হবার আশাটা সেখানে কুঁড়িতেই বিনষ্ট হয়ে যায়, আমাদের আর বিজ্ঞানী হয়ে ওঠা হয় না।

নতুন প্রজন্ম যাতে এই হতাশার মধ্যে দিয়ে না যায়, এইজন্যেই বিজ্ঞান বাক্সের আবির্ভাব। বিজ্ঞান বাক্সকে বলা যায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যে সাক্ষাৎ জাদুর কাঠি! দারুণ কাজের এই বিজ্ঞান বাক্স নিয়েই এই লেখাটি।

শব্দ কল্প

কেন শব্দ কল্প বিজ্ঞানবাক্সটি তৈরি হয়েছে?

রূপকথা সেদিন নিজে নিজে কাগজের কাপ দিয়ে টেলিফোন বানিয়ে ফেললো। তারপর তার মাকে একটি কাপ কানে লাগাতে বলে অন্য কাপ সে মুখে নিয়ে কথা বলতে লাগলো। সেদিন কাগজ দিয়ে টেলিফোন আবিষ্কার করে কী পরিমাণ উত্তেজিত হয়েছিলো, তা শুধু রূপকথার মা জানেন। রূপকথা এখন ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। এই বয়সেও সে জানে কীভাবে কাগজের কাপ দিয়ে সুতার মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে শব্দ আসা যাওয়া করে।

আমাদের ভবিষ্যত বিজ্ঞানীরা যাতে ভাবতে পারে, ভাবতে ভাবতে প্র্যাকটিস করতে পারে, তৈরি করতে পারে নতুন কিছু, যা কাজে আসবে মানব সভ্যতার সেজন্যেই এই শব্দ কল্প। শব্দের জন্মকথা, শব্দের ফলে কম্পন কেনো হয় কিংবা শব্দের জোর কত? এসবই খেলার ছলে জানা যাবে শব্দ কল্প থেকে। শব্দকে আনন্দের সাথে জানতেই বিজ্ঞানবাক্সের শব্দ কল্প।

বিশেষ ছাড়ে এই বিজ্ঞানবাক্সটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

শব্দ কল্পের উপকরণ সমূহ

শব্দ কল্পে অনেক মজার মজার যন্ত্র আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিউজিক বক্স, বেলুন, অডিও জ্যাক, ক্রোকোডাইল ক্লিপ, এল ডি আর (LDR), হুইসেল, লেজার মডিউল, সাউন্ড মডিউল, মিউজিক্যাল মডিউল, ডটবার মডিউল, সাউন্ড জেনারেটর, রিং ম্যাগনেট, চিয়ারিং স্টিক, ছোট্ট আয়না, রাবার পাইপ,বাঁশি, স্লিংকি, স্টেথোস্কোপ হেডসহ আরো কিছু জিনিষ। এছাড়াও প্রয়োজন হতে পারে সিরিঞ্জ, প্লেট, চামচ, প্লাস্টিক পাইপ, হেডফোন বা ইয়ারফোন, চাল, টিস্যু রোল ইত্যাদি।

কী কী করা যায় এগুলো দিয়ে 

বেলুনের ভিতরে ত্রিভুজ- চতুর্ভুজ- পঞ্চভুজ বা এমন ধরণের ছোট বস্তুকে ঢুকিয়ে বেলুনের মজার চিৎকার বের করা, কাগজের কাপ ও ভেজা সুতা দিয়ে মুরগীর ডাক বের করা, মিউজিক বক্স দিয়ে চমৎকার শব্দ তৈরি করা, বক্সে দেয়া কাগজের কাপ দিয়ে টেলিফোন বানানো, সাউন্ড হোস দিয়ে মজার শব্দ তৈরি করা, বাঁশি ও স্লিংকি দিয়ে স্থির তরঙ্গ সম্পর্কে জানা, সাউন্ড জেনারেটর মডিউল দিয়ে কম্পাংক পরিবর্তনের ফলাফল বের করা, কাগজের কাপ, তারের কুণ্ডলী, ব্যাটারি ও মিউজিক্যাল মডিউল দিয়ে স্পিকার বানানো, ডট বার মডিউল দিয়ে শব্দের তীব্রতা মাপা সহ বিজ্ঞানবাক্সে আছে সর্বমোট ১৭ টি এক্সপেরিমেন্ট ও ৫০ টিরও বেশী এক্টিভিটি।

আলোর ঝলক

কেন  আলোর ঝলক বিজ্ঞানবাক্সটি তৈরি হয়েছে? 

