পাঠকপ্রিয় সেরা পাঁচ (অনুবাদ)

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

বই পড়তে গিয়ে সঠিক বইটি বেছে নিতে কিছুটা সমস্যায় ভুগতে হয় যাদের, তাদের জন্যই আমরা বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সর্বাধিক পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া বইগুলো সম্পর্কে জানাতে চেষ্টা করছি। তারই ধারাবাহিকতায় তোমাদের জন্য আজ থাকছে সেরা পাঁচ অনুবাদ জাতীয় বইয়ের খোঁজ:

উইংস অব ফায়ার

গত কয়েক শতাব্দিতে পৃথিবীর বুক আলোকিত করে যে কয়জন মহান ব্যক্তি জন্ম নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন এ পি জে আবদুল কালাম। ‘উইংস অব ফায়ার’ ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও পৃথিবীর একজন বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আবুল কালাম-এর আত্মজীবনী।

একটি অল্প শিক্ষিত পরিবার থেকে উঠে এসে প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা হতে শুরু করে পরবর্তী সময়ে অসামান্য অবদানের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার “ভারতরত্ন” অর্জন করার পথের পুরোটাই উঠে এসেছে এই বইতে। বলেছেন তাঁর তৈরি অগ্নি, পৃথ্বী, আবাশ, ত্রিশুল ও নাগ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নেপথ্য-কাহিনী।

প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যখন উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন, তখন যতজন লোক নিয়েছিলো বিমানবাহিনী, ঠিক তার পরের পজিশনেই ছিলেন এ পি জে আবুল কালাম। ব্যর্থতাকে খুব কাছ থেকে বারবার দেখা এই মানুষটির দর্শন, জীবন-চেতনা ও হার না মানা মনোভাবের খোঁজ পেতে চাইলে এই বইটি অবশ্যই পড়তে হবে তোমাকে। কেননা, তিনিই বলেছিলেন,

স্বপ্ন তা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন তাই যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

দ্য ভিঞ্চি কোড

দু’হাজার বছরের পুরোনো সত্যকে চিরতরে নির্মূল করার জন্যে একই দিনে চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। সত্যটি জানাজানি হয়ে গেলে হাজার বছরের ইতিহাস লিখতে হবে নতুন করে। সত্যটি লালন করে আসছে একটি গুপ্ত সংঘ-সেই গুপ্ত সংঘের সদস্য ছিলেন আইজ্যাক নিউটন, ভিক্টর হুগো, বত্তিচেল্লি আর লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মতো ব্যক্তি।

ওদিকে উগ্র ক্যাথলিক সংগঠন ওপাস দাই সেই সত্যকে চিরতরে নির্মূল করার আগেই গুপ্তসংঘের গ্র্যান্ডমাস্টার তার ঘনিষ্ঠ একজনের কাছে হস্তান্তর করে দেয় আর ঘটনাচক্রে এরকম একটি মারাত্মক মিশনে জড়িয়ে পড়ে হার্ভাডের সিম্বোলজিস্ট এক প্রফেসর।

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা, তথ্যবহুল লেখনি আর একের পর এক ঘটে যাওয়া রোমাঞ্চকর ঘটনার এক পরিপূর্ণ প্যাকেজ এই বইটি বিশ্বজুড়েই বেস্টসেলার। থ্রিলার ঘরানার বই ভাল লাগলে ড্যান ব্রাউনের এই বইটি নিশ্চয়ই তোমার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

দ্য ফাইভ ডিসফাংশনস অব এ টিম : এ লিডারশীপ ফ্যাবল

আমরা সচরাচর যা ভাবি বা করি তা সাময়িক ভাবে সুফল বয়ে আনলেও, সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনাকে ব্যহত করতে পারে। যদি টিমওয়ার্ক ঠিকমতো না হয়, অনেক ভালো পরিকল্পনাও ব্যর্থ হতে পারে। এই বইটিতে বলা হয়েছে টিমওয়ার্ক কী এবং কীভাবে টিমওয়ার্ক এর মাধ্যমে ব্যবসাকে এগিয়ে নেয়া যায়।

