পাঠকপ্রিয় সেরা পাঁচ (পশ্চিমবঙ্গের বই)

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

ফেলুদার বুদ্ধির গল্প পড়ে কিংবা নন্টে ফন্টের কীর্তিকলাপের কার্টুন দেখে দেখে আমাদের বড় হয়ে ওঠা! দারুণ মজার এইসব বই কিন্তু লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের নামকরা এবং প্রতিভাবান সব লেখকেরা। দেশের সীমানার খাতিরে আলাদা হলেও, এপার বাংলা আর ওপার বাংলার মধ্যে যে আত্মার যোগাযোগ তার মূল কারণ বাংলা ভাষা। আর এই ভাষা সীমানা পেরোয় দুই দেশের লেখকদের লেখা বইগুলোর পাতায় চড়ে। পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের কদর যে এই দেশে মোটেও কম নয়, তা বোঝা যায় এদেশে পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত বইয়ের বিপুল পাঠকপ্রিয়তা দেখে। আজ তোমাদের জন্য থাকছে সেরকমই পাঁচটি জনপ্রিয় বইয়ের খোঁজখবর, সেগুলো প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে:

 ফেলুদা সমগ্র(১ ও ২)- সত্যজিৎ রায়:

শুরুতেই তো বলেছি, আমাদের ছেলেবেলা কেটেছে ফেলুদার গোয়েন্দা গল্প পড়ে। ইংরেজি ভাষার বহু বই বাংলায় অনুবাদ হয়ে থাকে, আর এই ব্যাপারটা আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। কিন্তু তুমি কি জানতে, হাতে গোনা যে কয়টি বাংলা বই ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ হয়েছিল তার মধ্যে ফেলুদা একটি? এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছো, এই বইটির জনপ্রিয়তা শুধু দুই বাংলার বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যেই নয়, প্রসার পেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও!

ফেলুদা বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত চরিত্র।লেখক ও নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের চমৎকার সৃষ্টি ফেলুদা পেশায় প্রাইভেট গোয়েন্দা। চোখে তার অন্তর্ভেদী দৃষ্টি, মুখে ঝুলছে একটা চারমিনার। মানুষকে এক নজর দেখেই বলে দিতে পারেন অনেক কিছু। ফেলুদার সঙ্গে প্রায়ই সঙ্গী হিসেবে থাকেন তাপস এবং রহস্যগল্প লেখক জটায়ু।

ভ্রমণপ্রিয় ফেলুদার বেড়ানো বিভিন্ন জায়গার বর্ণনা, গল্পের মাঝে রহস্যের মারপ্যাঁচ, সাবলীল ভাষা ফেলুদাকে এখনো কিশোরদের কাছে জনপ্রিয় করে রেখেছে। সেই সাথে উপরি পাওনা হিসেবে সত্যজিৎ রায়ের আঁকা ছবিগুলো তো আছেই!

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

ব্যোমকেশ সমগ্র- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়:

শার্লক হোমসের প্রখর অনুমান এবং ধারালো চিন্তাশক্তির কারণে অনেকেরই ধারণা জন্মে গিয়েছিল যে, ভেতো বাঙালির পক্ষে আর যাই হোক গোয়েন্দাগিরি সম্ভব নয়। সেই ধারণাকে সত্যজিৎ রায় ফেলুদাকে দিয়ে ভেঙে দিলেও ফেলুদা ছিলেন স্টাইলিশ ব্যক্তিত্ব। চারমিনার খেতেন। সেই তুলনায় শরদিন্দুর ব্যোমকেশ একেবারে সাধারণ বাঙালির মধ্য থেকে উঠে আসা নাম।

ধুতি পাঞ্জাবি পরা সাধারণ একজন মানুষ ব্যোমকেশ, একের পর এক জটিল কেস সমাধান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। যৌক্তিক অনুমানও যে সত্যের সন্ধান দিতে পারে, তা ব্যোমকেশ বক্সীর মাধ্যমে দেখিয়েছেন শরদিন্দু । সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ, যার কাজ হচ্ছে যে কোন রহস্যের সত্য অন্বেষণ করা। শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় এই চরিত্রকে কেন্দ্র করেই বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা গল্পের জগৎকে দিয়েছিলেন পূর্ণতা।

তাই দেরি না করে পড়ে ফেলতে পারো তুমুল জনপ্রিয় এই বইটি! নিঃসন্দেহে, তোমার সময়টা বেশ ভালই কাটবে এই সত্যান্বেষী গোয়েন্দার সাথে।

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

কিরীটী অম্‌নিবাস- নীহাররঞ্জন গুপ্ত:

কিরীটী রায় ভারতীয় বাংলা ঔপন্যাসিক নীহাররঞ্জন গুপ্ত সৃষ্ট একটি বিখ্যাত গোয়েন্দা-চরিত্র। কালো ভ্রমর উপন্যাসের মধ্য দিয়ে এ গোয়েন্দা চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে। তার সহকারী সুব্রত, যিনি অধিকাংশ কাহিনীতে তার সাথে থাকেন। কিরীটী রহস্যভেদী হিসেবেই নিজের পরিচয় দিয়ে থাকেন।

