পাঠকপ্রিয় সেরা পাঁচ (বাংলাদেশী উপন্যাস)

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

বিভিন্ন সময়ে বই পড়ার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে তোমাদের জানাতে চেষ্টা করেছি আমরা। অনেকে হয়ত বই পড়ার অভ্যেসটা গড়েও তুলেছ। বই পড়তে গেলে আমাদের সবার মাথায় প্রথমেই যে চিন্তাটি আসে, সেটি হল- “কোন বইটি পড়বো?” এই প্রশ্ন এলেই আমরা পাঠকপ্রিয় বইগুলোর খোঁজ করি। আজকের লেখাটিতে তাই তোমাদের জন্য থাকছে বাংলাদেশে প্রকাশিত শীর্ষ পাঁচটি পাঠকপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।

দেয়ালহুমায়ূন আহমেদ

“দেয়াল” বইটি একটি ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস। বইটিতে দুটি আখ্যান সমান্তরালে চলেছে। প্রথমটি অবন্তি নামে এক চপলমতি মেয়ের কাহিনী। অবন্তি ঢাকায় বাস করে পিতামহ সরফরাজ খানের সঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরাপত্তার খোঁজে আশ্রয় নেন এক পীরের বাড়িতে। এক পাকিস্তানি সেনা-কর্মকর্তা অবন্তিকে দেখে ফেলে বিয়ে করতে চায়। বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে পীর নিজের ছেলের সঙ্গে অবন্তির বিয়ে দেন। এ নিয়ে বেশ কিছু জটিলতারও সৃষ্টি হয়।

সরফরাজ খানের পুত্রের বন্ধুদের একজন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। এ-বাড়িতে তাঁর আসা-যাওয়া আছে। তাঁর সূত্রে কর্নেল তাহেরও এখানে এসেছেন। এভাবেই প্রথম আখ্যানের সঙ্গে দ্বিতীয় আখ্যানের যোগ সাধিত হয়।

দ্বিতীয় আখ্যানটি সূচিত হয় মেজর ফারুকের বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে। এই পরিকল্পনায় ফারুক ও মেজর রশীদ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও ওসমানীকে জড়িত করে। পরিকল্পনায় ফারুক ও মেজর রশীদ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ও খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান, কারাগারে চার নেতা হত্যা, কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, জিয়াউর রহমানের মুক্তিলাভ ও ক্ষমতাগ্রহণ, খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল হুদার হত্যা এবং তাহেরের ফাঁসিতে উপাখ্যানের সমাপ্তি। উপন্যাসের সমাপ্তি হয়েছে জিয়ার হত্যাকাণ্ডে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় হতে মেজর জিয়ার হত্যাকাণ্ডের মধ্যবর্তী সময়টা অনেক ধোঁয়াটে হওয়ায়, এই বইটি আশা করি তোমাদের সবারই ভাল লাগবে, যেমনটি লেগেছে বইটির অন্যান্য পাঠকের।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

জোছনা জননীর গল্পহুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক যতগুলো কাজ করেছেন, এমনকি মানবজীবনের বাস্তবতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে যতভাবে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, তার সবগুলিকে ছাড়িয়ে গেছে এই বইটি।

অনেকগুলো দিক থেকে কাহিনী এগোয় এখানে। পরে সবগুলোর পরিণতি আসে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট থেকে।

লেখকের নিজের জীবনের ঘটনাকে তিনি যেমন তাঁর বাবার প্রেক্ষাপট থেকে এনেছেন , তেমনি অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধকালীন আত্মত্যাগের কথাও এসেছে।

প্রিয়জন হারিয়ে খুঁজে বেড়ানো , দেশান্তরিত হওয়া , দেশপ্রেম-এই বিষয়গুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বইটিতে । বইটিতে চরিত্র হিসেবে এসেছেন আমাদের অনেক প্রিয় মুখ মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখ । এছাড়াও নিন্দিত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যও আছে। রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা , আছে রাজাকারদের বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী ।

একটার পর একটা দৃশ্যপট তৈরি হতে থাকবে তোমার চোখের সামনে, আর তুমি মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে অনুভব করতে পারবে আরো আন্তরিকভাবে।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

মানবজনমসাদাত হোসাইন

এই গল্পটি সবার। একজন বৃদ্ধের, একজন বৃদ্ধার, একজন তরুণ আর এক তরুণীর, এক কিশোরীর কিংবা এক সন্তানের, এক বোনের বা এক ভাইয়ের। একজন মায়ের, একজন পিতার। জীবনের উত্থান-পতনের নানা দিক এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে। কখন যে কার জীবন কোন দিকে মোড় নেয়, ক্ষমতা অদলবদল হয়, কোন নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি হতে হয়, তা ধারণা করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। আর এই অসম্ভবের নামই হয়তো মানবজনম!