আগে সোহমের গল্প শুনুন! ক্লাশ ওয়ানে পড়া সোহম এখনই আলোর প্রতিফলনের সূত্র ভালোভাবে বুঝে গেছে পেরিস্কোপের এক্সপেরিমেন্ট করে। তার ভাবনার জগৎটা কতখানি সমৃদ্ধ হলো ভেবে দেখেছেন?

শিশুদের ভাবনার জগৎটা রঙিন হওয়া দরকার। আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বিচ্ছুরণের মত কঠিন কঠিন তত্ত্বগুলো যে আসলে খুব মজার বিষয়, এ কথাটি যখন একটি শিশু জানতে পারবে তার নিশ্চয়ই আনন্দের সীমা থাকবে না! এই যে সোহম শিখে গেছে পেরিস্কোপের আয়নাগুলো ৪৫ ডিগ্রি কোণে মুখোমুখি বসালে যে দৃশ্যসীমার বাইরের বস্তু দেখা যায়, বড় হলে সে তো ফিজিক্স বইয়ের আলোর অধ্যায়টি হাসতে হাসতে শিখে যাবে।

নিউটনের বর্ণ চাকতির এক্সপেরিমেন্ট করে জেনে গেছে মৌলিক রঙ কাকে বলে, কীভাবে এক রঙের সাথে আরেক রঙ মিশিয়ে নতুন রঙ তৈরি করা যায়। বিজ্ঞান শিক্ষা তাঁর কাছে এখন সহজ আর আনন্দময়!

কী কী আছে আলোর ঝলকে? 

ছিদ্রযুক্ত কাগজ, মোমবাতি, কার্ডবোর্ড, পিনহোল ক্যামেরা বক্স, বাউন্সিং বল, আয়না, পেরিস্কোপ বক্স, ক্যালাইডোস্কোপ বক্স, ফ্ল্যাশ লাইট, স্ট্রোবোস্কোপ, মোটর, উত্তল লেন্স, ব্যাটারি এবং কেসিং, বর্ণ চাকতি এবং মজার চশমা। এছাড়াও সংগ্রহ করে নিতে হবে রঙিন কাপ, গ্লাস, বাটি, প্লাস্টিক বোতল, পেন্সিল ইত্যাদি।

কী কী করা যায় এগুলো দিয়ে? 

আলোর বিভিন্ন তত্ত্ব, যেমন প্রতিফলন, প্রতিসরণ ইত্যাদি সূত্র ব্যবহার করে মোট ২৫টি এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। যেমন, আগুন ছাড়াই কাগজ জ্বালানো, অদৃশ্য কয়েন আবিষ্কার করা, আয়না দিয়ে রংধনু তৈরি করা, পেরিস্কোপের সাহায্যে দৃষ্টিসীমার বাইরের দৃশ্য দেখা, ক্যালাইডোস্কোপের বর্ণিল জগতে ঢুকে পড়া, আলোকে বলের মত বাউন্স দেয়া, স্ট্রোবোস্কোপ দিয়ে দুনিয়া দেখা, লেজার লাইট দিয়ে তরল আলো তৈরি করা, জাল টাকা ধরা ইত্যাদি!

ক্যালাইডোস্কোপ, পেরিস্কোপ, স্ট্রোবোস্কোপ এসব অদ্ভুত জিনিস কোথায় পাবে? কোথায় আবার! আলোর ঝলকে! দেখে নাও আলোর ঝলকের উপকরণগুলি।

বিশেষ ছাড়ে এই বিজ্ঞানবাক্সটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

চুম্বকের চমক

কেন আমরা চুম্বকের চমক বিজ্ঞানবাক্সটি তৈরি করছি? 