যুক্তরাজ্যে থাকার সময় নীহাররঞ্জন গুপ্তের বিখ্যাত রহস্যলেখক আগাথা ক্রিস্টির সাথে পরিচয় হয়। দেশে ফিরে এসে তিনি কিরীটী চরিত্র নির্মাণ করেন। তার ছোটবেলায় প্রত্যক্ষ করা একটি আত্মহত্যা তাকে কিরীটীর মত একটি গোয়েন্দা চরিত্র নির্মাণ করতে অনুপ্রেরণা দেয়।

গোয়েন্দা বলতে আমাদের চোখে যে মানুষটি ফুটে ওঠে কিরীটী রায় তেমনই একজন মানুষ। উচ্চতা ছয় ফুট, গায়ের রং ফরসা। চুল ব্যাকব্রাশ করা, কোঁকড়ানো। পুরু লেন্সের কালো সেলুলয়েড চশমা পড়েন তিনি। দাঁড়িগোফ নিখুঁতভাবে কামানো। দুর্ধর্ষ এই গোয়েন্দা যে কত জনপ্রিয়, তা এই বইয়ের পাঠকপ্রিয়তা দেখেই অনুমান করা যায়। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না রেখেই তাই পড়ে ফেলতে পারো এই বইটি!

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

টেনিদা সমগ্র- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়:

এই সিরিজের লেখাগুলো মূলত কিশোরদের জন্যে হলেও এই গল্পগুলো পড়ে ছেলে-বুড়ো সবাই আনন্দ পান। টেনিদা চরিত্রটি এমনই অনন্য যে তাকে আর কারো সাথেই তুলনা করা যায় না। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সব লেখাই হাস্যরসে ভরপুর। কিন্তু এর মধ্যেও টেনিদাকে নিয়ে লেখা উপন্যাস বা গল্পগুলোতে হাস্য-কৌতুকের মাত্রাটা আসলেই কূল-ছাপানো।

টেনিদা এক আজব চরিত্র। বার বার পরীক্ষায় ফেল করার পরও তার সেটা নিয়ে কোন আফসোস নেই। বরং সে গর্ব করে বলে, পাশ তো সবাই করে যায় কিন্তু ফেল কয়জন করতে পারে? পড়াশোনায়  ভালো না হলেও ভীষণ পরোপকারী এবং ভোজনরসিক হিসেবে টেনিদার সুনাম রয়েছে।

বাংলা ভাষায় বহু গল্পের বই রচিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু বাংলাসাহিত্যে “টেনিদা” নামটা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অসাধারণ সৃষ্টি এই টেনিদা। টেনিদার গল্পগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এই যে, এখানে কোনো কষ্ট নেই, পুরোটাই নিখাদ আনন্দে ভরা। মন খারাপের দিনে একটু হাস্যরসের আয়োজন করতে তাই নিশ্চিন্তে হাতে তুলে নিতে পারো এই বইটি!

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

বাঁটুল সমগ্র- নারায়ণ দেবনাথ:

আমাদের অনেকেরই ছেলেবেলা কেটেছে কমিকস পড়ে। মার্ভেল ডিসি কমিকের ভক্ত প্রচুর থাকলেও একেবারে শৈশবে আমরা অনেকেই পড়েছি চাচা চৌধুরী, নন্টে-ফণ্টে আর বাঁটুলের মত কমিকস। বাঁটুল দি গ্রেট বাংলায় কমিকসগুলোর মধ্যে একটি অদম্য সৃষ্টি। এর রচয়িতা নারায়ণ দেবনাথ। বলাই বাহুল্য, তিনি নন্টে ফন্টেরও রচয়িতা।নারায়ন দেবনাথ- এই নামটির সাথে ছেলেবেলা জড়িয়ে আছে।

বাঁটুল একজন দৈত্যাকৃতি মানব, যে কিনা আবার মনের দিক দিয়ে খুবই নরম। তার গায়ে প্রচুর শক্তি, ফলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেও কিছু হয় না, বোমা মারলেও তার চামড়া ভেদ করা সম্ভব না। অন্যকে সর্বদাই সহযোগিতা করতে ভালোবাসে বাঁটুল। তবে তাকে ফাঁসাতে বাট্টু আর বিচ্ছু সারাক্ষণই পিছে লেগে থাকে। আবার অনেকেই বাঁটুলের সাথে শত্রুতা করে ধরাও খায়।

নারায়ণ দেবনাথের প্রথম রঙীন কমিক স্ট্রিপ ছিল বাঁটুল দি গ্রেট। নারায়ণবাবুর কথায়, কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে ফেরার পথে তিনি বাঁটুলের কল্পনা করেন ও তক্ষুণি তার প্রতিকৃতি(figure) এঁকে ফেলেন। একজন কমিকস ভক্তের সংগ্রহে অবশ্যই থাকার মত একটি বই “বাঁটুলসমগ্র”। একেবারে বিনা চেষ্টায় তোমাকে শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এই বইটি!

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যাও এই লিংকে!

পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের সম্পর্কে আগ্রহ আমাদের অনেকেরই। কিন্তু পর্যাপ্ত খোঁজখবরের অভাবে অনেকেই সঠিক বইটি বাছাই করতে পারে না। তাই তোমাদের জন্য আমাদের এই ছোট্ট চেষ্টা। বইগুলো পড়ে কেমন লাগলো, সেকথা আমাদের জানাতে ভুলো না কি

৫টি বই একইসাথে এক লিস্ট থেকে কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংকটি থেকে!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী।

What are you thinking?