প্যাট্রিক লিঞ্চিওনির লেখা এই বইটি কেবল ব্যবসাক্ষেত্রেই নয়, কাজে লাগে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেও। একটি টিমকে নেতৃত্ব দিয়ে কোন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য়ে কাজ করতে হয়, এমন যেকোন মানুষের জন্যেই এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই।

তুমিও যদি চাও লীডারশিপের ওপর তোমার দক্ষতা বাড়াতে কিংবা নেতৃত্বের খুঁটিনাটিগুলো শিখে নিতে, তাহলে নিশ্চিন্তেই বেছে নিতে পারো এই বইটি! বইটির অনুবাদক ফারজানা মোবিনের লেখার হাতও খুব চমৎকার। ছন্দে ছন্দে লেখাটিকে করে তুলেছেন সুখপাঠ্য এবং একেঘেয়েমি মুক্ত।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

দ্য ফাইভ টেম্পটেশনস অব এ সিইও : এ লিডারশিপ ফ্যাবল

একজন পাঠক হিসেবে সবার আগে আমি চিন্তা করি, বইটা হাতে নিলে বা দূর থেকে দেখলেই পড়ার আগ্রহ তৈরি হয় কিনা। হ্যাঁ, “দ্য ফাইভ টেম্পটেশনস অব এ সিইও : এ লিডারশিপ ফ্যাবল” – প্যাট্রিক লিঞ্চিওনির লেখা মূল বইটির অনুবাদ মোঃ মারুফ হাসান মনবীরের বইটি হাতে নিয়ে দেখলেই মনে হয়, ভেতরে কী আছে একটু পড়ে দেখি।

সবাই ভালো লিডার, সিইও, ম্যানেজার, সুপারভাইজর বা বস হতে পারেন না। এর মূল কারণ হলো, তাঁরা এক বা একাধিক টেম্পটেশনের মধ্যে ডুবে আছেন। মজার ব্যাপার হলো, তিনি মনের অজান্তেই ঐ টেম্পটেশনগুলোর মধ্যে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যান। সচেতন বা অচেতন অবস্থায় ঐ টেম্পটেশনগুলো ক্রমাগত একজন লিডারের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে।

এই টেম্পটেশনগুলো সম্পর্কে জানতে ও এদের হাত থেকে বাঁচতে চাইলে এই বইটি হতে পারে দারুণ একটি সমাধান। তুমি যদি হতে চাও একজন উদ্যোক্তা কিংবা একজন সফল লিডার, তাহলে তোমাকে এই বইটি সাজেস্ট করতেই পারি আমি!

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

শেখ মুজিব আমার পিতা

স্বাধীনতা মহাকাব্যের মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অনেকেই গ্রন্থ রচনা করেছেন। কিন্তু ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থে পাঠক বঙ্গবন্ধুর জীবনী এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের এমন অনেক অজানা তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে-যা আগে কোথাও পাওয়া যায়নি।

গ্রন্থটি মূলত শেখ হাসিনা লিখিত স্মৃতিকথামূলক আত্মজৈবনিক রচনা। যাতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের অনেক অজানা তথ্য। বইটি চারটি মূল অধ্যায়ে বিভক্ত হলেও এর ভেতর প্রতি অধ্যায়ে তিনটি করে অনুচ্ছেদ আছে। প্রথম দুই অধ্যায়ে পারিবারিক স্মৃতি থাকলেও তৃতীয় অধ্যায়ে লেখিকা ড.আবদুল মতিন চৌধুরী, বেগম জাহানারা ইমাম এবং নূর হোসেনকে নিয়ে স্মরণ-শ্রদ্ধার্ঘ্য দিয়েছেন।

সর্বোপরি, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই বইটির চেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র তুমি আর পাবে না- একথা হলফ করেই বলা যায়।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

তো, আজ জানতে পারলে বাংলাদেশে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পাওয়া পাঁচটি অনুবাদ বইয়ের সম্পর্কে। বইগুলো পড়ে কেমন লাগলো তা কিন্তু জানাতে ভুলো না! এর পাশাপাশি তোমরা যদি অন্য ক্যাটাগরির বই সম্পর্কে জানতে চাও, সেটাও জানাতে দ্বিধা করো না একেবারেই!

Happy Reading!

৫টি বই একইসাথে এক লিস্ট থেকে কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংকটি থেকে!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে লুবাবা জারিন অহনা

What are you thinking?