ছোট্ট একটা গল্প শুনুন। আয়ান নামে আট বছর বয়সী ছোট্ট একটি ছেলে একদিন চুম্বকের চমক থেকে দুটি দন্ড চুম্বক নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, দুটো সমধর্মী চুম্বক তো পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, কী হবে যদি তাদেরকে সে সবসময় চেপে ধরে থাকে? এরই মাঝে চুম্বক ডোমেইন সম্পর্কেও তারা জানা হয়ে গেছে বেশ! এই যে বাচ্চা একটি ছেলের প্রশ্নের উদয় হচ্ছে, জানছে, এই প্রশ্নগুলো জাগাবার জন্যেই চুম্বকের চমক বিজ্ঞানবাক্সটি। চুম্বক এক অসাধারণ পদার্থ, এটা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে গেলে শিশুমনে নানারকম প্রশ্ন জাগবেই, শিখবেই, আর সময়টাও খুব ভালো কাটবে।

কী কী আছে চুম্বকের চমকে? 

দণ্ড চুম্বক, নিয়োডিমিয়াম চুম্বক, লোহার গুড়ো, কম্পাস, সুইচ, জেমস ক্লিপ, রিং ম্যাগনেট, খেলনা কুমির, খেলনা সুপারম্যান, পেন্সিল, মোটর, রিড সুইচ, সুতো, ফোম, ডিম্বাকৃতির চুম্বক ইত্যাদি!

কী কী করা যায় এগুলো দিয়ে?

নিয়োডিমিয়াম চুম্বক, ব্যাটারি এবং পেরেক ব্যবহার করে ম্যাজিক মোটর তৈরি, চুম্বকের চারপাশে লোহার গুড়ো ছড়িয়ে দিয়ে বলরেখা দৃশ্যায়ন, ডিম্বচুম্বক ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের সঙ্গীত তৈরি করা, বড় চুম্বক থেকে বাচ্চা চুম্বক তৈরির মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ের ডোমেইন তত্ব প্রয়োগ করা , হাতের স্পর্শ ছাড়াই কোন বস্তুকে সরানো, ম্যাগনেটিক নিক্তি তৈরি, অচুম্বক পদার্থের সাথে চুম্বকের সংস্পর্শে স্লো মোশন ম্যাজিক দেখা, কলিং বেল তৈরি, তারকে লাফাতে সাহায্য করা ইত্যাদি। মোট এক্সপেরিমেন্ট সংখ্যা-২৬টি।

চুম্বক জিনিসটা বড়ই অদ্ভুত! কেনই বা তারা একে অপরের কাছে আসে, আর কেনই বা দূরে সরে যায় এ বড় অদ্ভুত ব্যাপার! আর এই আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অচুম্বক পদার্থকে বানিয়ে ফেলা যায় চুম্বক, বানানো যায় কম্পাস্তৈরি করা যায় সুইচ! এমন মোট ২৬টি মাইন্ড ব্লোয়িং এক্সপেরিমেন্ট আছে চুম্বকের চমকে।

বিশেষ ছাড়ে এই বিজ্ঞানবাক্সটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

অদ্ভুত মাপজোখ

কেন আমরা অদ্ভুত মাপজোখ বিজ্ঞানবাক্সটি তৈরি করছি? 

