৪টি শখ যা অসাধারণ কিছু অভ্যাস তৈরিতে সহায়তা করবে

শখ করে কোন কিছু করার মধ্যে যে আনন্দ তা আর অন্য কোন কিছুতে নেই। অনেকের অনেক ধরনের শখ থাকে। কারো বাগান করতে ভালো লাগে, কারো বই পড়তে ভালো লাগে আবার কারো ভালো লাগে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতে। কিন্তু আপনার শখ যদি আপনার অভ্যাসগুলোকে কিছুটা প্রভাবিত করে অসাধারণ কিছু অভ্যাস তৈরী করতে সহায়তা করে তাহলে কেমন হয়? এমনি চারটি শখের কথা নিয়ে আজকে আলোচনা করব, যেগুলো শুধু আপনাকে আনন্দই দিবে না পাশাপাশি অসাধারন কিছু অভ্যাস তৈরী করতেও সাহায্য করবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শখ কমান, বই বেশি পড়ুন

আমরা আমাদের অবসর সময়ের প্রায় পুরোটাই ইন্টারনেটে শুধু স্ক্রলিং করতেই ব্যয় করি। এতে শুধু আমাদের সময়েরই অপচয় হয়। আমরা না পারি নতুন কিছু জানতে বা নতুন কিছু শিখতে। কিন্তু আমরা এই সময়ে যদি একটি বইয়ের পেছনে ব্যয় করি তাহলে আমাদের জ্ঞানের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

 

এর মানে এই নয় আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে অবসর নিতে হবে। আপনি ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করুন কিন্তু সীমিত মাত্রায়। পাশাপাশি অবসর সময়ে নিজের সাথে কোন বই বা ম্যাগাজিন রাখুন। যে সময় নিউজ ফিড খুলে স্ক্রল করতেন সেই সময় একটি বই খুলুন এবং পড়তে শুরু করুন। দেখবেন ইন্টারনেট আসক্তি কমতে শুরু করেছে এবং বই পড়ার আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে

 

বেশি করে ব্যায়াম করুন, জিমকে বিদায় জানান

জিমে শারীরিক কসরতের জন্য প্রচুর মানসিক বলের প্রয়োজন হয়, যার ফলে আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের জিমের মেম্বারশিপ কার্ড অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। একটি লোকাল কমিউনিটিতে যোগ দিন। যেখানে আপনি সাইক্লিং, কিক বক্সিং, বুট ক্যাম্প, ইয়োগা এগুলোতে একসাথে করতে পারবেন, যাতে জিমের সমান পরিমাণ সময় ব্যয় হবে।

একই সাথে যা আপনার আত্মশক্তি ও মনোবল বাড়াবে। আরেকটি বড় সুবিধা হল এই সকল কমিউনিটি হতে আপনার একটি শখ অভ্যাসে পরিণত হবে। যেমন, সাইক্লিং, ইয়োগা ইত্যাদি।

জেনে নাও Google Analytics এর ব্যাপারে!

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ছলতে গেলে জানা লাগে অনেক কিছু। তাই এখান থেকে দেখে নিতে পারো Google Analytics এর খুঁটিনাটি।

 

স্বাস্থ্যকর খাবার খান, রান্না করা শিখুন

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখা প্রথম এবং প্রধান কাজ। যদি ভালো খাবার খেতে চান তাহলে সব সময় যে কোন রেস্টুরেন্টে যেতে হবে এর কোন মানে নেই। নিজের পছন্দের খাবার নিজে বানাতে শিখুন। পরিবারের অন্যদের রান্না করে খাওয়ান। কারণ আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য জন্য কোন খাবারগুলো সবচেয়ে ভালো বা স্বাস্থ্যকর তা আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না।

আপনি যদি একবার শিখে নিতে পারেন কিভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করতে হয় তাহলে মুদি দোকান থেকে আপনি সহজেই স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান বাছাই করে কিনতে পারবেন। যা আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি আপনার খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দিবে বহুগুণ।

 

সবশেষে আলস্য পরিহার করুন এবং প্রকৃতির মধ্যে সময় ব্যয় করুন

আমরা অনেকেই আলস্যের জন্য সকালে সূর্যোদয় দেখি না। আমাদের বেশিরভাগ খারাপ অভ্যাস গুলোর জন্য এই আলস্য বহু অংশে দায়ী। আমরা যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চাই, অনলাইনে সময় কম ব্যয় করতে চাই এবং ব্যায়াম করতে চাই তাহলে আমাদের এই আলস্য কাটিয়ে উঠতে হবে, একই সাথে প্রকৃতির কাছে আসতে হবে।

প্রকৃতির মধ্যে সময় ব্যয় করতে হবে। হাঁটার জন্য বা হাইকিং এর জন্য নিজের বাসার পাশের পার্কে অথবা খোলামেলা কোন জায়গায় যান। আশে পাশের পার্কে গিয়ে বেঞ্চে বসে কিছুটা সময় কাটান, প্রয়োজনে সেখানে বসে বই পড়ুন। সকালে মর্নিং ওয়ার্ক করতে যান। বাসার বাজার নিজে করার চেষ্টা করুন। যতটা পারবেন প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর চেষ্টা করুন। ছুটির দিনগুলোতে পরিবারকে নিয়ে গাছপালা ঘেরা বা কোন উদ্যান থেকে ঘুরে আসুন

 

আপনি যেই শখই পছন্দ করুন না কেন, চেষ্টা করুন সেই শখ এমন কোন কাজ বা activity ঘিরে তৈরি করতে যা আপনাকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাহলে তা শুধু আপনাকে প্রাকৃতিক পরিবেশকে অনুভব করতেই সাহায্য করবে না, পাশাপাশি আপনাকে Self-Motivated হতেও সহায়তা করবে।

লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।


 

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?