জনপ্রিয়তা নয়, আত্মসম্মান বাড়াও

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

নিজের একটা ছবি, লেখা বা কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করলে তুমি। বন্ধুরা লাইক, শেয়ার, কমেন্ট করলো। ভালোই লাগে, তাই না?

যেকোন মাদকের মতোই সোশ্যাল মিডিয়া আস্তে আস্তে মজার ছলে নেশা ধরায়। একটা দুটো পোস্ট থেকে পোস্টের সংখ্যা বাড়তে থাকে, আর বাড়তে থাকে সময় দেয়াটা। একটা পর্যায়ে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় কাটানো ছাড়া জীবন চলতে চায় না। সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা এইজন্যেই খুব নেশার মতো হয়ে দাঁড়াতে পারে মাঝেমধ্যে।

কিন্তু এই নেশার চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের প্রতিনিয়ত লাইক-কমেন্ট-শেয়ার পাবার অভ্যাসটা। প্রতিনিয়ত মিথ্যা একটা ফিডব্যাকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি আমরা, ফলে এটা আমাদের জীবনে ফেলছে খারাপ প্রভাব।

 

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

লাইকের চেয়ে আত্মসম্মান বেশি জরুরি:

প্রতিনিয়ত লাইক-শেয়ার পাওয়াটা নিম্ন সেলফ-এস্টিমের পরিচায়ক। সেলফ এস্টিম বা আত্মসম্মান যখন কম থাকে, তখনই জীবনে মিথ্যা একটা সুখের প্রয়োজন হয়, আর সেটা আমরা খুঁজে নেবার চেষ্টা করি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। আমাদের ডিভাইসে কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকে আমাদের সব আকর্ষণ – আর আমরা আস্তে আস্তে নিজেদের আসল জীবনকে হারিয়ে ফেলতে শুরু করি।

সেলফ এস্টিম তৈরি করা খুব একটা সহজ কাজ নয়, কিন্তু নিজের প্রতি শ্রদ্ধা আর সম্মান গড়ে তুলতে পারলে আখেরে লাভ তোমারই হবে।

আত্মসম্মানের ওপর নির্ভর করবে তোমার সুখ:

নিজের সুখ আর শান্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিজেকে ভালবাসতে শেখা। নিজের আত্মসম্মানজ্ঞান কম হলে তুমি ইনফেরিয়র আর আশাহীনভাবে জীবন কাটাবে। অপরদিকে, প্রচুর আত্মসম্মানবোধ থাকলে তুমি হবে সচেতন, আত্মবিশ্বাসী – আর পৃথিবীও তোমাকে মূল্য দেবে।

“পৃথিবীতে সবাইই কিছু না কিছু পারে ভালোভাবে। তোমার নিজের মধ্যেও রয়েছে কোন না কোন গুণ।”

দমে গেলে চলবে না। ব্যর্থতা জীবনে আসবেই, তাই বলে তা নিজের আত্মসম্মানকে ছোট করে ফেলবে – এরকম হতে দিও না।

 
মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!

পারফেকশন খুঁজো না:

একদম নিখুঁত কেবল স্রষ্টাই হতে পারেন, মানুষের পক্ষে নিখুঁত হওয়া সম্ভব নয়। নিজের লক্ষ্য উঁচু থাকা ভালো, কিন্তু উঁচু স্ট্যান্ডার্ডের সাথে পারফেকশনকে মিলিয়ে ফেলো না। পারফেকশনের পেছনে দৌড়ালে জীবন তোমাকে বারবার হতাশ করবে। একই জিনিসের পেছনে দৌড়াতে থাকলে তুমি নতুন নতুন সুযোগকে হাতছাড়া করবে, আর নিজের কাজকে সঠিকভাবে শেষ করতেও ব্যর্থ হতে পারো।

নতুন চাকরি, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া – এরকম বিষয়গুলো চিন্তা করো। তুমি হয়তো নিজের জন্যে আদর্শ জায়গাটা হারিয়ে ফেলতে পারো, কারণ তোমার চেকলিস্টের সবগুলো বিষয় মিলছে না। কাঁটায় কাঁটায় মিলিয়ে ফেলবার চেয়ে নিজের জন্যে ভালো, নিজে কোথায় গিয়ে সুখী হবে, এগুলো ভেবো।

সমাজের সবার জন্য কাজ করো:

মানুষকে সাহায্য করলে নিজের আত্মসম্মান তো বাড়বেই, একই সাথে মনেও আসবে শান্তি। তুমি যে মানুষগুলোকে সাহায্য করছো, সে মানুষগুলোর কাছে তুমি হিরো হয়েই থাকবে। তাদের কাছ থেকে যে পজিটিভ ফিডব্যাকগুলো তুমি পাবে, সে ফিডব্যাকগুলো শত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের থেকেও বেশি সত্যিকার(Genuine)। তাই চেষ্টা করো কিছু সামাজিক কাজ, ভলান্টিয়ারিং ইত্যাদিতে অংশ নিতে।

নিজে যা ভালো করো, তার ওপরে মনোযোগ দাও:

পৃথিবীতে সবাইই কিছু না কিছু পারে ভালোভাবে। তোমার নিজের মধ্যেও রয়েছে কোন না কোন গুণ। সে গুণগুলোর ওপরে ফোকাস করো, আস্তে আস্তে নিজের ওপরে শ্রদ্ধা বাড়বে, সেলফ এস্টিমের উন্নতি হবে। নিজের পছন্দের কাজগুলোয় মনোযোগ দাও, সোশ্যাল মিডিয়ার ওপরে মনোযোগ কমে আসবে আপনা আপনি।

সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো দিক যেমন অনেক, তেমন অনেক খারাপ দিকও রয়েছে। এই খারাপ দিকগুলোকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারলে সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বোচ্চ ভালো ব্যবহারটা করা সম্ভব। সোশ্যাল মিডিয়াতে আসক্ত হয়ে যেও না, কারণ ভার্চুয়াল এই জগতের থেকে সত্যিকারের জগতটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?