যেভাবে একটা অসাধারণ প্রেজেন্টেশন দিতে পারো তুমিও

প্রেজেন্টেশনেরই যুগ চলছে বলতে গেলে। পড়ালেখা বলো, কম্পিটিশন বলো, কিংবা চাকুরিক্ষেত্র। সবখানেই প্রেজেন্টেশনের জয়জয়কার। তাছাড়া নিজের বক্তব্য, চিন্তা এবং আইডিয়াগুলো অন্যদেরকে নিজের দৃষ্টিতেই দেখাতে চাইলে প্রেজেন্টেশনের কোন বিকল্পই নেই। নতুন এই দিনের সাথে চলতে গেলে তাই প্রেজেন্টেশনের স্কিলটা রপ্ত করা খুব দরকার। এই লেখাটায় সেটাই আসলে বলবো, যে একটা প্রেজেন্টেশন সাধারণ থেকে অসাধারণ করতে হলে ঠিক কী কী বিষয়ের উপর নজর রাখতে হয়!

১। শুরুটা হতে হবে ফাটাফাটি

প্রেজেন্টেশনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কোনটা জানো? প্রেজেন্টেশনের শুরু। তাও যে-সে শুরু না। প্রথমেই যে ত্রিশ সেকেন্ড, মোটামুটিভাবে ওই সময়টুকুই তোমার বিচারকদের আর দর্শকদের জন্য যথেষ্ট। প্রথম ত্রিশ সেকেন্ডেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে, যে তারা তোমার প্রেজেন্টেশন দেখবে নাকি দেখার ভান করে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকবে। এরকম একটা অবস্থায় বুঝতেই পারছো, শুরুর ত্রিশ সেকেন্ডের দাম কতোখানি!

শুরুতে কী করা যায় তাহলে? শুরুটা করতে পারো কোন একটা কোটেশন দিয়ে। হতে পারে, সেই কোটেশনটা সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি করা কোন ব্যক্তির, হতে পারে সেটি কোন মজাদার অচেনা উক্তি যেটা দর্শকদের বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি অবাকও করবে! আবার তুমি শুরু করতে পারো বিশাল কোন সংখ্যা দিয়ে। এমন সে সংখ্যা, দর্শক অবাক না হয়ে পারবেই না!

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

অথবা তুমি আরেকটা কাজ করতে পারো। গল্প বলে ফেলতে পারো শুরুতেই। না, ঠাকুরমার ঝুলির গল্প তোমায় বলতে হবে না। তুমি শুরুতেই বেশ ইন্টারেস্টিং একটা গল্প অল্প একটু বলে নিলেই কিন্তু দর্শক-বিচারক দুই-ই বেশ নড়েচড়ে বসবে, ভাববে যে এই প্রেজেন্টেশনটা ভালো করে দেখা যাক!

ঘুরে আসুন: যে গুণটি বদলে দেবে তোমার জীবন

২। প্রেজেন্টেশন মুখস্থ করে নয়, বুঝে পড়ে যাও

অনেককেই দেখেছি প্রেজেন্টেশন মুখস্থ করে নিয়ে যেতে। অনেকে আবার এককাঠি সরেস, তারা মুখস্থ করে সেটা আবার ছোট কাগজে লিখে নিয়ে আসে! তারপরে দেখা যায় প্রেজেন্টেশনের মাঝপথে সেই কাগজ ঘামে ভিজে একটা দলা টাইপ কিছু হয়ে আছে! এই দুই ধরণের কাজ না করে, তোমাদের উচিত প্রেজেন্টেশনটা বুঝে বুঝে তারপর দেয়া।

মুখস্থ করা প্রেজেন্টেশন শুনতেই কেমন অদ্ভুত আর রোবটিক লাগে, মনে হয় এটা কেমন হলো! এইজন্যে চেষ্টা করবে প্রেজেন্টেশন মুখস্থ না করে নিজের মতো করে বুঝে বুঝে বলতে। আর নিজের ভাষায় একটা জিনিস গুছিয়ে বুঝিয়ে বললে দর্শক এবং বিচারক সবার কাছেই একটি আলাদা স্থান পাবে তুমি!