জায়ানের স্বভাবটা হলো সবকিছু একটু পরখ করে দেখা, বিশেষ করে ইলেকট্রিকাল যন্ত্রপাতিগুলো। এটা ঠিক আছে তো? ওটা ভালোভাবে কাজ করছে তো? জায়ানদের জন্যেই অদ্ভুত মাপজোখ।

অদ্ভুত মাপজোখের মাধ্যমে একটু বড় ক্লাশে পড়া শিশুদের সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন ধরুন আপনি খেলা দেখতে বসলেন, কিন্তু রিমোট কাজ করছে না। সমস্যাটা কি রিমোট, না ব্যাটারির? দোকানে পাঠাতে হবে এখন? কোনো দরকার নেই! অদ্ভুত মাপজোখের উপকরণগুলো ব্যবহার করে আপনার ক্ষুদে বিজ্ঞানীটি বলে দিতে পারবে গড়বড়টা কোথায়! এই কিটের এক্সপেরিমেন্টগুলোতে বাড়তি কিছু সমস্যা দিয়ে রাখা হয়েছে, যেগুলো সে নিজেই মাথা খাটিয়ে বের করতে পারবে।

কী কী আছে অদ্ভুত মাপজোখে? 

অদ্ভুত মাপজোখে অনেক মজার একটি যন্ত্র আছে। আর তা হল মাল্টিমিটার। এটা দিয়ে কারেন্ট মাপা যায়, ভোল্টেজ মাপা যায়, রেজিস্ট্যান্স মাপা যায়। এছাড়াও থাকছে থার্মিস্টার, এল.ডি.আর, রেজিস্টার, সাধারন ডায়োড, জেনার ডায়োড, এল.ই.ডি, IR রিসিভার, ব্যাটারি, বাযার, ছোট ব্যাটারি, ব্যাটারি কেসিং, ওয়্যারলেস মডিউল, ক্যাপাসিটর, অডিও জ্যাক, মিউজিক্যাল মডিউল, ক্রোকোডাইল ক্লিপ, সাউন্ড সেন্সর। আরো প্রয়োজন হতে পারে মোমবাতি, টর্চ, গরম চায়ের কাপ, বরফ আর বাসার টিভি রিমোট।

কী কী করা যায় এগুলো দিয়ে? 

এখানে প্রথমেই জানা যাবে মাল্টিমিটার সম্পর্কে। ছোট্ট মিটারের যে কত কারিশমা তার ইয়ত্তা নেই! মিটার স্কেল এ কোনটা কি একক নির্দেশ করে সে ব্যাপারে থাকছে বিস্তর আলোচনা। মূল এক্টিভিটিগুলোতে থাকছে মিটার, ব্যাটারি এবং নানান রং এর LED লাইটের সাহায্যে পরিমাপ করা কোন রং এর লাইটে কতটুকু কারেন্ট প্রয়োজন, রোধের সাহায্যে দেখা যাবে কোন জিনিস বিদ্যুৎ পরিবাহী আর কোনটি নয়, LDR ব্যবহার করে মাপা যাবে আলোর তীব্রতা, ক্যাপাসিটরে চার্জ দেয়া এবং তা ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা দেখা, থার্মিস্টারের সাহায্যে পরিমাপ করা ঠান্ডা নাকি গরম। আরো মজার একটি জিনিস হল সাউন্ড সেন্সর মডিউল। এটা দিয়ে মাপা যাবে কে কত জোরে চিৎকার করতে পারে। আর রিমোটের অদৃশ্য রশ্মি খুঁজে বের করার কাজটাও ঠিকঠাক করে দিতে পারবে বিজ্ঞানবাক্সের IR রিসিভার।

শিশুর প্রাপ্তিঃ

বেশিরভাগ শিশুরা মাল্টিমিটারের নাম জানে ঠিকই কিন্তু এটি দেখতে কেমন? কেমন করে কাজ করে? কীভাবে বোঝা যায়? এর কোন কিছু সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকেনা। থাকবেই বা কী করে? এই নিয়ে তাদেরতো কেউ কৌতুহলী করে তোলেনি। কিন্তু অদ্ভুত মাপজোখের এক্টিভিটি পুরোটাই মিটার ঘিরে।