বইটির কিছু লাইন তোমাদের জন্যে তুলে দিলাম, পড়লেই বুঝতে পারবে কোন দর্শনগুলোর জন্য এত আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছে বইটি-

“ আচ্ছা এই মানবজনম যদি সত্যি সত্যিই স্বপ্ন হয়, তখন কি এই মানবজন্মের এই এত এত মানুষ, এত এত সম্পর্ক, অনুভূতি, এদের জন্য তার খারাপ লাগবে? নিশ্চয়ই লাগবে। স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলেও তো তার রেশ থেকে যায়। মৃত্যু কি তবে এই মানবজন্মের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে অন্য কোনো জন্মে জেগে ওঠা?”

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

ক্রাচের কর্নেলশাহাদুজ্জামান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিতর্কিত কিন্তু স্বাপ্নিক এবং অস্পষ্ট কিন্তু বর্ণাঢ্য এক নাম কর্নেল তাহের।

শাহাদুজ্জামান ‘ক্রাচের কর্নেল’ বইয়ের কেবল লেখকই নন বরং তিনি যেন বাংলাদেশের রাজনীতির একজন কৌতূহলী পর্যবেক্ষকও। রাজনৈতিক চাদরে ঢেকে রাখা একটি চরিত্রকে লেখক পাঠকের দ্বারে টেনে তুলে এনেছেন অসীম সাহসিকতায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসকে পতিত করে অবিরাম জন্ম দেয়া হয়েছে ধোঁয়াটে গল্পের। লেখক প্রায় সম্পূর্ণ ভাবে নির্মোহ থেকে তুলে ধরেছেন সিনেম্যাটিক অভিযানের মধ্য দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালিয়ে যোগদান করা মুক্তিযোদ্ধা, দুর্ধর্ষ কামালপুর অপারেশনে পা হারানো কমান্ডার, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ক্রাচে ভর দেয়া এক স্বপ্নবান নাগরিক, বিরল আর আপাত ব্যর্থ এক সেনা অভ্যুত্থানের নায়ক এবং সর্বোপরি ক্ষুদিরামের পথের অভিযাত্রী কর্নেল তাহের ও সেই  ঘোরলাগা সময়ের কুশীলবদের।

তথ্য-উপাত্তের বিচারে এই বইটি একটি নির্ভরযোগ্য বই। বইটি পড়লে তোমার সময়টা বৃথা যাবেনা, এতটুকু বলতে পারি।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

মধ্যাহ্নহুমায়ূন আহমেদ

১৯০৫ সালের পটভূমিতে লেখা এই বইটিতে অনেকগুলো চরিত্র, চক্রাকারে একে অন্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, যেভাবে আমরা ঘুরি রোজ। মজার ব্যাপার হল, বইটিতে ইতিহাসের অনেক ঘটনা থাকলেও এটি ইতিহাস নয়। হরিচরণ, লাবুস নামের চরিত্র দু’টি কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর দু’জন, কিন্তু সক্ষম হয়েও এরা নিরুত্তাপ, বিশেষত লাবুস।

আবার ধনু শেখ, শশাংক পাল, মাওলানা ইদরিস, জুলেখা, অম্বিকা, শরীফা আর নানা চরিত্রের ভীড় এই বইয়ে। লেখক উপন্যাসে আইনস্টাইন, ম্যাক্সিম গোর্কি, লেনিন, বঙ্গভঙ্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে আন্দোলন- কোন কিছুই বাদ দেন নি। এমনকি শেরে বাংলা, মাদাম কুরি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও বিরাজমান, এত ইতিহাস সমান্তরালে জোড়ার কঠিন কাজটিই খুব সহজ ভাষায় করে দেখিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।

সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বাধিক বিক্রিত বাংলা উপন্যাসের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা এই বইগুলো সম্পর্কে তো জানলে। তাহলে আর দেরি কেন? এখনই শুরু করে দাও পড়া! আর বইগুলো পড়ে তোমার অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করে নিতে ভুলো না যেন!

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

৫টি বই একইসাথে এক লিস্ট থেকে কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংকটি থেকে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

What are you thinking?