৩। কথা বলার সময় আই কনট্যাক্ট রাখা

তুমি যদি দেয়ালের দিকে তাকিয়ে প্রেজেন্টেশন দাও, সেক্ষেত্রে সেটা দর্শকদের কতোটুকু আগ্রহ সৃষ্টি করবে তা বলা কঠিন, কারণ তুমি তো তাঁদের দিকে তাকাচ্ছোই না! বিচারকদের কথা বাদই দিলাম। একটা ভালো প্রেজেন্টেশনে তাই তোমার দর্শকদের সাথে আই কনট্যাক্ট রাখতেই হবে।

আমি জানি, বিষয়টা খুব সহজ নয়। এক ধরণের জড়তা আর লজ্জা কাজ করে এখানে। এইজন্যে প্রথমদিকে রুমের তিন কোনায় তিন বন্ধুকে রেখে দিতে পারো, তাদের দিকে তাকিয়ে অভ্যাস করতে পারো তুমি।

প্রেজেন্টেশনের ভয় আর নয়!

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা যায়!

পাওয়ারপয়েন্টের সহজ ব্যবহার শিখতে ঘুরে এসো স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্টটি থেকে!

শিখে ফেল পাওয়ারপয়েন্টের জাদু!

৪। উৎফুল্ল থাকো, হাসিমুখে থাকো

একটা জিনিস খেয়াল করে দেখবে, হাই কিন্তু বেশ সংক্রামক একটা জিনিস। স্টেশনে বসে তুমি হাই তুললে একটু পরে কীভাবে যেন পাশের ভদ্রলোকটিও হাই তুলে বসবেন। হাসিও এমন আরেকটা সংক্রামক জিনিস, আর তাই তুমি হাসিমুখে থাকলে হাসিমুখ হবে সবাই! একটু বেশি এনার্জি দেখাতে পারলে দর্শকরাও এনার্জি পাবে, সবাই উৎফুল্ল হয়ে তোমার প্রেজেন্টেশন দেখবে।

তাছাড়া, তুমি গোমড়ামুখো হয়ে থাকলে তোমার টেনশন, নার্ভাসনেস এবং জড়তা তোমার দর্শকদের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৫। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যেন ঠিকঠাক থাকে

যেকোন প্রেজেন্টেশনের শুরুতেই কিন্তু দর্শক তোমার স্লাইডস দেখে না। শুরুতে দর্শকরা দেখে তোমাকে। আর এইজন্যে তোমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের উপরে তাঁদের পছন্দ অপছন্দের অনেক কিছুই নির্ভর করবে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজের দুইটা অংশ আছে। একটা হচ্ছে Gesture আরেকটা হচ্ছে Posture। Gesture জিনিসটা হচ্ছে তুমি কীভাবে হাত পা নাড়িয়ে কথা বলছো, তোমার বাচনভঙ্গি এবং অন্যান্য। Posture হচ্ছে তুমি কীভাবে দাঁড়াচ্ছো, বাঁকা না সোজা হয়ে- এই ধরণের বিষয়গুলো।

ঘুরে আসুন: Google কীভাবে কাজ করে?

একটা ভালো প্রেজেন্টেশনে Gesture আর Posture দু’টোরই সমান দরকার আছে। ভাবো তো, তুমি কথা বলছো একদম অনড় হয়ে, দাঁড়িয়েছ একটু বাঁকা হয়ে, বিষয়টা দেখতে বিশ্রী লাগবে না?

৬। শেষটা হোক একটু আলাদা

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে! তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

বিশ্বের ৯৯ ভাগ প্রেজেন্টেশন শেষ হয় দুটো শব্দ দিয়ে। Thank আর You. তুমি এই গতানুগতিক ধারায় না গিয়ে একটা কাজ করে ফেলতে পারো। শেষটা করে ফেলতে পারো আরেকটা গল্প দিয়ে। গল্প না হোক, শেষটা যদি হয় একটা Food for Thought বা চিন্তার খোরাক দিয়ে, মন্দ হয় না কিন্তু!

চিন্তার খোরাক জিনিসটা হলো এমন কোন কথা বা এমন কোন ইঙ্গিত, যেটা দর্শক বাড়ির পথে রওনা দিতে দিতে ভাবতে পারে, চিন্তা করতে পারে যে এটা এমন হলে কেমন হতো! তোমার এই শেষ করাটা রেশ রেখে যাবে তাদের মনে।

একটা বিষয় সবসময় মাথায় রাখবে। প্রেজেন্টেশনের দর্শকরা কিন্তু কখনোই চান না যে তুমি না পারো, বারবার তোতলাও কিংবা পুরো প্রেজেন্টেশনটা একটা জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলো। দর্শকরা সবসময় এটাই চাইবেন, যেন তুমি প্রেজেন্টেশন ভালো করে দাও, তোমার থেকে যেন তারা কিছু শিখতে পারে। তাই দর্শকদের শুভকামনাকে সাথে রেখে তুমি প্রেজেন্ট করে ফেলো সেরা একটা প্রেজেন্টেশন!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?