অদ্ভুত মাপজোখ বিজ্ঞানবাক্স বিজ্ঞানের কিছু চমৎকার বিষয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। যেমন IR রশ্মি। প্রতিদিন যে রিমোট দিয়ে কার্টুন চ্যানেল চেঞ্জ করছে সেই রিমোটেরই মূল রহস্য অদৃশ্য এই রশ্মি। আর সেই রশ্মিকে হাতের মুঠোয় এনে মাপা যাচ্ছে IR সেন্সর, ব্যাটারি আর মিটারের সাহায্যে। শিশুর মনে অনুসন্ধিৎসা মনোভাব গড়ে তুলতে পারে এই এক্টিভিটিগুলো।

বিজ্ঞানের সুন্দর কিছু উপাদানের সাথেও দেখা হবে এই অদ্ভুত মাপজোখে। ক্যাপাসিটর কেমন করে চার্জ ধরে রাখে আবার সেই চার্জ মিটারের সাথে যুক্ত করলে তা কিভাবে খরচ হতে থাকে, সাউন্ড সেন্সর মডিউল কেমন করে শব্দের তারতম্য বুঝতে পারে। শিশুর মনের অজানা বিজ্ঞান রহস্য উন্মোচন হবে এসব দেখে।

একেক রং এর LED লাইট জ্বলতে একেক পরিমান বিদ্যুৎ প্রয়োজন! এমন নানান অদ্ভুত তথ্য জানতে পারবে জানতে পারবে শিশুরা। এছাড়াও অদ্ভুত মাপজোকে থাকছে রোবেকুব আর অরণীকে নিয়ে মজার সব ধাধা। আর ধাধার সমাধান করতে গিয়ে শিশুরা নিজেদের আরো নতুন রূপে আবিষ্কার করবে।

লাল আলো, নীল আলো, সবুজ আলো শুধু রঙধনুতে বসে থাকবে কেনো? তাদের ইচ্ছে হলো কারেন্টের ওপর খবরদারী করতে। সেটা কেমন? অদ্ভুত মাপজোখের এই অদ্ভুত এক্সপেরিমেন্টটি করে দেখিয়েছে জায়ান।

বিশেষ ছাড়ে এই বিজ্ঞানবাক্সটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

রসায়ন রহস্য

কেন রসায়ন রহস্য বিজ্ঞানবাক্সটি তৈরি করা হয়েছে? 

সেদিন সারাহ নামের ক্লাশ সিক্সে পড়া এক মেয়ের লাভা ল্যাম্পের এক্সপেরিমেন্টের ছবি দেখলাম। ক্লাশ সিক্সে রসায়ন তেমনভাবে পড়ানোই হয় না, অথচ সে ঠিকঠিক জানে, কীভাবে এই অদ্ভুত সুন্দর বিক্রিয়াটি করা যায়!

রসায়ন নিয়ে সবার ভেতরেই একটা অন্যরকম কৌতূহল এবং ভীতি কাজ করে। কিন্তু বাচ্চাদের তো রসায়ন ল্যাবের ধারেকাছে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই! অথচ আমাদের চারপাশের খুব সাধারণ বস্তু দিয়েই যে কত অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করা যায়, তা রসায়ন ছাড়া আর কে পারবে এত ভালোভাবে বোঝাতে? ফুড কালার, সোয়াবিন তেল আর ক্যালবো সি ট্যাবলেট দিয়ে যখন লাভা ল্যাম্প তৈরি করে তার অসাধারণ সৌন্দর্য দেখবে, ভালো লাগবে না আপনার? কিংবা যখন দুধের মধ্যে রংধনু তৈরি করবে, বা আলু দিয়ে জ্বালাবে বাতি! রসায়নের এই অসাধারণ সৌন্দর্যের সাথে পরিচিত করে দেয়ার জন্যেই রসায়ন রহস্য।

রসায়ন রহস্যের উপকরণ সমূহ

রাবারের বল, ফুড কালার, ডিশ ক্লিনার, গ্লিসারিন, বিকার, ক্যালবো সি ট্যাবলেট, কপার সালফেট, মোমবাতি, প্লাস্টিক ড্রপার, বেকিং পাউডার আরো অনেক কিছু। তবে রসায়নের সব উপকরণ তো আর বক্সে দেয়া সম্ভব না, তাই সংগ্রহ করে নিতে হবে পানি, তেল, কোক, দুধ, কিসমিস, আলু; আরো কিছু জিনিস।

কী কী করা যায় এগুলো দিয়ে?

ফুঁ না দিয়েই বেলুন ফোলানো , কিশমিশকে নাচানো, দুধের মধ্যে রংধনু বানানো, লাভা ল্যাম্প তৈরি করা, , হারানো কয়েন উদ্ধার করা, তড়িৎ দিয়ে লবণ ভাঙা, কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস সনাক্ত করা এমন মোট ২০টি এক্সপেরিমেন্ট আছে রসায়ন রহস্যে।

অনেকের কাছে রসায়ন কঠিন, এবং বোরিং লাগে। কিন্তু রসায়ন যে কতটা মজার আর ম্যাজিকাল এটা বুঝতে লাগবে রসায়ন রহস্য বিজ্ঞানবাক্সটি। ২০টি এক্সপেরিমেন্টের প্রতিটিতেই আছে বিস্ময়ের উপাদান!

বিশেষ ছাড়ে এই বিজ্ঞানবাক্সটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

তড়িৎ তাণ্ডব

মিতিন যেদিন নিজে নিজে ছোট্ট একটা ফ্যান বানিয়ে তার মাকে বাতাস দিলো, তখন সে যে আনন্দটা পেয়েছিলো, তা হয়তো বা আলেকজান্ডার গ্রাহামবেলের টেলিফোন আবিষ্কারের মুহূর্তটার চেয়ে কম ছিলো না! কারণ মিতিনের বয়স মাত্র ৫!

আমাদের ভবিষ্যত বিজ্ঞানীরা এভাবেই নিজে থেকে কিছু তৈরি করুক, যা সবার কাজেও লাগবে! কচি কচি দুটো হাতে যখন মোটর, ব্যাটারি আর সুইচের কানেকশন দিয়ে ফ্যান তৈরি করে শরীরে হাওয়া দেবে, বাজার দিয়ে শব্দ সংকেত বানিয়ে শোনাবে, কেমন লাগবে বলুন তো? আপনাকে যখন গম্ভীর মুখে সিরিজ আর প্যারালাল কানেকশনের পার্থক্য বোঝাবে আপনার ছোট ভাই, মনটা আনন্দে ভরে উঠবে না? তড়িৎ এর এসব প্রাথমিক ধারণা ছোটবেলা থেকেই জানা থাকলে ভবিষ্যতে পথ চলাটা সহজ হবেই।

তড়িৎ তান্ডবের উপকরণ সমূহ

জেমস ক্লিপ, ক্রোকোডাইল ক্লিপ, পুশ পিন, এল ই ডি (LED), এল ডি আর (LDR), প্লাস্টিক উড, কপার দণ্ড, থার্মিস্টর, জেনার ডায়োড, ক্যাপাসিটর, রিং ম্যাগনেট, কার্ডবোর্ড, বেলুন ইত্যাদি।

কী কী করা যায় এগুলো দিয়ে?

ফল মূল অথবা শাকসবজি দিয়ে লাইট জ্বালানো, চুল দিয়ে বেলুন ঘষে ভেতরে স্থির তড়িৎ তৈরি করে তা দিয়ে পানির ধারাকে বাঁকানো, পরিবর্তনশীল রোধের সূত্র ব্যবহার করে লাইট দিয়ে লাইট জ্বালানো, সরল বর্তনীর সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে শব্দ সংকেত তৈরি, সিরিজ ও প্যারালাল কানেকশন বানাতে শেখা, ইত্যাদি। এমন মোট ২০টি এক্সপেরিমেন্ট রয়েছে।

বিশেষ ছাড়ে এই বিজ্ঞানবাক্সটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

বিশেষ ছাড়ে বিজ্ঞানবাক্সের সেট কিনতে চলে যান এই লিংকে!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী।

What are you thinking?